Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৯ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বার ২০২২ | ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

রংপুরের আলু কেনার আগ্রহ জানিয়েছে রাশিয়া

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২২, ১২:১৩ PM
আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২২, ১২:১৩ PM

bdmorning Image Preview
ছবি সংগৃহীত


দেশের সর্ববৃহৎ আলু উৎপাদনকারী এলাকা বলে খ্যাত রংপুর থেকে উন্নত জাতের আলু রফতানি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া , ইন্দোনেশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে আলু রফতানি করা হয়। কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে প্রাথমিকভাবে সাড়ে চার হাজার মেট্রিকটন আলু রফতানির অর্ডার পাওয়া গেছে। সাদা জাতের প্রতিটির ওজন একশ’ গ্রামের উপরে আলু মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের পছন্দ হওয়ায় এ আলু রফতানি শুরু হয়। রফতানি করতে পেরে আলু চাষিরাও খুশি। তারা ভালো দাম পাবে বলে আশা করছেন। 

সরেজমিন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বেলতলি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে আলু চাষিরা শ্রমিক দিয়ে উন্নত মানের বস্তায় আলু বোঝাই করে ট্রাকে আনলোড করছেন। আলু চাষিরা জানান, এবার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বিদেশের চাহিদার কথা চিন্তা করে রংপুর জেলার চারশ’ আলু চাষিকে উন্নত আলু চাষের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়।একইসঙ্গে উন্নত জাতের আলু বীজও সরবরাহ করে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পীরগাছা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন আলু রফতানির অর্ডার পেয়েছি। সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাদা আলুর ব্যাপক চাহিদা। ওদের পছন্দ প্রতিটি আলু একশ’ গ্রামের উপরে হতে হবে। তাদের চাহিদার কথা বিবেবচনা করে আমরা সান্তা, ডায়মন্ড, কুমারিকা, গ্রানুলা, কুম্বিকা এলুয়েট, এস্টারিকস, সানসাইনসহ বিভিন্ন জাতের সাদা আলু উৎপাদনের জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উন্নত জাতের আলু বীজ সরবরাহ করছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সাদা আলুর ব্যাপক চাহিদা থাকলেও পাশের দেশ নেপাল-শ্রীলঙ্কা ও ভুটানে আবার লাল আলুর চাহিদা রয়েছে। তারা সাদা আলু খেতে অভ্যস্ত নয়। ফলে তাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে উন্নত জাতের লাল আলু উৎপাদন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাশিয়াও বাংলাদেশ থেকে আলু কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অচিরেই এ বিষয়ে চুক্তি হবে। ফলে রংপুর থেকেই প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু রফতানি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে আলু চাষিরা জানান, আমরা সাধারণত যে আলু চাষ করি তা মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পছন্দের তালিকায় রয়েছে। আমাদের দেশে ছোট আলু পছন্দ করে, বড় জাতের আলু কিনতে চায় না ক্রেতারা। তবে আলুর ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে আমাদের বিদেশে রফতানিযোগ্য আলু চাষ করতে হবে।

আলু চাষি সাহেব আলী বলেন, আমি ৮ একর জমিতে উন্নত জাতের আলু চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগ বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব কম থাকায় ভালো ফলন হয়েছে। দুইশ’ মেট্রিক টন আলু রফতানি করছেন বলে জানান তিনি। 

এদিকে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আকমল হোসেন বলেন, এবার রংপুর জেলায় রেকর্ড পরিমাণ ৫২ হাজার দুইশ’ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। যা দেশের মোট চাহিদার ২৫ ভাগেরও বেশি পূরণ করা সম্ভব। তবে আমাদের রংপুরে যে আলু চাষ হয় তার মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে চাহিদা নেই। সে কারণে উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কারণে এবার রফতানিযোগ্য আলু উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এ আলু রফতানির মাদ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ তিনি।  

Bootstrap Image Preview