Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৯ মঙ্গলবার, নভেম্বার ২০২২ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

প্রধানমন্ত্রীর কাছে যুক্তফ্রন্টেরও ৭ দাবি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৫ PM
আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৫ PM

bdmorning Image Preview


নির্বাচন সামনে রেখে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সংলাপে বসেছে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট।

শুক্রবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার পর গণভবনে পৌঁছান যুক্তফ্রন্ট। ৭টা ৪৪ মিনিটে এ সংলাপ শুরু হয়।

যুক্তফ্রন্টের নেতারা গণভবনে ঢুকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর তারা ব্যাংকোয়েট হলে ঢুকে নির্ধারিত আসনে বসেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূচনা বক্তব্যের পর যুক্তফ্রন্টের পক্ষে প্রস্তাবনা ও পরামর্শ তুলে ধরেন বি. চৌধুরী।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা জোট থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দিয়ে একটি সন্তোষজনক নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। নির্বাচনে সকল প্রকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার অথবা বর্তমান সরকারের নির্বাচন বিষয় সংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করা যেতে পারে।

এ সময় যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে জাতীয় সরকার গঠনেরও প্রস্তাবনা দিয়ে বলা হয়, প্রয়োজনে এক দিনের জন্য হলেও সংসদ ডেকে জাতীয় সরকার গঠন করা যেতে পারে। পরে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে ৭টি দাবি তুলে ধরা হয়।

দাবিগুলো হলোঃ

১. নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অর্থাৎ সবার জন্য সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। সম্ভব না হলে নিষ্ক্রিয় করতে হবে। এজন্য নিম্ন লিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে হবে— ক) নির্বাচনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কর্মচারীদের নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে। খ) নির্বাচন কমিশন ১০০% রাষ্ট্রপতির অধীনস্থ করতে হবে। গ) তফসিল ঘোষণার পর এমপিরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো প্রকল্প উদ্বোধন/প্রতিশ্রুতি যাতে না দিতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনীয় আইন করে মন্ত্রী ও এমপিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করতে হবে।

২. সরকারি দলের প্রার্থীদের বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার অপসারণ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. নির্বাচনকালীন সরকার চাই। জাতীয় সরকার গঠন: প্রয়োজনে এক দিনের জন্য সংসদ ডেকে জাতীয় সরকার গঠন করা যেতে পারে। অথবা মন্ত্রিপরিষদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা জোট থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় প্রদান করেও একটি সন্তোষজনক নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। নির্বাচনে সকল প্রকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার অথবা বর্তমান সরকারের নির্বাচন বিষয়ে সম্পূর্ণ ক্ষমতা সীমিত করা।

৪. আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী আমাদের জন্য গর্বের। তারা বিভিন্ন দেশে নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধ ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ সুনামের সঙ্গে করে আসছে। সুতরাং নির্বাচনের আগে ও পরে যাতে শান্তিশৃঙ্খলার বিঘ্ন না ঘটে, সেহেতু আমাদের প্রস্তাব— ক) আমাদের প্রিয় সেনাবাহিনীকে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে এবং নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর পর্যন্ত মোতায়েন করতে হবে। খ) নির্বাচনের দিন সেনাবাহিনীকে সীমিত ক্ষমতা দিতে হবে যেমন: আটক রাখার ক্ষমতা ও তাদের ভোট কেন্দ্রে থাকতে দিতে হবে, যাতে করে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় এবং ভোটাররাণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।

৫. ইভিএম: আধুনিক এবং বিজ্ঞানমনস্ক নির্বাচনে আমাদের অনেক আগ্রহ আছে। কিন্তু, ইভিএম সম্পর্কিত যে সকল প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা অর্জন প্রয়োজন, তা আমাদের নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথেষ্ট নেই। সেজন্য আমরা এই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার সঠিক হবে না বলে মনে করি।

৬. নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কারণে আটক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।

৭. নির্বাচন সম্পর্কিত মামলা নির্বাচনের পর এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় আইন শিগগিরই প্রণয়ন করতে হবে।

সংলাপে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের যে ২৩ নেতা উপস্থিত রয়েছেনঃ

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, ড. আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আবদুর রহমান, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাসদের একাংশের সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল।

সংলাপে যুক্তফ্রন্টের যে ২১ নেতা উপস্থিত রয়েছেনঃ

ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, গোলাম সারোয়ার মিলন, আবদুর রউফ মান্নান, ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ ইউসুফ, সহ-সভাপতি মিসেস মাহমুদা চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, সহ-সভাপতি মাহবুব আলী, সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি জেবেল রহমান গাণি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, বিএলডিপি সভাপতি নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, মহাসচিব অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন খান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, জাতীয় জনতা পার্টির সভাপতি শেখ আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ জনদলের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ইউনাইটেড মাইনরিটি ফ্রন্টের চেয়ারম্যান দীলিপ কুমার দাস, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী, সাবেক এমপি মজহারুল হক শাহ চৌধুরী ও এনডিপি’র মহাসচিব মো. মাযহারুল হোসেইন ঈসা।

সংলাপ শেষে রাতে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বারিধারার বাসায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হবে বলে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর বিকল্পধারার চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী সংলাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেন। এরপর গণভবনে শুক্রবার সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ।

বৃহস্পতিবার বিকল্পধারা সংলাপের জন্য দলের নেতাদের তালিকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে দেন। চিঠিটি সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে পৌঁছে দেন বিকল্পধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক।

এ দিকে গণভবনে নৈশভোজে সাদা ভাত, লাল আটার রুটি, ফুলকপি, সিম, আলু ভাজি, যেকোনো মাছের ঝোল ও মসুরের ডাল রখার জন্য বি. চৌধুরীর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

Bootstrap Image Preview