Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ মঙ্গলবার, মে ২০২২ | ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

কিশোর গ্যাংয়ের ছায়া দেন ৪৮ রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২২, ০৪:২১ PM
আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২২, ০৪:২১ PM

bdmorning Image Preview
ছবি সংগৃহীত


চট্টগ্রাম নগরে কিশোরদের মধ্যে বিরোধে শাহরিয়ার নাজিম জয় ওরফে ফাহিমের (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় আবার আলোচনায় এসেছে কিশোর গ্যাংয়ের অপতত্রতার বিষয়টি। হত্যাকাণ্ডে কিশোরেরাই জড়িত—পুলিশ এটা বললেও এ ঘটনাকে কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্ব বলতে নারাজ।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নগরে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকায় ২৫২ জন কিশোরের নাম আছে। এই কিশোরদের ‘বড় ভাই’ হিসেবে ছায়া দিচ্ছেন অন্তত ৪৮ জন রাজনৈতিক নেতা-সন্ত্রাসী, যাঁরা প্রায় সবাই নানাভাবে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৮ সালে কিশোর গ্যাং সদস্যদের ছুরিকাঘাতে নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান ইসফার নিহত হয়। এরপর চট্টগ্রামে আলোচনায় আসে কিশোর গ্যাং সদস্যদের অপতৎপরতার বিষয়টি। কিশোর গ্যাং সদস্য এবং তাদের ‘বড় ভাইদের’ পৃথক তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে পুলিশ। পরে বিভিন্ন সময়ে এই তালিকা কমেবেশি হালনাগাদ করা হয়। তবে পুলিশের ধরপাকড়ের পরও কিশোর গ্যাংয়ের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সেভাবে কমেনি।

এরই মধ্যে গত শুক্রবার রাতে কিশোরদের দ্বন্দ্বে খুন হয় মনসুরাবাদ গণপূর্ত বিদ্যানিকেতনের ছাত্র ফাহিম। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) আবদুল ওয়ারীশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফাহিম হত্যায় জড়িতরা সবাই বয়সে কিশোর, এটা ঠিক। কিন্তু তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কি না সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখনো পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে, ঘটনাটি আকস্মিকভাবে ঘটেছে। পুরো বিষয় নিশ্চিত হতে সময় লাগবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘ফাহিম হত্যার বিষয়টি জানতে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরপর মামুন নামের এক কিশোরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে। ’

ফাহিমের বাবা মো. জহির বলেন, ‘ফাহিম জেএসসি পাস করার পর করোনাকালে ঘরে বসে ছিল। এই সময় কোরআন হেফজ করার জন্য মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলাম। ছেলেটাকে ওরা মেরে ফেলল। ফাহিম কখনোই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তাকে কেন ওরা হত্যা করল, সেটা বুঝতে পারছি না। আমি তাদের বিচার চাই। ’

কিশোর গ্যাং সদস্যদের অপরাধ বিশ্লেষণ করে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যা, ছিনতাই, ফুটপাতে হকার বসানো ও আধিপত্য বিস্তারসহ প্রায় সব ধরনের অভিযোগের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত দুই ডজন খুনের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত বলে তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে আদনান ইসফার, জাকির হোসেন জনি, এম এইচ লোকমান রনি, মোস্তাক আহমেদ, রাজু আহমেদ, নুরুল আলম ও হাশেম খান হত্যায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে চলতি মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চালানো অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ শতাধিক কিশোর অপরাধীকে আইনের আওতায় এনেছে। এই কিশোরদের ছায়া দেওয়া ‘বড় ভাই’ হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।

এই কিশোর গ্যাং সদস্যদের মদদ দেওয়া ‘বড় ভাইদের’ তালিকায় নাম রয়েছে নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর মোস্তফা টিনু, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল, লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রউফ, এসরারুল হক, মো. ফিরোজ, সোলাইমান বাদশা, যুবলীগ নেতা আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, আব্দুল কুদ্দুস ওরফে কানা কুদ্দুস, শফি, জহুরুল আলম জসিম ও হেলাল আকবর বাবরের।

এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর নূর মোস্তফা, আবুল হাসনাত বেলাল ও আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম কোনো কিশোর গ্যাংকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

Bootstrap Image Preview