Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ | ঢাকা, ২৫ °সে

যেভাবে আপনার ফেসবুক নিরাপদ রাখবেন

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:১৬ PM
আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:১৬ PM

bdmorning Image Preview
ছবি: সংগৃহীত


কিছু দিন ফেসবুক নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কথা শোনা যাচ্ছে। কারও ফেসবুক আইডি, কারও ফেসবুক পেজ হ্যাক করছে হ্যাকাররা। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে হ্যাকাররা বেশ দাপটের সঙ্গেই ঘুরে বেড়াচ্ছে ওয়েব জগতে। মতের অমিল, ভিন্ন ধরনের পোস্ট দিলেই হ্যাকাররা তাদের টার্গেট করে আইডি হ্যাক করছে। এছাড়া, সাধারণ আইডিও হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্বল পাসওয়ার্ডের আইডিও হ্যাকাররা টার্গেট করছে। মূলত হ্যাকাররা দুর্বল আইডির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলে। সচেতনতা ও জানা-শোনার পরিধি বাড়ালে ফেসবুক আইডি অনেকাংশে নিরাপদ রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রেনিউর ল্যাবের প্রধান নির্বাহী ও ফেসবুক ডেভেলপার গ্রুপের সাবেক ব্যবস্থাপক আরিফ নিজামী বলেন, ‘ব্যবহারকারীর অজ্ঞতা, অসচেতনতা, অন্যকে বিশ্বাস করা, একাধিক ডিভাইসে ফেসবুক ওপেন করা, সব জায়গা থেকে লগ-আউট না করা ইত্যাদি কারণে অন্যের হাতে চলে যেতে পারে আপনার ফেসবুক। এছাড়া, সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার, দীর্ঘদিন ধরে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন না করা হলে হ্যাকাররা সহজেই অন্যের ফেসবুক আইডি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে।

তিনি জানান, বিভিন্নভাবে ফেসবুক পেজ ও আইডির নিরাপত্তা বাড়নো যায়। ফেসবুকের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে এর নিরাপত্তার বিষয়গুলো তার ভালোই জানা। তিনি কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। পরামর্শগুলো মেনে চললে ফেসবুকে নিরাপদ থাকা যাবে, আইডিও নিরাপদ রাখা যাবে।

ফেসুবক আইডি বা পেজ হ্যাক হওয়ার আগে অনেক সময় ই-মেইল আইডি হ্যাক করে হ্যাকাররা। ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করলেই হবে না। সঙ্গে সঙ্গে মেইল আইডিরও পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে। ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড বদলে ফেলা হলেও হ্যাকাররা ই-মেইল আইডি দিয়ে ফেসবুকে লগইন করতে পারে। ফলে মাঝে মাঝে ফেসবুক ব্যবহারকারীর আইডি ও ই-মেইলের (যেটা দিয়ে ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে) পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে।

ফেসবুক আইডি খোলার সময় ব্যবহার করা ফোন নম্বর পরিবর্তন করলে সেটিংসে গিয়ে নম্বর পরিবর্তন করতে হয়। তা নাহলে পুরনো নম্বর থেকে গেলে ওই নম্বর দিয়েও ফেসবুকে ঢোকা সম্ভব, হ্যাকাররা এটা করতে পারে। হ্যাকাররা ওই নম্বর দিয়েও আইডির দখল নিয়ে নিতে পারে। ফোন চুরি বা ছিনতাই হলে ছিনতাইকারীরা ফেসবুক আইডিতে প্রবেশ করতে পারে। অনেক সময় বদলে ফেলতে পারে পাসওয়ার্ডও। তাই মোবাইল হাতছাড়া হওয়ার পরপরই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলা ভালো।

গুগল, ফেসবুকের কিছু সিকিউরিটি কোড পাওয়া যায়। দেশের বাইরে কাজে বা বেড়াতে গেলে ফেসবুক চালু করার সময় দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিলে এসব কোড পাওয়া যায়। ওই কোড দিয়ে ফেসবুক চালু করতে হয়। কোড ডিলিট করে ফেলা বা বারবার অন্য কোড ব্যবহার করতে হবে। ওইসব কোড দিয়ে দীর্ঘদিন পরও ফেসবুক চালু করা সম্ভব। হ্যাকাররা অনেক সময় ওই কোডগুলো দিয়েও আইডি হ্যাক করে থাকে। ফলে ভিন্ন ডিভাইসে ফেসবুক ওপেন করা হলে লগ আউট করে আসতে হবে।

অনেকে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের গেম খেলে থাকেন। বিভিন্ন পরিচিত অপরিচিত অ্যাপ ব্যবহার করলে পারমিশন বা অ্যালাউ করতে হয়। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই খারাপ। কারণ, পারমিশন দিলে অ্যাপ ক্রিয়েটর বিভিন্ন তথ্য নিয়ে আইডিতে লগইন করতে পারে। ফলে অপরিচিত অ্যাপ ব্যবহার বা গেম খেলার সময় কোনও কিছুর পারমিশন দেওয়া যাবে না। খেলার পরে অ্যাপ মুছে ফেলতে হবে।

অনেকে ফেসবুক আইডি খোলার সময় পাসওয়ার্ড হিসেবে মোবাইল নম্বর দিয়ে থাকেন। এই মোবাইল নম্বর খুঁজে পেতে হ্যাকারকে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না।

এছাড়া, ট্রাস্টেড কন্টাক্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সেক্টর থেকে নাম বা আইডি নির্বাচন করা ভালো।

আরিফ নিজামী পরামর্শ হলো— নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টে যে নাম আছে, সেই নামে আইডি খুলুন। হ্যাকাররা আপনার আইডি হ্যাক করলেও প্রমাণপত্র পাঠালে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আইডি আপনাকে ফিরিয়ে দেবে। কারণ, হিসেবে তিনি বলেন, ‘অনেকে বেনামে আইডি খুলে থাকেন। হ্যাকাররা কারও আইডি হ্যাক করলে সঙ্গে সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির একটি আইডি (হোক সে জাতীয় পরিচয় পত্র বা পাসপোর্ট) তৈরি করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে দেয়। ফলে প্রকৃত আইডিধারী কোনও প্রমাণপত্র পাঠালেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তখন আইডিধারীকে বিশ্বাস না করে হ্যাকারকেই বিশ্বাস করে আইডি আর ফিরিয়ে দেয় না।

Bootstrap Image Preview