Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৮ সোমবার, আগষ্ট ২০২২ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

বিএনপি সভাপতিকে ‘রোহিঙ্গা’ বললেন আরেক বিএনপি নেতা

অধরা ইয়াসমিন
প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০১৯, ০৭:৫০ PM
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২২, ০৪:০৮ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেনকে কটাক্ষ করে ‘রোহিঙ্গা’ বলেছেন চন্দনাইশ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আনোয়ার।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেনকে নিয়ে দলীয় ফোরামে চন্দনাইশ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আনোয়ার সমালোচনা করায় নুরুল আনোয়ার ও শাহাদাত হোসেনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে দুই নেতার মধ্যে মুঠোফোনে বাক্যবিনিময়ের সময় শাহাদাত হোসেনকে ‘রোহিঙ্গা’ বলে কটাক্ষ করেন নুরুল আনোয়ার। একপর্যায়ে বাড়ি ভাঙচুর ও হুমকি-ধমকির অভিযোগে শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন নুরুল আনোয়ার।

সোমবার (২৪ জুন) হাইকোর্ট থেকে জামিন পান শাহাদাত। কিন্তু চট্টগ্রাম বিএনপির দুই নেতার বিরোধে অস্বস্তিতে পড়েছেন দলের অন্যান্য নেতারাকর্মীরা।

এ বিষয়ে ১৮ জুন সন্ধ্যায় চন্দনাইশ বিএনপির দ্বন্দ্ব মেটাতে একটি সভা ডাকা হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তার বাসভবনে সভাটি ডাকেন। ওই সভায় শাহাদাত হোসেনের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন নুরুল আনোয়ার।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরদিন ১৯ জুন দুপুরে শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে নুরুল আনোয়ারকে ফোন দিয়ে সমালোচনা করার কারণ জানতে চান। এ সময় দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে নুরুল আনোয়ার শাহাদাত হোসেনকে উদ্দেশ করে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেন। এতে আরও ক্ষুব্ধ হন শাহাদাত।

এর জের ধরে যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতা নুরুল আনোয়ারের চান্দগাঁও এলাকার বাড়িতে যান। তারা শাহাদাত হোসেনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে নুরুল আনোয়ারকে অনুরোধ জানান। এর মধ্যে নুরুল আনোয়ারের ছেলের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন একজন কর্মী। এর জের ধরে কয়েকজন কর্মী নুরুল আনোয়ারের বাড়ির দরজায় আঘাত করেন। ওই রাতেই শাহাদাত হোসেন ও নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন নুরুল আনোয়ার।

এ বিষয়ে নুরুল আনোয়ার বলেন, চন্দনাইশের বিরোধ মেটাতে হলে শাহাদাত হোসেনকে দক্ষিণ জেলার রাজনীতি নিয়ে মাথা না ঘামাতে দলীয় ফোরামে পরামর্শ দিয়েছিলাম। কারণ, শাহাদাত সব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামান। এ জন্য চন্দনাইশ বিএনপির বিরোধ রয়ে গেছে। শাহাদাত পরদিন আমাকে ফোন করে দলীয় ফোরামে দেওয়া বক্তব্যের কৈফিয়ত চান।

এছাড়াও নুরুল আনোয়ার আরও বলেন, ফোনালাপে শাহাদাত আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। আমি তাকে রোহিঙ্গা বলেছি। কারণ, তার বাড়ি চন্দনাইশের যে এলাকায় সেটা রোহিঙ্গা পাড়া। আমি কি ভুল বলেছি? এ জন্য তিনি আমার বাড়িতে যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের পাঠান। ওরা আমার বাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করলে মামলা করি।

অপরদিকে, নুরুল আনোয়ারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেন তাকে ‘মানসিক রোগী’ অভিহিত করে তিনি বলেন, আমি চট্টগ্রাম নগরের সভাপতি। দক্ষিণ জেলা বিএনপির রাজনীতি নিয়ে আমি মাথা ঘামানোর কে? অথচ নুরুল আনোয়ার অপ্রাসঙ্গিকভাবে দলীয় ফোরামে আমাকে টেনে এনেছেন। এ জন্য তাকে জিজ্ঞেস করেছি। কিন্তু এ সময় তিনি আমার সাথে দুর্ব্যবহার করেন।

এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, নুরুল আনোয়ার এর আগে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ২০০৮ সালে চন্দনাইশে বিএনপির প্রার্থী মিজানুল হক চৌধুরীর সঙ্গেও তিনি খারাপ ব্যবহার করেন। এ জন্য ২০১৫ সালে দল থেকে একবার বহিষ্কৃতও হয়েছিলেন নুরুল আনোয়ার।

নুরুল আনোয়ারের বাসায় হামলার অভিযোগের বিষয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার কারণে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা আনোয়ারের বাসায় যান। তিনি যেন দুঃখ প্রকাশ করেন, সে জন্য কথা বলতে গিয়েছিলেন। অথচ তার বাসায় আমার নেতৃত্বে নাকি হামলা হয়েছে উল্লেখ করে থানায় আমার বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করেন তিনি।

এছাড়াও শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় কেন্দ্রীয় ও জেলার অনেক নেতা বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানান।

Bootstrap Image Preview