Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৩ শনিবার, আগষ্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

খাশোগিকে হত্যার কথা সৌদি স্বীকার করলেও রয়েছে অসঙ্গতি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:০২ PM
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:০২ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে। সৌদি সরকার শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি রাজতন্ত্রের সমালোচক খাগোসিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। শনিবার (২০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকালে সৌদির জেনারেল প্রসিকিউটর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশটি জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘হাতাহাতিতে’ জড়িয়ে পড়েন খাশোগি। এসময় তিনি নিহত হন। এই ঘটনায় প্রশাসনের প্রতি আন্তর্জাতিক অনুগ্রহ বজায় রাখতে ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছে সৌদি।

তবে তাতে শেষ রক্ষা হচ্ছে না সৌদির সরকারের। কারণ এই স্বীকারোক্তিতে আছে নানা অসঙ্গতি। তাদেরকে মুখোমুখি হতে হবে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের। যার মাধ্যমে অনেক চরম সত্য তাদের প্রকাশ করতে হবে।

গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজ আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি খাশোগি। এরপরই তুরস্ক অভিযোগ করে তাকে দূতাবাসের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। তবে তুরস্কের এমন অভিযোগ শুরুতে পুরোপুরি অস্বীকার করে সৌদি। প্রথমে সৌদির পক্ষ থেকে বলা হয়, দূতাবাসের কাজ শেষ করে খাশোগি চলে গিয়েছেন। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি দেশটি।

এরপর এ বিষয়ে সৌদির কড়া সমালোচনায় লিপ্ত হয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এছাড়া একের পর এক প্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ হয় বিশ্ব গণমাধ্যমে। সবশেষে আন্তর্জাতিক প্রচণ্ড চাপের মুখে শুক্রবার খাশোগি হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি।

তবে সৌদির পক্ষ থেকে যে স্বীকারোক্তি দেয়া হয়েছে তা পুরোপরি সত্য নয়। কারণ খাশোগিকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করা হয়েছে। যার প্রমাণ রয়েছে তুরস্কের হাতে। তবে এবার প্রশ্ন আসতে পারে হাতাহাতিতে নিহত হলে তার মৃতদেহ কেন টুকরো টুকরো করা হলো? এতদিন কেন সত্যটা প্রকাশ করা হয়নি? খাশোগির মৃতদেহ কোথায়?

এমন প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে দিতে পারবে না সৌদি। এছাড়া এই হত্যায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করা হয়েছে। বরং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত থাকার অভিযোগে যদি তাদের গ্রেপ্তার করা হয় তবে তাদের হুকুমদাতা কে তাও প্রকাশ করতে হবে সৌদিকে। কিন্তু এটি প্রকাশ করতে গেলেই বেরিয়ে আসতে পারে থলের বেড়াল।

শোনা যাচ্ছে, মোহাম্মদ বিন সালমানকে সরিয়ে দিয়ে তার ভাইকে উপ যুবরাজ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। তবে সেটি কতটুকু সত্য তা নিশ্চিত হতে পারেনি কোনো গণমাধ্যম। ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, ক্রাউন প্রিন্স যদি তার গদি না হারান। তবুও তার সংস্কার নীতি, একাধিপত্বের অনেকখানি হারিয়ে ফেলবেন তিনি। আন্তর্জাতিক মহলে আগে প্রশংসা পেলেও এ ঘটনার পর তার অবস্থান অনেকটা নড়বড়ে হবে বৈ কী!

Bootstrap Image Preview