Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৮ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বার ২০২২ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

আমেরিকার ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়ার সহজ উপায়

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫২ AM
আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫২ AM

bdmorning Image Preview


বাংলাদেশীদের জন্য আমেরিকা একটি স্বপ্নের দেশ। প্রত্যেকের মনে ইচ্ছা জাগে জীবনে একদিন হলেও আমেরিকায় ঘুরতে যাওয়া। কিন্তু বাংলাদেশিদের জন্য আমেরিকা ভ্রমন করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। এই ভয়ে অনেকে আমেরিকা যেতে চায়না। কিন্তু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে আমেরিকা যাওয়া যায়। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আমেরিকা ট্যুরিস্ট ভিসা সম্পর্কে। আশা করি এই পোষ্ট থেকে কিছুটা হলেও ধারনা পাবেন।

আমেরিকা ট্যুরিস্ট ভিসা 

আসলে আমেরিকা ট্যুরিস্ট মাল্টিপল ভিসা পাওয়া খুব কঠিন কাজ নয়। ট্যুরিস্ট মাল্টিপল ভিসা পেতে আপনাকে একটি ইন্টারভিউ দিতে হবে। তারা আপনাকে ৮-১০ মিনিটের একটি ইন্টারভিউ নেবে। এই ইন্টারভিউ মাধ্যমে আপনার ভাগ্য নির্ধারন হবে আপনি আমেরিকা যেতে পারবেন কিনা। অনেকে মনে করেন ট্যুরিস্ট ভিসার আমেরিকা যাওয়ার জন্য অনেক কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়,এটি ভুল ধারনা। ভ্রমন ভিসার খুব একটা কাগজপত্রের দরকার পড়েনা। আপনি যদি ইন্টারভিউতে বুঝাতে পারেন যে আমেরিকা ভ্রমনে যাবেন নির্দিষ্ট সময়ে ফিরে আসবেন এবং তারা বিচার বিবেচনা করে অনুমতি প্রদান করবে। যারা ইংরেজির প্রতি দূর্বল তাদেরও কনো চিন্তা নেই এই ইন্টারভিউ বাংলায় দিতে পারবেন।

আমেরিকা ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে কি কি কাগজপত্র লাগে?

- পাসপোর্ট 

- ট্রেড লাইসেন্স ( ইংরেজি হতে হবে অথবা বাংলায় হলে নোটারি করতে হবে)

- গত ৬ মাসের ব্যাংক এস্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি থাকতে হবে।

- ব্যবসায়ী হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভিজিটিং কার্ড থাকতে হবে।

- চাকরীজিবীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ছুটির অনুমতি পত্র।

- জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি

- ল্যাব প্রিন্ট ছবি ২ কপি

-  ইনস্যুরেন্স,টি,আই,এন সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

-  বাচ্চাদের জন্য স্কুল আইডি/ জন্ম সনদের ফটোকপি

- জায়গা,ব্যবসার সম্পত্তির বিবরন

ভিসা আবেদন করার পূর্ব শর্তসমূহ

অনেকেই ভিসা আবেদন করে ভিসা পান না বা ভিসা পেতে অনেক দেরি হয়ে যায়। তারা ভিসা আবেদন করতে কিছু জিনিস লক্ষ্য রাখেনা ভুল করে বসে। তাই ভিসা বাতিল বা বিড়ম্বনা এড়াতে ভিসা আবেদনপত্র জমা পূর্বে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলুন। এই নিয়মগুলো মেনে চললে আশা করি ভিসা পেতে কনো ঝামেলা পোহাতে হবে না।

- পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৮ মাস আসে কিনা চেক করে নিন।

- আপনার পাসপোর্টে ৩ টি খালি পৃষ্টা থাকতে হবে।

- পাসপোর্টের সঠিক নাম্বার ভিসা আবেদন পত্রে উল্লেখ করতে হবে।

-  পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হবার তারিখ ও রিনিউ করার তারিখ উল্লেখ করতে হবে।

-  আবেদনপত্রে নামটি নির্ভুলভাবে লিখতে হবে।

-  অবশ্যই স্ক্যান করা ছবি আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হবে।

- যদি আগের পাসপোর্ট থাকে সেটি মূল পাসপোর্টের সাথে সংযুক্তি করে দিতে হবে।

- পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে সেটার জিডি কপি আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হবে।

- ইউটিলিঠির বিলের সাথে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা মিল থাকতে হবে।

- রেফারেন্স এর জায়গায় বাংলাদেশ ও ভারত পূরন করতে হবে।

- আপনি কি করেন,পেশা কি? তার একটি সঠিক সুন্দর বিবরন দিতে হবে।

- ভোটার আইডির সাথে জন্ম নিবন্ধনের মিল থাকতে হবে।

- আবেদনপত্র পূরন করার ৮দিনের মধ্যে ভিসা সেন্টারে জমা দিতে হবে।

- নির্দিষ্ট এরিয়া নির্বাচন করে আবেদন করতে হবে।

- ঢাকা, ময়মনসিংহ,খুলনা, সাতক্ষীরা,বরিশাল,যশোর এলাকার হলে ঢাকা মিশন নির্বাচন করতে হবে।

- নোয়াখালী,কুমিল্লা,ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া,চট্টগ্রাম অঞ্চলের লোকজন চট্টগ্রাম মিশন সিলেক্ট করতে হবে।

