Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৮ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বার ২০২২ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

ওয়াদা করেন আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেবেন: শেখ হাসিনা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৪৫ PM
আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৪৫ PM

bdmorning Image Preview


জনসভায় উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুয়োগ দেবেন কিনা, আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন। এসময় উপস্থিত জনগণ হাত তুলে ওয়াদা করেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে যশোরের জেলা স্টেডিয়ামের জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে বিএনপি নিজেদের উন্নয়ন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) কিছুই দিতে পারে না, শুধু পারে মানুষের রক্ত চুষে খেতে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

সরকারপ্রধান বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন। সেবা করার সুযোগ চাই। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে পাশে থাকতে হবে। আমরা শান্তি চাই, উন্নতি চাই। প্রত্যেকটা জায়গায় দেশ এগিয়ে যাক, সেটিই প্রত্যাশা। যতদিন বেঁচে আছি, দেশের জন্য কাজ করে যাবো।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির কাজই হচ্ছে গুজব ছড়ানো। তাই আপনার গুজবে কান দেবন না। আমাদের এখনও পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে। যেটুকু খরচ হয়েছে, তা মানুষের উন্নয়নেই খরচ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীতে আজকে অর্থনৈতিক মন্দা। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা অর্থনীতিকে এখনও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমি দেখি, কেউ কেউ রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে। রিজার্ভের কোনো সমস্যা নাই। অনেকে বলে ব্যাংকে টাকা নাই, কেউ কেউ ব্যাংক থেকে টাকা তোলে। ব্যাংকের টাকা তুলে ঘরে রাখলে তো চোরে নিয়ে যাবে। চোরের জন্য সুযোগ করে দেওয়া। ব্যাংকে টাকা নেই এ কথাটা মিথ্যা। গতকালও আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ মিটিং করেছি। আমাদের এ বিষয়ে কোনো সমস্যা নাই, প্রত্যেকটা ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা আছে।

সরকারপ্রধান বলেন, যারা জানতে চান রিজার্ভ কোথায় গেলো, তাদের বলছি, রিজার্ভ কোথাও যায়নি। মানুষের কাজে লেগেছে। যেহেতু যুদ্ধ লেগেছে, দাম বেড়েছে সবকিছুর। তারপরও আমরা খরচ করছি, আমদানি করছি; যাতে দেশের মানুষের খাদ্যের যেন ঘাটতি না হয়। কারও কোনও ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়। এজন্য দেশের সব মানুষকে বলে দিয়েছি, কোনও জমি যাতে খালি রাখা না হয়। পারলে একটা মরিচ গাছ লাগান, একটি টমেটো গাছ লাগান। এটি আমাদের সবার উপকারে আসবে।

বেলা ১২টা ২২ মিনিটে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়।

এর আগে, সকাল থেকে যশোরের বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমাবেশস্থলে সমবেত হয়েছেন। সমাবেশে যশোর ছাড়াও খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট

সভা পরিচালনা করছেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার।

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ইতিমধ্যে বক্তব্য রেখেছেন সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপি, মির্জা আযম, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জামাল মহিউদ্দিন, ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

জনসভা উপলক্ষে যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামসহ পুরো শহর নিরাপত্তার চাদরে আচ্ছাদিত রয়েছে।

২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর আজ যশোর এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একই স্টেডিয়ামে সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। তার প্রায় ৫০ বছর পর তারই কন্যা সেখানে ভাষণ দেবেন। এ কারণে এ সমাবেশকে ঐতিহাসিক বলছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

Bootstrap Image Preview