Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ৩০ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০২২ | ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

ভারতে পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে পেঁয়াজের দাম

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:২৮ PM
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:২৮ PM

bdmorning Image Preview
ছবি সংগৃহীত


ভারতে চলতি বছর পেঁয়াজের দাম কমে পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। এতে বড় আকারের লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছেন কৃষকরা। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কৃষকদের সংগঠনগুলো মজুদে সীমা বেঁধে দেয়া, ন্যূনতম রফতানি মূল্য নির্ধারণ ও রফতানি বন্ধ করে দেয়াসহ কেন্দ্র সরকারের সব ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

ভারতের বাজারে দু্ই মাসের মধ্যে পেঁয়াজের গড় দাম দাঁড়িয়েছে কুইন্টালপ্রতি ১ হাজার ১০০ রুপিতে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বনিম্ন। ওই সময় পণ্যটির দাম কুইন্টালপ্রতি ৮৩৭ রুপিতে নেমে গিয়েছিল।

বর্তমান নিম্নমুখী দামের পেছনে ১০-২০ বছর ধরে সরকারের নেয়া পলিসিগুলোকে দায়ী করেছে কৃষকদের সংগঠনগুলো। এসব সংগঠনের নেতারা বলছেন, বর্তমান বাজারদরের কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদন ব্যয়ও উঠিয়ে আনতে পারছেন না।

বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে ১৫ রুপি। আরো ৫ রুপি খরচ করতে হচ্ছে মজুদের জন্য। চলতি বছর দাম কেজিতে ২০ রুপি পর্যন্ত পৌঁছার সম্ভাবনা দেখছেন না কৃষক নেতারা। এক্ষেত্রে তারা কেন্দ্র সরকারের প্রতি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

উৎপাদিত কৃষিপণ্য রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট অজিৎ শাহ বলেন, পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ অপ্রতুল চাহিদা। বিশেষ করে রফতানি বাজারে মসলাপণ্যটির চাহিদা উদ্বেগজনক হারে কমেছে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার কারণই মূলত পেঁয়াজের রফতানি চাহিদায় নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া আরো অনেক কারণ রয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজের বাল্ব রফতানি বন্ধ ঘোষণার পরও দাম ব্যাপক হারে কমেছে।

পাঁচ বছরের মধ্যে ২০১৯ ও ২০২০ সালে ভারত দুবার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে। স্থানীয় খুচরা বাজারে পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ১০০ রুপিতে উন্নীত হওয়ায় সরবরাহ বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। ওই দুই বছর অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণ মহারাষ্ট্রসহ দেশটির প্রধান উৎপাদন অঞ্চলগুলোয় পণ্যটির উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।

অজিৎ শাহ বলেন, বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে বেশ ভালো পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করে। কিন্তু ২০১৯ ও ২০২০ সালে রফতানি বন্ধের কারণে আমদানিতে তুরস্ক ও মিসরমুখী হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষকদের সরকারের পক্ষ থেকে পণ্যটির উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ফলে দেশটি পেঁয়াজবীজ আমদানি শুরু করেছে।

তবে প্রতিযোগী দেশ পাকিস্তানে বন্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এখনো আশাবাদী দেশটির কৃষক ও খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, এ কারণে ভারতীয় পেঁয়াজ রফতানি চাহিদা আবারো বাড়তে পারে।

তথ্য বলছে, কেন্দ্র সরকার আড়াই লাখ টনের মজুদ তৈরি করেছে। উদ্দেশ্য কৃষকদের ন্যায্য দামপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ভোক্তাদের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির কবল থেকে রক্ষা করা।

Bootstrap Image Preview