Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৪ সোমবার, জুন ২০২৪ | ১০ আষাঢ় ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

শুরু হচ্ছে জামিল আহমেদের ‘প্রযোজনা ভিত্তিক অভিনয় কর্মশালা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০১৮, ০২:১৩ PM
আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৮, ০২:১৫ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


গত বছরের সাড়া জাগানো নাট্যপ্রযোজনা 'রিজওয়ান' নির্দেশনা দিয়ে শিল্পাঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন নাটরূপকার সৈয়দ জামিল আহমেদ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তাঁর নেতৃত্বে শুরু হচ্ছে নতুন ‘প্রযোজনা ভিত্তিক অভিনয় কর্মশালা’।

কর্মশালার আয়োজন করছে ‘স্পর্ধা’ নাট্যসংগঠন। দুই পর্বের এ কর্মশালাটি ২ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে এ-বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

কর্মশালার ধারণা,,

সৈয়দ জামিল আহমেদের নেতৃত্বে প্রযোজনা ভিত্তিক নাট্যসংগঠনটির কেন্দ্রে অবস্থান করছে একটি ক্ষুদ্র ‘বীজ দল’(core group),। ক্ষুদ্র বীজ দল কর্তৃক বিভিন্ন নাট্যসংগঠন ও নাটক সম্পর্কিত বিভিন্ন উৎস থেকে কর্মশালার মাধ্যমে নাট্যকর্মী নির্বাচন করা হবে। প্রযোজনা নির্মাণের জন্য নির্বাচিত নাট্যকর্মীদের, মহড়া ও নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রদর্শনীর সুনির্ধারিত সময়সূচি জানানো হবে। এই সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নাট্যকর্মীগণই একটি অস্থায়ী প্রযোজনা দলের অন্তর্ভুক্ত হবেন। মঞ্চায়ন শেষে নির্বাচিত কুশিলব ও কলাকুশলি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্মানি পাবেন।

প্রযোজনাটির নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রদর্শনী সমাপ্ত হবার পর প্রযোজনা দলটি ভেঙ্গে পুনরায় নতুন প্রযোজনা নির্মাণের লক্ষ্যে অনুরূপ আরেকটি অস্থায়ী প্রযোজনা দল গঠন করা হবে। ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য ‘প্রযোজনা ভিত্তিক নাট্যসংগঠন’-এর বীজ দল একই থাকবে। যারা পেশাদার নাট্যদলের সমস্ত বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে স্থায়ী পেশাদার নাট্যকর্মীরূপে আত্মপ্রকাশ করবে।

প্রতিটি প্রযোজনার উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে এই ক্ষুদ্র বীজ দল-এর জন্য এমন একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে যাতে পরবর্তী প্রযোজনা নির্মাণের পূর্ব পর্যন্ত এই ‘বীজ দল’-এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হয়। আয়োজকরা আশা করছে এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে পেশাদার নাট্যকর্মী সৃষ্টি হবে।

আয়োজকরা জানান,‘স্পর্ধা’ সংগঠনের মাধ্যমে আমরা একটি প্রযোজনা নির্মাণ করতে চাই। এই নতুন প্রযোজনার জন্য পান্ডুলিপি হিসেবে আমরা বেছে নিয়েছি শহীদুল জহির রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা'। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনানির্ভর সার্থক মঞ্চনাটকের আয়োজন হাতেগোনা হওয়ায় এবং সমসাময়িক বাস্তবতায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনানির্ভর শিল্পসৃষ্টির তাগিদেই এই উপন্যাসটি বেছে নেয়া হয়েছে।

উপন্যাসটি সম্পর্কে সাহিত্য সমালোচক মানস চৌধুরী বলেন,‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষতা আর জিঘাংসাকে উপজীব্য করেছে। যেভাবে বাংলাদেশে উপন্যাস, কিংবা আরো সাধারণভাবে সাহিত্যকর্মের, বর্গবিভাজন করা হয়ে থাকে তাতে এটা মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস।’

অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধাশ্রয়ী সাহিত্যরচনা থেকে জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা উপন্যাসটি যে একটি স্বতন্ত্র স্থান তৈরি করতে পেরেছে, এই বিষয়টি স্বীকার করে মানস চৌধুরী আরো বলেন, শহীদুল জহির সেন্টিমেন্টালিটির চাপ বহন করেননি বলেই সমকালীন বহুবিধ মুক্তিযুদ্ধাশ্রয়ী সাহিত্য-রচনা থেকে তার উপন্যাস স্বতন্ত্র। এই উপন্যাসের বয়ানকৌশলে লক্ষ্য করা যায় ছেদহীন কথকসত্তা আর অব্যয়ের প্রয়োগ। শহীদুল জহির সংলাপের আরামদায়ক বিরতি গ্রহণ করেননি। ‘তেমনি অনুচ্ছেদ-পরিচ্ছেদ ব্যবহার করেও পাঠককে বিরতি দেননি।

Bootstrap Image Preview