Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৫ রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ২৩ মাঘ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

নয়াপল্টনে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে গুলি করা ব্যক্তিটি কে?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০৫ AM
আপডেট: ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০৫ AM

bdmorning Image Preview


রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় বন্দুক হাতে আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি গায়ে এক ব্যক্তিকে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। এ সম্পর্কিত একটি ভিডিও ফুটেজ অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে ৩টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় গুলিতে মকবুল হোসেন নামে একজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

আর্জেন্টিনার জার্সি পরা ব্যক্তিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে নয়াপল্টনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘জার্সি পরা ব্যক্তিটি কে—আমরা বলতে পারছি না। আমি তো আপনার মতোই। অনেক কিছুই তো ভাইরাল হয়।’

জানতে চাইলে নয়াপল্টনে দায়িত্বরত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি জোনের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যে পাশ থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা ব্যক্তি গুলি ছুড়ছে, সেখানে একই রঙের দেয়াল ও গেট ছিল। সংঘর্ষের সময় আমাদের চোখে পড়েনি।’

ভাইরাল ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বুধবার বিকালে নয়াপল্টনের একটি বাড়ির গেটের সামনে পুলিশের একটি ভ্যানের আড়াল থেকে শর্টগান থেকে গুলি ছুড়ছেন একজন যুবক। তার মাথায় নীল হেলমেট, গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি। এ সময় তার পাশ থেকে পুলিশের পোশাক পরা দুজনকে একসঙ্গে গুলি করতে দেখা গেছে। এসময় আশপাশের মানুষ ‘ওনি তো পুলিশ না’ বলাবলি করছিল।

বুধবার রাতে সরেজমিন দেখা যায়, জার্সি পরা ব্যক্তিটি যে স্থানে দাঁড়িয়ে গুলি করছিল সেটি পল্টন মডেল থানার গেট।

গ্রেফতার ৩০০, আহত ৫০ পুলিশ সদস্য: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশিদ বলেছেন, ‘নয়া পল্টনে বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের ভেতর থেকে অবিস্ফোরিত ১৫টি ককটেল, দুই লাখের বেশি টাকা, অসংখ্য পানির বোতল, ১৬০ বস্তা চাল এবং রান্না করা খিচুড়ির কয়েকটি ডেকচি উদ্ধার করা হয়।’

হারুন অর রশিদ বলেন, ‘অনেকে ককটেল বিস্ফোরণ করে পার্টি অফিসের ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। সেখান থেকে আমরা অনেককে গ্রেফতার করেছি। তারা প্রাথমিকভাবে স্বীকারও করেছে।’ যদিও অভিযান চলাকালেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘পুলিশ ব্যাগে করে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে গেছে।’

ডিবির ঢাকা প্রধান হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি পার্টি অফিসের সামনে তারা রাস্তা বন্ধ করে বসে পড়বেন। পুলিশ যখন তাদের বললো—আপনাদের রাস্তা বন্ধ করাটা ঠিক হচ্ছে না তখন পুলিশের ওপর তারা চড়াও হয়। পুলিশের ওপর তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলো। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। তারা পুলিশের দিকে শত শত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আমাদের অনেক পুলিশ সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘যখন দেখলাম অনেক ককটেল বিস্ফোরণ হচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দলীয় কার্যালয়ে আমরা প্রবেশ করি। সেখানে দেখলাম অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে। আমরা দুই লাখের অধিক টাকা পেলাম। লাখ লাখ পানির বোতল, খিচুড়ি, ১৬০ বস্তা চাল এবং খিচুড়ি পাক করা অবস্থায় পেয়েছি।’

হারুন অর রশিদ বলেন, ‘একটা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার জন্য বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দেওয়া হলো, আরও তিন দিন বাকি—কিন্তু তারা সেখানে যাবেন না। তাদের  দরকার থাকতেই পারে। তারপরও তারা আজকে ৭ তারিখ এখানে (নয়াপল্টন) রাস্তায় বসে পুলিশের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালেন, পুলিশকে আহত করলেন। তার ধারাবাহিকতায় বিএনপি অফিসে ঢুকে অবিস্ফোরিত ককটেল পেলাম, যেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। আমি মনে করি, এটি তাদের একটি দুরভিসন্ধি ছিল।’

আটক ও গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আশপাশের এলাকা থেকে তিন শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছি। এরমধ্যে অনেকেই আছেন যারা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, অনেকেই আছেন মামলার আসামি। তাদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো। যাচাই-বাছাই করবো। তাদের বিরুদ্ধে যদি সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে মামলা করা হবে।’

পুলিশ আহত হওয়ার বিষয়ে হারুন বলেন, ‘৫০ জনের অধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এরমধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া অনেক পুলিশ রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে’।

Bootstrap Image Preview