Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ সোমবার, এপ্রিল ২০২৪ | ৮ বৈশাখ ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

কেঁপে উঠলো সিলেট: বড় ভূমিকম্প আতঙ্কে বাংলাদেশ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:০৭ PM
আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:০৭ PM

bdmorning Image Preview


ভূমিকম্পের ডেঞ্জারজোনে থাকা সিলেটে বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ কেঁপে ওঠে। এতে সিলেটের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। তবে ভূকম্পনের ফলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকেন্দ্র জানায়, রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে ছাতকের ১১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের মেঘালয় রাজ্য। এ কারণে সিলেটে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুসারে, এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ৬৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার।

ভৌগোলিকভাবে নাজুক অবস্থানের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়। কারণ, বাংলাদেশ অবস্থান করছে ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং মিয়ানমারের টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে। বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, ভারতীয় ও ইউরোপীয় প্লেট দুটি উনিশ শ’ চৌত্রিশ সালের পর থেকে দীর্ঘদিন যাবত হিমালয়ের পাদদেশে আটকা পড়ে আছে, অপেক্ষা করছে বড় ধরনের নড়াচড়া বা ভূমিকম্পের।

ভূ-বিজ্ঞানীগণ মনে করেন, ভূ-গর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ, আগ্নেয়গিরি ও মানবসৃষ্ট কারণে পৃথিবীতে ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ভূ-তক কতকটা প্লেটে বিভক্ত, এগুলোকে বলে টেকটোনিক প্লেট। আর বাংলাদেশ অবস্থান করছে তিনটি টেকটোনিক প্লেটের মাঝখানে। তারা আরও মনে করেন, বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থান করছে যে ইন্দো-অস্ট্রেলীয় প্লেট, সেটি প্রতি বছর ৪৫ মিলিমিটার করে ইউরেশীয় প্লেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর তাই যতই দিন যাচ্ছে ততই বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

এদিকে ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। এরমধ্যে শুধু তুরস্কেই মারা গেছেন ৩৬ হাজার ৪১৮ জন। আহত হয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। ১০ দিন আগে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে দেশ দুটি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের উদ্ধারের আশাও ফুরিয়ে আসছে।

বাংলাদেশের যেসব অঞ্চলে ভূমিকম্প হতে পারে 

দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি ফল্ট রয়েছে। এসব অঞ্চলগুলো খুবই ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের এখানে ১৮৭০ থেকে শুরু করে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত তুরস্কের মতো বা এর চেয়ে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছে। তুরস্কের ভূমিকম্পগুলোকে সে তুলনায় ছোটই বলা যায়। ভূমিকম্পের রিটার্ন পিরিয়ড ধরা হয় ২০০-২৫০ বছর। ১৭৬২ সালে আরাকান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, সাইকেল হিসেবে সেটি এখনও ফিরে আসেনি। এরপর ১৮৮৫ সালে একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, সেটা হয়ত আরও ১০-২০ বছর পর হতে পারে। এ রকম ২০০-২৫০ বছরের যে সাইকেল আছে, সেটি কখন হবে কেউ জানে না। ফলে তুরস্কও ভূমিকম্পের পূর্বানুমান করতে পারেনি। আসলে ভূমিকম্পের পূর্বানুমান করা সম্ভব না।  

এ বিষয়ে গবেষক আক্তারুল আহসান বলেন, বাংলাদেশকে আমরা জিওলোজির ভাষায় ‘বেঙ্গল বেসিন’ বলে থাকি। এর মধ্যে পুরো বাংলাদেশসহ ভারতের কিছু অংশ এবং মিয়ানমারের কিছু অংশ রয়েছে। আমাদের নর্থ-ইস্টার্ন পার্ট বা ভারতের মেঘালয়ের সঙ্গে যেখানে আমাদের সীমানা, সেখানে ‘ডাউকি ফল্ট’ নামে একটা ফল্ট আছে। যেখানে ১৮৯৭ সালে মেঘালয় সীমান্তে ৮ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। সেটা আমরা সরেজমিনে গিয়েও তার প্রমাণ পেয়েছি। এ ছাড়া সিলেট-শ্রীমঙ্গল অঞ্চলে ১৯১৮ সালে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ব্রিটিশরা। ব্রিটিশদের বাংলো ও ক্লাবঘরগুলো ভেঙে তছনছ হয়ে যায়। তা ছাড়া ১৮৮৫ মানিকগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর কাছাকাছি ভূমিকম্প হয়। ওটা তখন মাপা হয়নি তবে, পরবর্তী গবেষণায় দেখা গেছে ওটা ৭ এর ওপরে ভূমিকম্প ছিল। আনুমানিক ৭ দশমিক ৬ বা ৮ মাত্রার ছিল।

