Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৯ বুধবার, জুন ২০২২ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে গেলেন ৩ দেশের প্রধানমন্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২২, ০৮:১৩ AM
আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২২, ০৮:১৩ AM

bdmorning Image Preview
ছবি সংগৃহীত


রুশ বাহিনীর হামলার মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গেলেন ইউরোপের তিনটি দেশের প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার তাঁরা পোল্যান্ড থেকে ট্রেনে চড়ে কিয়েভে যান। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম অন্য কোনো দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁরা কিয়েভে গেলেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের কথা রয়েছে।

এদিকে রুশ বাহিনীর হামলা বাড়ায় কিয়েভে গতকাল রাত ৮টা থেকে ৩৬ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে গতকালও সমঝোতা আলোচনায় বসেছেন ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা। গতকাল রাত ২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আলোচনার ফলাফল জানা যায়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল ন্যাটো জোটের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। ইউক্রেনে নো–ফ্লাই জোন (বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা) ঘোষণা না করায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোটের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, ন্যাটো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী জোট। কিন্তু জোটের কিছু সদস্য রাশিয়ার বশীভূত হয়ে আছে।

এই পরিস্থিতিতে ন্যাটো জোটের তিন সদস্যদেশের প্রধানমন্ত্রীরা গতকাল কিয়েভে যান। তাঁরা হলেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাতেউস মোরাউইকি, চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী পেত্র ফিয়ালা ও স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানেজ জানসা। এই তিন দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও সদস্য।

কিয়েভ সফর নিয়ে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রতি পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের অকুণ্ঠ সমর্থন জানাতে তাঁরা এই সফর করছেন।’ এ ছাড়া সফরে ইউক্রেনের নাগরিকদের জন্য ত্রাণসহায়তা তুলে দেওয়া হবে।

যুদ্ধের মধ্যে তিন নেতার কিয়েভ সফরকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছিল। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ বলছে, তাঁদের নিরাপত্তায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ সহযোগী মিখাল বরজিক জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তিন নেতা জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলবেন।

ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা গত সোমবার ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে চতুর্থ দফা সমঝোতা আলোচনা শুরু করেছিলেন। কারিগরি ত্রুটির কারণে আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল আবার আলোচনায় বসেন তাঁরা। এই বৈঠক চলার মধ্যেই মস্কোতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলার সময় এখনো আসেনি। তিনি বলেন, শান্তি আলোচনার কাজটি খুবই কঠিন এবং বর্তমান অবস্থার ভিত্তিতে বলা যায়, আলোচনা ইতিবাচকভাবেই অব্যাহত রয়েছে।

অপর দিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের একজন উপদেষ্টা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এই শান্তি আলোচনা সফল না হলে রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের হামলা শুরু করতে পারে।

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগদানের ইচ্ছা ইউক্রেনের অনেক দিনের। কিন্তু রাশিয়ার শঙ্কা, প্রতিবেশী ইউক্রেন যদি ওই জোটে যোগ দেয়, তাহলে তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তাই যেকোনোভাবেই হোক ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান ঠেকাতে চায় ক্রেমলিন।

গতকাল সেই বিষয়ই উল্লেখ করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। মস্কোতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসাইন আমির-আদোল্লাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, এই শান্তি আলোচনার উদ্দেশ্যে হচ্ছে ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে নিশ্চিত করা। মস্কো সেটা দেখতে চায়।

ইউক্রেনও ন্যাটোতে যোগদানের আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কথায়। ন্যাটোতে যোগদানের দরজা বন্ধ হলেও তাদের সহায়তা যেন বন্ধ না হয়, সেই আহ্বান গতকাল এক ভিডিও বার্তায় জানান তিনি।

Bootstrap Image Preview