Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৯ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বার ২০২২ | ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

শ্রীলংকার মতো ঋণের ফাঁদে পড়বে না বাংলাদেশ: এডিবি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২২, ০১:৩৫ PM
আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২২, ০১:৩৫ PM

bdmorning Image Preview


চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হারে বাড়তে পারে জানিয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের ‘সঠিক পথেই’ আছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে। সেই হিসেবে এডিবির প্রাক্কলন কিছুটা কম। অবশ্য বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে এবার বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আর আইএমএফ ৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।   

মহামারীর শুরুর ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে গিয়েছিল ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে, যা তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম। এরপর ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হওয়ার হিসাব দেয় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

বুধবার প্রকাশিত এডিবির প্রতিবেদন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে বলা হয়, বৈদেশিক বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি সঞ্চার হয়েছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস। মহামারীর অভিঘাত সামাল দিতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন এবং রেমিটেন্স প্রবাহও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।  এই ধারা চললে ২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পৌঁছাতে পারে ৭ দশমিক ১ শতাংশে।

অবশ্য প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে মূল্যস্ফীতি ২০২২ সালে পৌঁছতে পারে ৬ শতাংশে।

তাছাড়া আমদানি বৃদ্ধি ও রেমিটেন্স প্রবাহে টান পড়ায় চলতি হিসাবের ঘাটতিও বাড়বে বলে মনে করছে এডিবি। ২০২১ সালে সকারের চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিলো জিডিপির শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ যা ২০২২ সালে বেড়ে জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার বাড়ার ক্ষেত্রে তেল ও আমদানি খাতে মূল্য বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় কমাকে মূল ঝুঁকি হিসেবে দেখানো হয়েছে এডিবির প্রতিবেদনে। ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এডিবির আবাসিক প্রতিনিধি এডিমন গিনটিং বলেন, “অভ্যন্তরীণ সম্পদের গতিশীলতা, পণ্য ও সেবা প্রস্তুতে বেসরকারি খাতে প্রণোদনা, পরিবেশ বান্ধব আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন উৎসাহিত করা, এবং শিক্ষা ও উদ্ভাবন জোরদার করার মাধ্যমে চলমান আর্থ-সামাজিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করা দরকার।”

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সক্ষম অবকাঠামো ও সেবা খাত গড়ে তোলা, জীবাশ্ম জ্বালানিতে কার্বন ট্যাক্স আরোপ ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগকে উৎসাহ দেওয়া হলে জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যবস্থাপনার সমন্বিত ও টেকসই পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধি বর্তমান নীতি উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেবে।

এডিবির ২০২২ সালের আউটলুকে বলা হয়, যেহেতু বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ এবং শিল্পখাতের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে, সেহেতু এ বছর বেসরকারি বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী হবে।পাশাপাশি বড় আকারের তহবিল পাইপলাইনে থাকায় অগ্রাধিকারভিত্তিক বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে সহায়তা বাস্তবায়নে সরকারি বিনিয়োগও বাড়বে।

তবে, রেমিটেন্স প্রবাহে টান পড়ায় ব্যক্তি পর্যায়ের ব্যয় কমতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এডিবি বলছে, দেশের বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ানো, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং প্রণোদনামূলক ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়ন করায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে, তাতে চলতি অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৬ শতাংশ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নের অংশ হিসাবে, প্রতিটি খাত ও উন্নয়ন ইউনিটের জন্য একটি জলবায়ুজনিত ঝুঁকি-জ্ঞান সম্পন্ন মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা উচিত।

মহামারীর আর্থ-সামাজিক প্রভাব ব্যবস্থাপনায় এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে এডিবি এরইমধ্যে বাংলাদেশকে ঋণ আকারে ২২০ কোটি ডলার এবং সহায়তা হিসেবে ৭২৩ কোটি ডলার দিয়েছে।

এছাড়া ২০২২-২০২৪ মেয়াদে বাংলাদেশের জন্য ৮০০ কোটি ডলারের তহবিল যোগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এডিবি, যা প্রয়োজনে ৫৪০ কোটি ডলার বাড়ানো হতে পারে।

বর্তমানে দেশের ৪৬টি প্রকল্পে এডিবির এক হাজার ৫০ কোটি ডলারের তহবিল রয়েছে বলে ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।  

Bootstrap Image Preview