তিনি বলেন, এসব থেকে বোঝা যায়- যেখানে একবার ভূমিকম্প হয় সেখানে আবার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটার টেকটনিক একটা কারণ রয়েছে। যেমন ধরেন- তুর্কিতে যে জায়গায় ভূমিকম্প হয়েছে, সেখানে বিগত ৫০০ বছরে ধরে ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনায় ছিল। ইন্দোনেশিয়া, নেপালের আশপাশ অঞ্চলগুলো কিন্তু ভূমিকম্প হচ্ছে। হয়তো এ বছরে হচ্ছে না কিন্তু ৫০ বা ১০০ বছর পর হবে। সে হিসাবে বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের নর্থ-ইস্টার্ন জোনে ‘ডাউকি ফল্ট’ রয়েছে, সিলেট-শ্রীমঙ্গল অঞ্চল এবং মানিকগঞ্জে আরেকটা ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া চিটাগং জোনেও ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। যেটা মিয়ানমার পর্যন্ত চলে গেছে। এই জায়গাটাতে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ হচ্ছে যে অঞ্চলগুলোতে পাহাড় হয় সে অঞ্চলগুলো পাহাড় হয় একটা সংকোচন শক্তির জন্য বা একটা স্লাইডিং বা ফল্টের জন্য। তুর্কিতে যেটা হয়েছে। 

ভূমিকম্পের রিটার্ন পিরিয়ড কত বছর?

যেসব অঞ্চলে অতীতে ভূমিকম্প হয়েছে, সেসব অঞ্চলে ভবিষ্যতে আবারও ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ ওই অঞ্চলগুলো টেকটোনিক প্লেটের ফাটল থাকে, যাকে জিওলোজির ভাষায় ‘ফল্ট’ বলা হয়। সাধারণত এসব ফল্টে একবার এনার্জি রিলিজ হলে শক্তি সঞ্চার হতে একটা দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের রিটার্ন পিরিয়ড ধরা হয় ২০০-২৫০ বছর। ১৭৬২ সালে আরাকান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, সাইকেল হিসেবে সেটি এখনও ফিরে আসেনি। এরপর ১৮৮৫ সালে একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, সেটা হয়তো আরও ১০-২০ বছর পর হতে পারে। এরকম ২০০-২৫০ বছরের যে সাইকেল আছে, সেটি কখন হবে কেউ জানে না। যেমন তুরস্কও ভূমিকম্পের পূর্বানুমান করতে পারেনি। আসলে ভূমিকম্পের পূর্বানুমান করা সম্ভব না। তবে, উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূমিকম্পের তিন সেকেন্ড আগে পূর্বাভাস পেয়ে থাকে।

এ বিষয়ে আক্তারুল আহসান বলেন, শক্তি জমা হওয়ার সময়টাকে আমরা ‘রেকারেন্স প্রিরিয়ড’ বা রিটার্ন পিরিয়ড বলি। ১৮৯৭ সালে মেঘালয়ের যে ভূমিকম্পটা হয়েছিল সেটা শক্তি সঞ্চার হতে ২০০ বছর লাগবে। তবে অ্যাকুরেট (সঠিক) সময় বলা যাবে না। তবে বিভিন্ন গবেষণায় এই ‘রেকারেন্স প্রিরিয়ড’কে ২০০ থেকে ২৫০ বছর হিসেবে ধরা হয়। কোনো কোনো সময় তা আরও দীর্ঘ হতে পারে। যেমনটা হয়েছে তুরস্কের ক্ষেত্রে। ওই অঞ্চল ৫০০ বছর ধরে বড় ধরনের ভূমিকম্পের শঙ্কায় ছিল।  

ছোটো ছোটো ভূমিকম্প কি বড় ভূমিকম্পের আভাস

ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের এই গবেষক বলছেন, ১৮৯৭ সালে মেঘালয়ে ঘটে যাওয়া ওই ভূমিকম্পের হিসেবে ইতোমধ্যে ২০০ বছর পার হয়ে গেছে। যেটা এখনও শক্তি রিলিজ করেনি, তার মানে ওখানকার শক্তি এখনও জমা আছে। তবে ওখানে কিন্তু মাঝে মাঝে ছোটোখাটো ভূমিকম্প হচ্ছে, তার মানে কিছু এনার্জি রিলিজ হচ্ছে। আর কিছু এনার্জি রিলিজ হওয়া মানে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা কমে যাওয়া। একেবারেই যে কমবে তা না, যেটা ৮ দশমিক ৫ মাত্রার হতো সেটা হয়তো ৭ দশমিক ৫ মাত্রার হতে পারে। এমন না যে, সেটা একবারে ৫-৬ মাত্রায় নেমে আসবে। এটা ৭ মাত্রার ওপরে থাকার কথা। 

বাংলাদেশের আশপাশে কতটা ফল্ট রয়েছে? 

