Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, জুলাই ২০২৪ | ১ শ্রাবণ ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

শুভ জন্মদিন রাহুল শরদ দ্রাবিড় (দ্য ওয়াল)

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী ২০২০, ১২:৩৫ PM
আপডেট: ১১ জানুয়ারী ২০২০, ১২:৩৫ PM

bdmorning Image Preview


ভুখণ্ডের ওপর এত উজ্জ্বল আলোর আতশবাজি এল,নিবে গেল একে একে সব শুধু সারারাত নিবিড় ভাবে জ্বলে রইল চাঁদ। এ আলোয় জৌলুস নেই আছে স্থায়িত্ব, এ আলো কোলাহলের নীড় নয় এ আলো বোবা ইমারত, এই আলো এঁকে দেয় ক্লান্ত একটা মুখ, একটা টপটপ করে ঘাম ঝরতে থাকা হেলমেট, একটা সভ্যতার ব্লু-প্রিন্ট...

" গুটিকয়েক ক্রীড়া সাংবাদিককেই আমি ফোন করলাম। আপনাকে দীর্ঘদিন চিনি তাই সরাসরিই জানাচ্ছি আমি কাল অবসর নিচ্ছি ক্রিকেট থেকে..." ফোনটা পেয়ে থমকে গেলেন ঐ সাংবাদিক।

সামনে ইংল্যান্ড সিরিজ। ৪-০ বদলা নেবার সেরা সুযোগ।কেরিয়ারের কয়েকটা মাস অফফর্মে থাকায় আঙুল উঠেছিল দ্রাবিড়ীয় সভ্যতার দিকে। এত অভিমান? যাওয়ার আগে কোনো জমকালো অনুষ্ঠান চান না তিনি। চিরকাল যেভাবে মঞ্চের তুখোড় অভিনেতাদের ম্লান করে দিয়ে নিজে সরে গেছেন পর্দার পিছনে, যেভাবে সেঞ্চুরির পর দায়সাড়াভাবে একটা ব্যাট তুলেই পরের বলটা ফেস করতে স্টান্স নিয়েছেন- সেভাবেই হারিয়ে যেতে চান ভারতীয় ক্রিকেট থেকে।

" আমি জানি আমার প্লেস ফাঁকা থাকবে না টিমে, কেউ না কেউ ঠিক এসে ভরাট করে দেবে তিন নম্বর জায়গাটা।"
অভিমানী গলাটা যেন ভারতীয় ক্রিকেটের গায়ে লেগে থাকা কোমল বিষাদ। তবে এই বিষাদের পিয়ানো বাজাতেই তো এসেছিলেন রাহুল শরদ দ্রাবিড়। আডিলেডের ২৩৩ রানের ইনিংসের পর যখন সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করল -

" এটাই কি আপনার সেরা ইনিংস?"
তাঁর সটান উত্তর ছিল - " না! জীবনে যে ইনিংসগুলোতে ক্রিজে রক্তাক্ত হয়েও আমি মাটি কামড়ে পড়েছিলাম, যে ইনিংসগুলোতে একটা বল ব্যাটে ছোঁয়াতে বেগ পেতে হচ্ছিল, যে ইনিংসগুলোতে ভারত পরপর উইকেট খুইয়ে ধুঁকছিল আর আমি নিজের ক্লান্ত ব্যাটিংটাকে টেনে টেনে থ্রি ফিগারে পৌঁছে দিয়েছি দলের স্বার্থে- ঐগুলো আমার সেরা ইনিংস..."

সৌরভ গাঙুলিকে কলকাতা আই পি এলে যা অপমান করল তার দ্বিগুন অপমান হয়ত সহ্য করতে হয়েছিল দ্রাবিড়কে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে দল থেকে সপাটে বাদ। কিন্তু দ্রাবিড় সেই আজন্ম আলো বুকে নিয়ে জন্মানো চাঁদ যে নিঃশব্দে সরে গিয়ে রাজস্থানের দলগঠনে মন দিয়ে চমকে দিল সবাইকে। রাহুল দ্রাবিড় সেই মানুষটা যিনি বারে বারে নিজের সর্বস্ব দিয়েও কখনো আড়াল হয়েছেন সচিনের, কখনো সৌরভের কিন্তু প্রতিদিন রাতে শুতে যাবার আগে সকলে মিডিয়া বাইটে ব্যস্ত থাকলেও তিনি বিছানায় শুয়ে সকাল ৫ টায় এলার্ম সেট করেছেন নেট প্র‍্যাকটিসের। সেই বিখ্যাত উক্তি-
" You have your net tomorrow, that is the only thing in your control.Do it, forget the rest "

 

১৬,১৭ বছরের ছেলেগুলো আসে আজও, স্যার দ্রাবিড় বসে থাকেন চেয়ারে। তীক্ষ্ণ চোখদুটো নেটে মেপে নেয় বাচ্চাগুলোর ফুটওয়ার্কের ছোট্ট ভুলটা। এর ফাঁকেই সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন ২০১১-এর ওয়াংখেড়ের কথা,জিজ্ঞেস করেন- " ব্যাঙালোরে বসে কখনো মনে হয় নি ওয়াংখেড়ের এই জয়টাতে আপনার থাকার কথা ছিল?"

মুচকি হেসে বলেন-" আমার দেশ জিতেছে।তার মানেই আমি জিতেছি। ঈর্ষা মানুষকে দগ্ধ করে,তার চেয়ে ভালবাসা অনেক সোজা..."- বলেই উঠে যান ইঁট-সুরকি আর সিমেন্ট দিয়ে তৈরী একটা মানুষ যার জীবনের ভিতটা পোঁতা আছে নিষ্ঠা আর অধ্যাবসায়ের পোক্ত জমিতে, যে দেওয়ালে এসে পাংচার হয়ে গেছে ৩১,২৫৮টা বিষাক্ত বল। ভারতীয় ক্রিকেটে একের পর এক

খেলোয়াড় আসছেন, চলে যাচ্ছেন- আমরা আলোর জৌলুস দেখে লাফিয়ে উঠছি- মহাকালের রথের চাকায় অনন্তকাল ধরে চিকচিক করছে সেই জ্যোতস্না, পথ দেখাচ্ছে চন্দ্রযানের, পথ দেখাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের।
চেয়ার ছেড়ে উঠে নেটের দিকে হেঁটে চলে যান রাহুল শরদ দ্রাবিড়, একটু একটু করে কালো আকাশে আলো জ্বেলে মেঘের কিনার ধরে।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে উদাসী পথিকের গান বাঁধা থাকে সুর-তাল-লয়ের কঠিন অর্কেস্ট্রায়! 

 

Bootstrap Image Preview