Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২০২২ | ৬ মাঘ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

৭৫ টাকার ইনজেকশন পুশ করে ডাক্তার নেন ‘তিন হাজার’ টাকা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৫১ PM
আপডেট: ১৫ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৫১ PM

bdmorning Image Preview


বরগুনার ডক্টরস কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ৭৫ টাকার ইনজেকশন পুশ করে তিন হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই চিকিৎসকের নাম মো. শিহাব উদ্দিন শিহাব। তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

অভিযোগকারী আবদুর রাজ্জাক জেলার সদর উপজেলার লাকুরতলা এলাকার ও রিয়াজুল ইসলাম সদর উপজেলার কুমড়াখালী এলাকার বাসিন্দা।

নিউজবাংলাকে তারা জানান, শিহাব উদ্দিন বরগুনার কলেজ রোডের ডক্টরস কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে প্রতি মাসে দুইবার রোগী দেখেন। সাইনোকর্ট (Cynocort) নামের একটি ইনজেকশন পুশ করতে তাদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে আদায় করেন তিনি। পরে তারা ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ইনজেকশটির দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।

ওই চিকিৎসকের দাবি, ইনজেকশনটির দাম কম। কিন্তু এটি পুশ করতে সিনিয়র চিকিৎসকরা তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। রোগীর টাকা দেয়ার সামর্থ্য না থাকলে ফ্রিতেও পুশ করা হয়।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার স্ত্রী ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। তার মেরুদণ্ড এবং পায়ে ব্যথা। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে ৬০০ টাকা ভিজিট দিয়ে স্ত্রীকে ডক্টরস কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসক শিহাব উদ্দিনকে দেখাই।

‘ডাক্তার আমার স্ত্রীকে দেখে দুটি এক্স-রে এবং তিনটি রক্তের পরীক্ষা দেন। এ জন্য ১ হাজার ৮০০ টাকা খরচ হয়। ​পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি আমার স্ত্রীকে সাইনোকর্ট (Cynocort) নামের একটি ইনজেকশন পুশ করার কথা বলেন।’

ভুক্তভোগী আরও বলেন, ‘ইনজেকশনটির দাম তিন হাজার টাকা উল্লেখ করে ডাক্তার বলেন, পুশ করার জন্য কোনো চার্জ দিতে হবে না। আমার কাছে টাকা না থাকায় আমি বাহিরে থেকে ইনজেকশনটি কিনে পুশ করতে চাই। এ জন্য ইনজেকশনটির নাম লিখে দিতে বললে তিনি রাজি হননি।

‘ইনজেকশনের জন্য বিকাশের মাধ্যমে টাকা চান তিনি। আমি বিকাশে ডাক্তারের দেয়া নম্বরে তিন হাজার টাকা দেই। এরপর ডাক্তার নিজেই আমার স্ত্রীকে ইনজেকশন পুশ করেন।’

‘পরে আমি ফার্মেসিতে গিয়ে ইনজেকশনটির দাম জেনে অবাক হই। একজন চিকিৎসকের এ কেমন প্রতারণা, তা কিছুতেই বুঝতে পারছি না।’

এই ঘটনায় ওই চিকিৎসকের বিচার চান আবদুর রাজ্জাক।

মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আমি আমার স্ত্রীর বোনকে নিয়ে শিহাব উদ্দিন ডাক্তারের কাছে যাই। তিনি একটি এক্স-রেসহ চারটি টেস্ট দেন। এ টেস্টের জন্য এক হাজার ৭৫০ টাকা খরচ হয়।

‘বেলা ২টার দিকে টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে রোগীকে সাইনোকর্ট নামের ইনজেকশন পুশ করতে হবে বলে জানান। এর দাম জানতে চাইলে তিন হাজার টাকা বলে জানান তিনি।’

রিয়াজুল বলেন, ‘আমি তিন হাজার টাকা দিলে ডাক্তারের টেবিলে থাকা ইনজেকশন ডাক্তার নিজেই পুশ করে দেন। পরে অন্য ফার্মেসিতে গিয়ে জানতে পারি, এই ইনজেকশনের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক মো. শিহাব উদ্দিন শিহাব মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সাইনোকর্ট ইনজেকশনটির দাম কম। বাহিরে এটি ৫-৬ শ টাকায় পুশ করা হয়। তবে এটি পুশ করতে সিনিয়র চিকিৎসকরা তিন হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। আবার গরিব রোগীদের ফ্রিতেও পুশ করা হয়।’

এ বিষয়ে ডক্টরস কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘সাইনোকর্ট নামের ইনজেকশনটির দাম ৭৫ টাকা। এটার দামসহ পুশ করার জন্য ডা. শিহাব উদ্দিন তিন হাজার টাকা নেন।

‘এই ইনজেকশন তার কাছেই থাকে। এই ইনজেকশনের কথা ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করা হয় না। তবে এই টাকার কোনো ভাগ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পায় না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক বলেন, ‘এই ইনজেকশন পুশ করার জন্য ঢাকাতেও ৬-৮ শ টাকা নেয়া হয়। সিনিয়র ও উচ্চ ডিগ্রিধারী চিকিৎসরাও এই ইনজেকশন পুশ করার জন্য এক হাজার টাকার বেশি নেয় বলে জানা নেই।’

এ বিষয়ে বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Bootstrap Image Preview