Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৩ শনিবার, আগষ্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

ফাদার রিগনের মরদেহ ঢাকায় আসছে আগামীকাল

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:২৯ PM
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৩৭ PM

bdmorning Image Preview
ফাইল ছবি


‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রাপ্ত ও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জনকারী ইতালির খ্রিস্ট ধর্মযাজক ফাদার মারিনো রিগনের মরদেহ আগামীকাল ২১শে অক্টোবর ইতালি থেকে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার অনুবিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদান রাখাসহ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এই মহান ব্যক্তি ২০১৭ সালের ২০শে অক্টোবর ইতালিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলাদেশ সরকার তাঁর শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশের মাটিতে তাঁরই স্থাপিত বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া চার্চের পার্শ্বে সমাধিস্থ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে।

ফাদার মারিনো ১৯২৫ সালের ৫ ফ্রেব্রুয়ারি ইতালির ভেনিসের অদূরে ভিন্নাভেরলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। একজন খ্রিস্ট ধর্মযাজক হিসেবে তিনি ১৯৫৩ সালে বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে অবশেষে তিনি মংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে একটি চার্চ ও একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঐ গ্রামেই তাঁর স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ছিল তাঁর অকুণ্ঠ সমর্থন। যুদ্ধ চলাকালীন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য নিজের প্রতিষ্ঠিত চার্চে গোপনে একটি চিকিৎসাক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন। তাঁর এই ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা নিয়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা সুস্থ হয়ে পুনরায় রণাঙ্গনে ফিরে গেছেন। তাঁদের মধ্যে বিখ্যাত হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীরবিক্রমও ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে ফাদার মারিনো রিগনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে এবং ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে।

বাংলাদেশে বসবাসের পর থেকে তিনি বাংলা ভাষা শিখতে শুরু করেন এবং বাংলা সাহিত্যের প্রতি তাঁর কৌতূহল ও নিবিড় ভালোবাসার জন্ম হয়।

তিনি রবীন্দ্রনাথের রচনাবলি, লালনের সংগীত ও দর্শনের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন। তাঁর মাধ্যমে ইতালিয়ান ভাষায় অনূদিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলিসহ প্রায় ৪০টি কাব্যগ্রন্থ, জসীম উদ্দীনের নক্সিকাঁথার মাঠ ও অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ, লালনের গানসহ অসংখ্য সাহিত্য।

বাংলাদেশের এই অকৃত্রিম বন্ধুর শেষ ইচ্ছা পূরণ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের মহিমাকে সমুজ্জ্বল রাখার আরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। 

Bootstrap Image Preview