ভূমিকম্প গবেষক আক্তারুল আহসান বলছেন, এ বিষয়ে আমাদের দেশে তেমন কাজ হয়নি। কেউ কেউ বলেন ৫টি আবার কেউ বলেন ৭টি। তবে এ বিষয়ে কোনো সার্ভে হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে এ বিষয় নিয়ে আমি কাজ শুরু করেছি। তবে সমস্যা হচ্ছে এর জন্য আমাদের কোনো ফান্ড নেই। এ কাজও কম হয়। আমি কাজ করতে গিয়ে কিছু বিষয় পেয়েছি তবে, কনক্লুশনটা (উপসংহার) করা যাচ্ছে না। কারণ এটা পুরো দেশে সার্ভে করে এটা বলতে হবে, কয়টা ফল্ট রয়েছে। তবে চিহ্নিত হিসেবে মেঘালয় সীমান্তে, সিলেট-শ্রীমঙ্গল বা প্রতিটি পাহাড়ের আশাপাশে এ ধরনের ফল্ট রয়েছে।    

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের প্রভাব 

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। নিয়ম না মেনে যত্রতত্র নির্মাণ করা হয়েছে বড় বড় ভবন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে নানা সমস্যা ধরা পড়েছে। সেখানে বালু ভরাট করে ২০ তলা ভবন নির্মাণ করতেও দেখা যায়। ভূমিকম্প হলে এ রকম ভবন সহজেই ধসে পড়বে। এ ছাড়া অতিরিক্ত জনবহুল হওয়ায় সেখানে ভূমিকম্প হলে প্রাথমিক উদ্ধার তৎপরতায় বিঘ্ন হতে পারে। এখন স্বাভাবিক অবস্থায়ই ঢাকা শহরে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানকার রাস্তায় যদি ভূমিকম্পের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে, ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো এবং উদ্ধার তৎপরতা চালানো সত্যিই অসম্ভব কাজ হবে। তবে এই ভূমিকম্প ঠিক কখন হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এটা আগামীকালই হতে পারে, আবার ৫০০ বছর পরেও হতে পারে। 

নেচার জিওসায়েন্সে প্রকাশিত ওই গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অনিয়ন্ত্রিত ভবন ছাড়াও ভূমিকম্পে ভারী শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রগুলো ধ্বংস হতে পারে। 

ভূমিকম্পে বাংলাদেশের প্রস্তুতি 

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আমাদের সক্ষমতা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা আছে। কারণ হিসেবে তারা রানা প্লাজাসহ বিভিন্ন সময়ে বড় ধরনের দুর্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া যেসব সরঞ্জাম রয়েছে, সেগুলোও অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়ে বলেছেন, আমাদের বিল্ডিং কোড এনফোর্সমেন্টকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে ৯৯ শতাংশ নতুন ভবন টিকে যায়। তবে পুরনো ভবনের জন্য মজবুতিকরণ পন্থায় যেতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় কমিউনিটিকে ক্ষমতায়ন করার বিষয়েও তারা জোর দিয়েছেন তারা।


বিষেজ্ঞরা বলছেন, তুরস্ক আমাদের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত। তারা ভূমিকম্প আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গেই দুর্গত এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধারকারী বাহিনী পাঠিয়ে দিয়েছে, হেলিকপ্টারে করে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তুরস্কের সব ভবন তো আর ভালো নয়, যেগুলো ভেঙেছে সেগুলোর বেশিরভাগই ২-৩ তলার, তবে আশপাশে বহুতল ভবনগুলো দাঁড়িয়ে আছে। আবার আমাদের শহরগুলোর গলি খুবই সরু। এ ক্ষেত্রে তুরস্ক ও সিরিয়ার রাস্তাঘাট কিন্তু এমন না, বেশ চওড়া এবং সহজেই যে কোনো জায়গায় পৌঁছানো যায়। পুরান ঢাকায় যদি ভূমিকম্প হয়, দেখা যাবে কোনো গাড়িই সেখানে ঢুকতে পারবে না। 

বছর কয়েক আগে এক জরিপে জানানো হয়, বাংলাদেশে ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে রাজধানী ঢাকার প্রায় ৭২ হাজার ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। এটা রাতের বেলা হলে নগরীর ৯০ হাজার মানুষ হতাহত হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর চেয়ে অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে। 

গবেষক আক্তারুল আহসান বলেন, ভূমিকম্পের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দেশে তেমন প্রস্তুতি নেই। যদি বড় রকমের ভূমিকম্প হয়, তাহলে যে সক্ষমতা রয়েছে তাতে সামাল দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। ভূমিকম্প প্রবণ উন্নত দেশগুলোতে প্রযুক্তির মাধ্যমে কম্পনের তিন সেকেন্ড আগে জানতে পারে, ওই তিন সেকেন্ডের মধ্যেই তারা সেভ জোনে চলে যায়। তাদের গোটা ব্যবস্থা ওইভাবেই সাজানো। যেটা আমাদের কোনোভাবেই সম্ভব না। তাই আমাদের এখানে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশি হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগে প্রফেসর মোহাম্মদ শফি-উল্লাহ সময় সংবাদকে বলেন, ভূমিকম্প হলে সেটা সামাল দেয়ার মতো সক্ষমতা আমাদের খুব একটা নেই। এই খাতে বিনিয়োগ করলে সেটার তাৎক্ষণিক ফল দেখা যায় না। তাই আমাদের মতো দেশের ক্ষেত্রে যেটা হয়, তা হলো যখন যেটা দরকার সেখানে বিনিয়োগ করা হয়।

Bootstrap Image Preview