Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৫ বুধবার, অক্টোবার ২০২২ | ২০ আশ্বিন ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

ইবির চিকিৎসা কেন্দ্রে সব রোগের মহাঔষধ প্যারাসিটামল 

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:০৬ PM
আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:০৬ PM

bdmorning Image Preview


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে যে কোন রোগের চিকিৎসার জন্যে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসকরা প্যারাসিটামল (টামেন) ও এন্টাসিড  ট্যাবলেট দেন এবং সন্ধ্যার পরে যে কোন রোগের চিকিৎসায় শুধু ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও ল্যাব থেকে ভূল রির্পোট প্রদান, ১ মিনিটে রোগী দেখে চিকিৎসা প্রদান, রক্তচাপ ও শরীরের তাপমাত্রা চেক না করে জ্বরের চিকিৎসা প্রদান, কথায় কথায় এনটিবায়োটিক ব্যবহার ও চিকিৎসকদের অফিস ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে।

রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল রানা বলেন, আমি যত দিন চিকিৎসা কেন্দ্রে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গেছি, তত দিন আমাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক কোন প্রকার পরীক্ষা নিরিক্ষা না করেই প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দিয়েছে। আমার মনে হয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তাররা সকল রোগের মহাঔষধ হিসেবে প্যারাসিটামল ট্যাবলেটকে জানেন।

সম্প্রতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ প্রচন্ড জ্বর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র যায়। তাকে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ও সেফটি পিন দেয় কর্তব্যরত চিকিৎসক। দুই দিনেও জ্বর আগের অবস্থায় থাকে। চিকিৎসা কেন্দ্রে গেলে টাইফয়েট ও জন্ডিস পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয় চিকিৎসক। ল্যাবের রির্পোটে জন্ডিস ধরা পড়ে সে অনুযায়ী চিকিৎসক দিনে দুইটি করে এনটিবায়োটিক ট্যাবলেট দেয়।

এরপরে ও রোগের কোন উন্নতি না হলে ওই শিক্ষার্থী তার বাসা রাজশাহী যায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক তার শরীরে জন্ডিসের কোন আলামত নেই বলে নিশ্চিত করে। দিনে দুইটা করে এনটিবায়োটিক ট্যাবলেট দেয়াকে অযৌক্তিক দাবি করে। পরে ওই চিকিৎসকের পরামর্শে সাব্বির আহমেদ সুস্থ হয়।

সাব্বির বলেন, আমি যখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকের কাছে জন্ডিসের জন্যে দিনে দুইটি করে এনটিবায়োটিক ট্যাবলেটের প্রেসক্রিপশন দেখাই তখন ওই চিকিৎসক বলেন, কোন গরুর ডাক্তার এই চিকিৎসা দিয়েছে। 

দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মানিয়ারা খাতুন প্রচন্ড জ্বর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র যায়। চিকিৎসক তার চিকেন পক্স হয়েছে বলে চিকিৎসক নিশ্চিত করে। চিকেন পক্সের চিকিৎসা হিসেবে তাকে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ও এন্টাসিড  ট্যালেট দিয়ে বাসায় চলে যেতে বলে চিকিৎসক।

মানিয়ারা বলেন, ডাক্তার আমাকে শুধু প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ও এন্টাসিড  ট্যালেট দিয়েছে। চিকেন পক্সের কোন চিকিৎসা দেয়নি।

সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র গেলে দেখা যায়, সকাল ৯টায় ক্যাম্পাস শুরু হলেও চিকিৎসকরা ক্যাম্পাসে আসেন ১১টার বাসে। দুপুরের খাবারের সময় নির্ধারণ না থাকায় অঘোষিত বিরতি চলে দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত। এছাড়াও সাড়ে ৪টায় ক্যাম্পাস বন্ধ হলেও ৪টা থেকে উধাও হয়ে যান চিকিৎসকরা এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থী নাসিম বলেন, অসুস্থতার কারণে আমি প্রায় ক্লাস পরীক্ষা শেষ করে মেডিকেলে যাই, দুপুর ১টার দিকে কোন দিন ডাক্তার পাইনি। জানতে চাইলে বলে নামাজে গেছে অথবা দুপুরের খাবার সময় চলে এখন।

আইন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মাথিন মীম বলেন, আমি কয়েক দিন আগে প্রচন্ড ঘাড়ের ব্যাথা নিয়ে মেডিকেলে গিয়েছিলাম, সেখানে ডাক্তার আমার রক্তচাপ পরীক্ষা না করেই ঔষুধ লিখে দেন।

এদিকে সন্ধ্যার পরে জরুরী চিকিৎসায় বমি, মাথা ব্যাথা, এলার্জি, শর্দি, কাশিসহ ছোট খাটো সব রোগের চিকিৎসায় ইঞ্জিকশন ব্যাবহার করা হয়। বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফাতেমা আন্নি বলেন, গতপরশু রাতে হলে সিড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময় মাথা ঘুরে পড়ে যাই, পরে আমার বান্ধবীরা মেডিকেলে নিয়ে আসলে আমাকে শুধু ইঞ্জিকশন দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে তা সত্যই, এটাতো পূণার্ঙ্গ হাসপাতাল না প্রথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যে ওষুধ-পাতি সেগুলা আমাদের আছে। সন্ধ্যার পরে ছোট খাটো রোগের চিকিৎসায় ইঞ্জেকশন ব্যবহারের বিষয়ে বলেন, অভিযোগটি আমি আগেও পেয়েছি, সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে যাদের ইঞ্জেকশন দেওয়ার মত তাদেরকে ইঞ্জেকশন দিবেন। ল্যাব থেকে ভূল রির্পোট প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, রির্পোট ভূল হইতে পারে অস্বীকার করার কিছুই নাই, ভুলের উদ্ধে তো মানুষ না, ভূল হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না, বড় ধরণের ভূল হওয়া খারাপ, তবে ভূল না করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। 

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন উর রশিদ আশকারী বলেন, বিষয়গুলো আমি খতিয়ে দেখবো এবং অবস্থার উন্নয়নের চেষ্টা করবো অতি শীঘ্রই।

Bootstrap Image Preview