Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৮ সোমবার, আগষ্ট ২০২২ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

সোহেল তাজের মন্তব্যের পর তাজউদ্দীনকে নিয়ে আওয়ামী লীগের পোস্ট

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২২, ০৫:২৩ PM
আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২২, ০৫:২৩ PM

bdmorning Image Preview
ছবি সংগৃহীত


বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। এদিনে তাকে স্মরণ করে ও শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

এর আগেই অবশ্য বাবার জন্মদিনে কোনো পোস্ট না দেওয়ায় আওয়ামী লীগের একটি পোস্টে হতাশা প্রকাশ করে মন্তব্য করেন তাজউদ্দীনের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ। এর কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে তাজউদ্দীনকে নিয়ে পোস্টটি দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে দেখা যায়, সকাল সাড়ে দশটার দিকে সাপ্তাহিক আয়োজন ‘রাজনীতির সাতকাহন’ নিয়ে অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। তার নিচে বেলা একটার দিকে সোহেল তাজ একটি মন্তব্য করেন।

সেখানে সোহেল তাজ লিখেন, আজ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং স্বাধীনতাসংগ্রামকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ থেকে অন্তত একটা পোস্ট আশা করছিলাম।

সোহেল তাজের মন্তব্যের ঘণ্টাখানেক পর আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ থেকে তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টে বঙ্গবন্ধুর সাথে তাজউদ্দীনের একটি ছবি পোস্ট করে বলা হয়েছে, ২৩ জুলাই বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং মুক্তিযুদ্ধকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। বঙ্গতাজের জন্মদিনে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

এদিকে সোহেল তাজের মন্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ থেকে বলা হয়েছে, তারা সাধারণত যখন ব্যবহারকারী বেশি থাকে (ট্রাফিক) তখন মহান নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দেয়। মন্তব্যের সঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে দেওয়া পোস্টটির লিঙ্কও জুড়ে দেওয়া হয়।

তাজউদ্দীন আহমদ ১৯২৫ সালের এই দিনে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দেশের রাজনীতিতে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার অনন্য প্রতীক তাজউদ্দীন আহমদ। আওয়ামী লীগের গঠনপ্রক্রিয়ার মূল উদ্যোক্তাদেরও একজন তিনি। ১৯৬৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজউদ্দীন আহমদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনায় সফল ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবার নিহত হওয়ার পরদিন তাজউদ্দীন আহমদ গৃহবন্দী হন।

ওই বছরের ২২ আগস্ট তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর অপর তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের সর্বকনিষ্ট সন্তান তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ ২০০৯ সালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০১২ সালে তিনি সংসদ সদস্য পদও ছেড়ে দেন।

Bootstrap Image Preview