Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৮ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বার ২০২২ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদলের হামলা, ক্ষুব্ধ ফখরুল

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৩৪ PM
আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৩৪ PM

bdmorning Image Preview


ভোলার চরফ্যাশন যুবদলের কমিটি নিয়ে বিরোধে হামলা হলো রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। তাদের প্রতিহত করতে গিয়ে এগিয়ে যাওয়া অপর এক পক্ষের সঙ্গে হয়েছে সংঘর্ষও। এ নিয়ে দুই পক্ষে বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে।

এই ঘটনায় সেই কার্যালয়ে থাকা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি না করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যের তাগিদ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সংঘাতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।

রোববার সকালে নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে প্রায় আধা ঘণ্টা এই সংঘর্ষ চলে। এ সময় ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের হস্তক্ষেপে চরফ্যাশনের নেতা-কর্মীরা সরে যান।

১৪ নভেম্বর যুবদলের এই ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু এর বিরোধিতা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের অনুসারী নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

কার্যালয়ের মধ্যে এদিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে একটি দোয়া ও মিলাদ মাহফিল চলছিল। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ভোলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা এ সময় বিএনপির কার্যালয়ে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কার্যালয়ে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা তাদের শান্ত করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু চরফ্যাশনের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপরও হামলা করেন।

এরপর শুরু হয় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হাতাহাতি, লাঠি নিয়ে মারামারি এবং ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদে আসা মাদ্রাসার এতিম শিশুরাও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

এতে দুই পক্ষেই আহত হয় বেশ কয়েকজন, তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বিশৃঙ্খলার পর হস্তক্ষেপ করেন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা।

এই সংঘর্ষের সময় মিলাদে থাকা মির্জা ফখরুল তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দয়া করে এখন নিজেদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করবেন না। খুব কষ্ট হয়-একদিকে আমার বুলেটবিদ্ধ ভাইয়ের মরদেহ পড়ে আছে মর্গে, আর আপনারা এখানে কমিটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘাত তৈরি করছেন।’

সংঘাত সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কার করারও নির্দেশ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা জীবনপণ লড়াই করছি। এই লড়াইয়ে আমাদের বিজয়ী হতে হবে। এর বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। সবাইকে জীবনবাজি রেখে ঐক্যবদ্ধভাব লড়াই করতে হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলিতে ছাত্রদল নেতা নয়নের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নয়নের মতো আরও অনেকে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে প্রাণ দিয়েছে, তারা জীবন উৎসর্গ করেছে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য।

‘৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, হত্যা করা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে। তারপরও মানুষের মুক্তির জন্য কতটা আবেগ, কতটা আকুতি। মানুষ শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে মুক্তির আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। বিগত গণসমাবেশগুলো থেকে আমরা উপলব্ধি করেছি গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে জনগণের মাঝে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জয়নুল আবদিন, আব্দুল কুদ্দুস, আবুল খায়ের ভূঞা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মীর শরফত আলী সপু, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, এম এ মালেক, তাইফুল ইসলাম টিপু, মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজিব আহসান, ইয়াসীন আলী, ওলামা দলের শাহ নেছারুল হক, নজরুল ইসলাম তালুকদারসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা মিলাদে অংশ নেন।

Bootstrap Image Preview