Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৯ মঙ্গলবার, নভেম্বার ২০২২ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

অবহেলার দিন শেষ; বাংলাদেশের উপর নজর দেয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৯, ০৫:৩৪ PM
আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৯, ০৫:৩৪ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


বাংলাদেশকে অবহেলা করার দিন শেষ যুক্তরাষ্ট্রের। যেসব দেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নজর দেয়া উচিত সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ওয়াশিংটন সেভাবে নজর দিচ্ছে না। এমনই এক প্রতিবেদন উঠে এসেছে দ্য ডিপলোমেট ম্যাগাজিন এ।

বাংলাদেশের গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেত্রী শেখ হাসিনা। এই বিজয়ের ফলে তিনি টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তা স্বত্ত্বেও এই ঘটনা যথাযথভাবে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিগোচর হয়নি।

মার্কিন পণ্য রফতানির ক্ষেত্রেও হয়তো বাংলাদেশ প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়নি বা আমেরিকায় চাকরি পেতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নজরও কাড়তে পারেনি। কিন্তু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়া, সন্ত্রাসের বিস্তার রোধ এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়াসহ বেশ কিছু বিষয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের বাংলাদেশের নীতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

যদিও দেশটিতে কিছু পরিবর্তন এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তা অব্যাহত রাখতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হাউস ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটি।

বিশ্বজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন আয়রন লেডি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বাংলাদেশের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য শেখ হাসিনাকেই সেরা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।

প্রথমত, ২০১৮ সালে তার শাসনামলেই জিডিপি ছিল সর্বোচ্চ। সে সময়ে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি অর্জন করে যা দক্ষিণ এশিয়ার যে কোন দেশের চেয়ে বেশি ছিল। জাপানের নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ সম্প্রতি বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে সফল দেশগুলোর তালিকায় রেখেছে বাংলাদেশকে।

দ্বিতীয়ত, রাজধানী ঢাকার হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছিল জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট। ভয়াবহ ওই হামলার পরেও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে রোধ করতে সক্ষম হয়েছেন শেখ হাসিনা। বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হুমকিও সফলভাবে দমন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

তৃতীয়ত, দ্ব্যর্থহীন কূটনৈতিক জ্ঞান নিয়ে আর্বিভূত হয়েছেন শেখ হাসিনা। কারণ চীন এবং ভারতের কাছে কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্রের এই দেশকে একটি স্বতন্ত্র পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এছাড়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের নেতাকে লজ্জায় ফেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশ কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে মাথা গোজার ঠাঁই করে দিয়েছে।

এসব কারণে বাংলাদেশের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হওয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে অর্থনীতিতে শীর্ষে থাকা ৩০ দেশের একটি হয়ে উঠবে।

রফতানির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্বতন্ত্র বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। এতে করে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও জোরালোই হবে না বরং সেই সাথে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের আধিপত্য কমতে শুরু করবে।

তাই বলা যায় যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক জোরদার করা উচিত। এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, উন্মুক্ত বাজার, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মানের মাধ্যমে দুটি গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্জন সহজেই সম্ভব হয়। এসব বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের গণতান্ত্রিক নীতি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও বেশি অংশ গ্রহণে উৎসাহিত করা উচিত ওয়াশিংটনের।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়ে আসছে৷ এরপর বিভিন্ন সময়ে এই সম্পর্কে যোগ হয়েছে নানা মাত্রা৷ বর্তমানে দেশটি বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি-গন্তব্য এবং রেমিটেন্সের অন্যতম উৎস৷

স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ নতুন দেশটির উন্নয়নে অংশীদারিত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়েও যায় তারা৷ ইউএসএইড-এর মতে, বর্তমানে তাদের অন্যতম বৃহৎ ‘ফরেন এইড মিশন’ রয়েছে বাংলাদেশে৷ অবশ্য শেভরন, কনকো ফিলিপের মতো জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের নিয়ে দেশে ব্যাপক সমালোচনাও রয়েছে৷

একক দেশ হিসাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যে আবার আমদানি-রপ্তানির হিসাব বাংলাদেশের অনুকূলে রয়েছে৷ গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রপ্তানির মধ্যে ৬ বিলিয়নই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে৷

২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রবাসী আয়ের ১ হাজার ৫৩২ কোটি মার্কিন ডলারের যে রেকর্ড হয়, তার মধ্যে ২৩৮ কোটি ডলারই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে৷ দীর্ঘদিন যাবত দেশটি বাংলাদেশর প্রবাসী আয়ের শীর্ষ ৫ দেশের মধ্যে থাকছে৷

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৩ হাজার কোটি টাকার পণ্য রফতানি করা হয়েছে। বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার জার্মানিতে গত বছর রফতানি হয়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা।

অদূরে চীন, পাশেই ভারত৷ সীমান্ত রয়েছে চীনের দীর্ঘদিনের মিত্র মিয়ানমারের সঙ্গেও৷ ভূ-কৌশলগত অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব পায় বড় শক্তিগুলোর কাছে৷ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ স্বল্প উন্নত দেশগুলোর পক্ষে ভূমিকা রেখেও আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে৷

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে বড় একটা জায়গা জুড়ে থাকে দেশটির গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি৷ বাংলাদেশে নিয়োগ পাওয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রায়ই এটা নিয়ে কথা বলতে বা সক্রিয় হতে দেখা যায়৷

সূত্র : দ্য ডিপলোমেট

Bootstrap Image Preview