Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ মঙ্গলবার, মে ২০২২ | ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

তেল নিয়ে ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করা ছিল ভুল: বাণিজ্যমন্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২২, ০৩:৩৫ PM
আপডেট: ০৯ মে ২০২২, ০৩:৩৫ PM

bdmorning Image Preview
ছবি সংগৃহীত


তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এ ক্ষেত্রে দেশের ব্যবসায়ীদের দুষেছেন তিনি। অভিমানের সুরে বললেন, ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করা ছিল সরকারের ব্যর্থতা। 

টিপু মুনশি বলেছেন, একজন মুসলমান হিসেবে আমি ব্যবসায়ীদের বলেছিলাম রমজানকে সামনে রেখে দাম বাড়াবেন না। কিন্তু তারা ঈদের সাতদিন সেই কথা রাখেনি। রোজার আগে তেলের দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করা ছিল সরকারের ব্যর্থতা। সরকার চায়নি রোজায় তেলের দাম বাড়ুক। ঈদের পর তেলের দাম বাড়তে পারে, সেই তথ্য ব্যবসায়ীদের কাছে আগে থেকেই ছিল। তাই ডিলার, রিটেইলার পর্যায়ে যে যেভাবে পেরেছে পণ্য মজুদ করেছে। সেজন্য দাম বাড়ানোর পরও বাজারে তেলের ক্রাইসিস হলো।’

সোমবার সচিবালয়ে ভোজ্য তেলের বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। 

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।

ঈদের পর তেলের দাম বাড়ার কারণ জানাতে মন্ত্রী বলেন, তেলের সিন্ডিকেটের কোনো নমুনা পাইনি। রিটেইলার, ডিলাররা সুযোগটা নিয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো রিটেইলার থেকে ডিলার পর্যায়ে কেউ যাতে সুযোগ নিতে না পারে।

আগামী জুন মাস থেকে ১ কোটি পরিবারকে টিসিবির পণ্য দেওয়া হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তেলের দাম সমন্বয় কবে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আগে এক দেড় মাসের মধ্যে বসতাম। যখন তেলের দাম কমানোর সুযোগ থাকবে তখন আমরা আবার বসবো।

মন্ত্রীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমে সেভাবে খবর প্রকাশ হচ্ছে না।

মন্ত্রী বলেন, তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, সেটা সত্যি। সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে এটাও সত্যি। আমরা মাত্র ১০ শতাংশ তেল উৎপাদন করি। কিন্তু ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আসে।  বেশিরভাগ গণমাধ্যম দেশে তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেউ কথা বলছে না। নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ প্রায় সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। গত এক বা দেড় মাসে গ্লোবাল মার্কেটে দামের কেমন তারতম্য সেটা নিয়ে কোনো নিউজ করা হচ্ছে না।

এ সময় সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। তবে বাজারে যে সংকট দেখানো হচ্ছে, পরিস্থিতি ততটা খারাপ না। দোকানদার যদি পণ্য মজুদ করে সেই দায় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের না।

প্রসঙ্গত, সরকারের নানা উদ্যোগের পরও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। একই ভাবে খোলা তেলের দাম প্রতি লিটার ধরা হয়েছে ১৮০ টাকা। সুপার পাম তেলের দাম ১৭২ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়। এর আগে বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে খোলা তেল প্রতি লিটারে ৪৪ টাকা এবং বোতলজাত তেলের দাম বাড়ল ৩৮ টাকা।

গত শুক্রবার থেকে এ নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

এরপরও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট চলছে। উপজেলা পর্যায় ও গ্রামাঞ্চলে খুচরা দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত সয়াবিন তেল। এমন সংকটে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ‘অবৈধভাবে’ তেল মজুত করে বাড়তি দামে সেগুলো বিক্রি করছে।

Bootstrap Image Preview