Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ৩১ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২০২৩ | ১৮ মাঘ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

ক্ষুধায় কান্নাকাটি করায় মেয়েকে মেরে আত্মহত্যার চেষ্টা বাবার!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৪৭ PM
আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৪৭ PM

bdmorning Image Preview
রাহুলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। - ছবি : সংগৃহীত


ক্ষুধায় কেঁদেই চলেছিল আড়াই বছরের মেয়েটি। পকেটে যা টাকা ছিল তা দিয়ে বিস্কুট, চকোলেট কিনে এনে দিয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু তাতে খিদে না মেটায় তার পরেও কাঁদছিল মেয়েটি। শেষমেশ ওকে বুকের মধ্যে জোরে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেছিলেন। নিজেও আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। পুলিশকে এ কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন।

রাহুল পারামার। মেয়েকে খুনের অভিযোগে তাকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় ভারতের বেঙ্গালুরুর কোলার থানার পুলিশ।

৪৫ বছর বয়সী রাহুল গুজরাটের বাসিন্দা। কিন্তু কর্মসূত্রে থাকেন বেঙ্গালুরুতে। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেছেন, একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করতেন। কিন্তু সেই কাজ চলে যায়। বিটকয়েনে বিনিয়োগও করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাতেও বিপুল ক্ষতি হয়েছিল। ফলে প্রচুর ধারদেনা করতে হয়েছিল তাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাহুল আরো দাবি করেছেন যে দেনার পরিমাণ এতটাই ছিল যে স্বর্ণের গহনাও বিক্রি করতে হয়েছিল তাকে। নিত্যদিন পাওনাদাররা বাড়িতে হানা দিতেন। ফলে সব মিলিয়ে দিশাহারা হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

মেয়ে জিয়াকে স্কুলে দিতে যাওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে গাড়িতে করে ১৫ নভেম্বর বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু সারাদিন কেটে যাওয়ার পরেও স্বামী-সন্তান না ফেরায় রাহুলের স্ত্রী ভব্য বাগালুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। কিন্তু তার পরদিনই বেঙ্গালুরু-কোলার হাইওয়ের ধারে একটি হ্রদে জিয়ার দেহ উদ্ধার হয়।

জেরায় পুলিশকে রাহুল জানিয়েছেন, ১৫ নভেম্বর সকালে বেঙ্গালুরুর আশপাশে মেয়েকে গাড়িতে নিয়ে ঘোরেন। কিভাবে আত্মহত্যা করবেন স্থির করতে পারছিলেন না। বিশেষ করে মেয়ের সামনে আত্মহত্যা করবেন, এই সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলে না। অন্যদিকে সময়ও পেরিয়ে যাচ্ছিল। ফলে আরো বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছিলেন রাহুল।

তিনি বলেন, ‘বেশ কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক গাড়ি চালিয়ে ঘোরার পর শেষমেশ বাড়িতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু পাওনাদারদের অশ্রাব্য গালিগালাজ, হেনস্থা বার বার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। তার পরই হ্রদের ধারে সন্ধ্যাবেলায় গাড়ি থামিয়েছিলাম।’

পুলিশকে তিনি আরো জানিয়েছেন, হ্রদের কাছে গাড়ি পার্ক করে সামনেরই একটি দোকান থেকে মেয়ের জন্য বিস্কুট ও চকোলেট কিনে এনেছিলেন। পকেটে আর টাকা ছিল না তার। মেয়েকে নিয়ে গাড়িতে কিছুক্ষণ খেলেনও। কিন্তু মেয়ে আবার খিদের জ্বালায় কেঁদে ওঠে। সেই জ্বালা সহ্য করতে না পেরে মেয়েকে বুকের মধ্যে জোরে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে দাবি রাহুলের। এরপরই মেয়েকে নিয়ে হ্রদের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু পানি কম থাকায় বেঁচে যান।

রাহুল বলেন, ‘হ্রদের পানিতে ঝাঁপ দিয়েও যখন কিছু হয়নি, মেয়েকে ওখানে ফেলে রেখে রাস্তায় উঠি। এক ব্যক্তিকে বলি, আমাকে বাঙ্গেরপেট স্টেশনে ছেড়ে দিতে। ভেবেছিলাম ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করব। কিন্তু তা-ও সাহসে কুলোয়নি। শেষে তামিলনাড়ুগামী ট্রেনে উঠে পড়ি।’

রাহুলের দাবি কতটা সত্য, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার পত্রিকা

Bootstrap Image Preview