- বগুড়া,রাজশাহী,রংপুর,ঠাকুরগাঁও পাশ্ববর্তী অঞ্চলের ভিসা আবেদনকারীরা রাজশাহী মিশন নির্বাচন করতে হবে।

- সিলেট অঞ্চলের লোকের সিলেট নির্বাচন করতে হবে।

-জন্মের তারিখ জাতীয় পরিচয় পত্র / জন্ম সনদপত্রের সঙ্গে মিল থাকতে হবে

-আবেদনপত্র পূরণ করার ৮ দিনের মধ্যে আবেদনপত্র ভিসা আবেদন কেন্দ্রে জমা দিতে হবে।

-ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সিলেট, সাতক্ষীরার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আবেদনকারীরা অনলাইন ফর্ম এ ঢাকা মিশন নির্বাচন করবে।

-চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালি পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আবেদনকারীরা অনলাইন ফর্ম এ চট্টগ্রাম মিশন নির্বাচন করবে।

-রাজশাহী, রংপুর, ঠাকুরগাঁ, বগুড়ার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আবেদনকারীরা অনলাইন ফর্ম এ রাজশাহী মিশন নির্বাচন করবে।

-সিলেট পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আবেদনকারীরা অনলাইন ফর্ম এ সিলেট মিশন নির্বাচন করবে।

-আপনার ভিসা আবেদন জমাদানকারী সেন্টার এবং টাকা জমাদানকারী সেন্টার এর নাম অবশ্যই এক হতে হবে।

আমেরিকার ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা

আমেরিকা বা ইউরোপে ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে হলে আপনার ৩ টি যোগ্যতা থাকা লাগবে। এই ৩টি যোগ্যতা প্রমান করতে পারলে আপনি আমেরিকা ভ্রমন  ভিসা খুব সহজে পেয়ে যাবেন।

১. আর্থিক সামর্থ্য : এক কথায় বলা যায় আর্থিক সক্ষমতা হল ভ্রমন ভিসার প্রান। আপনি যদি আমেরিকা ভ্রমন করতে যেতে চান অবশ্যই আপনার আর্থিক সামর্থ্যর প্রমান দেখাতে হবে। নুন্যতম ৬ মাস আগের সম্পত্তির ডুকুমেন্ট দেখাতে হবে। এমন না যে ভিসা আবেদন করার আগে হুট করে একজনের কাছ থেকে ৮/১০  লক্ষ টাকা ধার নিলাম আর প্রমানের জন্য এম্বাসিকে সেটা দেখালাম। তাহলে কিন্তু তারা আপনার ভিসা বাতিল করে দেবে। আপনাকে ভ্যালিড প্রমান দেখাতে হবে হ্যাঁ এই সম্পত্তি আমার,আমি বৈধ উপায়ে এ টাকা আয় করেছি।

২. পেশাগত যোগ্যতা : পেশাগত যোগ্যতাও একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। আপনি ব্যবসা-বানিজ্য,চাকরি যাই করেন না কেন পেশাগত আয়ের অবস্থান ভালো হতে হবে। যদি ব্যবসা করেন সেই ব্যবসাটি অবশ্যই দীর্ঘদিনের হতে হবে এবং লাইসেন্স থাকতে হবে। শুধু তাই নয় আপনাকে সেই ব্যবসা স্মপর্কে ভালো অভিজ্ঞতা থাকতে হবে । আপনার মুখভঙ্গি দেখে ওরা বুঝতে পারবে আপনি সেই কাজের অভিজ্ঞ কিনা।

৩. আপনি পর্যটক : এটা আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন যে,আপনি শুধু ভ্রমন করার জন্য আমেরিকা যাচ্ছেন আর অন্য কনো উদ্দেশ্য নেই। ভ্রমন শেষে যথা সময়ে ফিরে আসবেন। তাই আপনি একজন ভ্রমন প্রিয় মানুষ,আমেরিকা ভ্রমনের ইচ্ছুক এটা প্রমান করা আপনার সবচেয়ে জরুরী। বাংলাদেশি অধিকাংশ মানুষ মিথ্যা কথা বলে ট্যুরিস্ট হিসাবে বেড়াতে গিয়ে সেখানে নানা অপরাধমূলক কাজ করে। তাই এ কারনে আর্থিক সমস্যা,ব্যাংক স্টেটমেন্ট,পেশাগত যোগ্যতা শক্তিশালী হওয়া সত্তেও ৯০% মানুষের ভিসা বাতিল হয়ে যায়।

আমেরিকা ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন কেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য

 আমেরিকা ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে হলে আগে এম্বাসি থেকে অনলাইন কপি DS-160 আবেদন ফরমটি সঠিকভাবে পূরন করে জমা দিতে হবে। আমেরিকার ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য ভিসা ফি নেয় ১৬০ ডলার যা বাংরাদেশি টাকায় ১৩৮০০ কাছাকাছি। এ ভিসা ফি ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। আবার ট্রাভেল ভিসা এজেন্সি দ্বারা পুরো ভিসা প্রসেসটা তাদের দিয়ে করিয়ে নিতে পারেন সেক্ষেত্রে টাকার পরিমান একটু বেশি লাগবে। আরো বিস্তারিত জানতে নিচের এম্বাসি সাথে যোগাযোগ করুন।

ইউ এস এম্বাসি

 মাদানী এভিনিউ, বারিধারা, ঢাকা- ১২১২, বাংলাদেশ।

ফোন নম্বর: (880) (2) 55 66- 20 00.

ওয়েবসাইট এড্রেস: https://bd.usembassy.gov

Bootstrap Image Preview