Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৭ সোমবার, জুন ২০২২ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

ঘূর্ণিঝড় তিতলির পরে ‘গাজা’

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:২০ PM
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:৩১ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


ঘূর্ণিঝড় তিতলির তাণ্ডবে ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে প্রদেশের শ্রীকাকুলাম ও বিজয়নগরাম জেলায় ঘূর্ণিঝড় তিতলি আঘাত হানলে অন্তত ৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিবহণ ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের পার্শ্ববর্তী উড়িষ্যায় আঘাত হানে তিতলি। এ সময় ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটারের বেশি বেগে বাতাসের পাশাপাশি ভারি বৃষ্টিপাত হয়।

এমন ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের একেকটির নামকরণ করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক কমিটি। যেমন: ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ করে এই সংস্থার আটটি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ওমান।

এসব দেশের প্রস্তাব অনুসারে একটি তালিকা থেকে একটির পর একটি ঝড়ের নামকরণ করা হয়। যেমন তিতলির নামকরণ করেছে পাকিস্তান। তিতলি শব্দের অর্থ প্রজাপতি।

এরপরের ঝড়টির নাম হবে গাজা, থাইল্যান্ডের প্রস্তাব অনুসারে। এ ছাড়া এ অঞ্চলের জন্য আরও ৯টি ঘূর্ণিঝড়ের নাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেগুলো একেক করে একেকটি ঝড়ের নাম দেয়া হবে।

গাজার পর আসবে ফেতাই, এ নামটি শ্রীলঙ্কার দেয়া। এরপর আসতে থাকবে- ফানি (বাংলাদেশ), ভায়ু (ভারত), হিকা (মালদ্বীপ), কিয়ার (মিয়ানমার), মহা (ওমান), বুলবুল (পাকিস্তান), পাবান (থাইল্যান্ড), আম্ফান (শ্রীলঙ্কা)।

এদিকে গতকাল এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় তিতলি ছাড়াও এই একই সময়ে বিশ্বে আরও দু’টি ঘূর্ণিঝড় সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এরমধ্যে ঘূর্ণিঝড় মাইকেল যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হেনেছে আর ভারতেই আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় লুবান।

সবমিলিয়ে এ বছরের দশ মাসেই ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০টির বেশি ঝড়ের মুখে পড়তে হয়েছে এ পৃথিবীকে। আশঙ্কা রয়েছে, বছরের বাকি দু’মাসে কেবল প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতেই সাত থেকে ১১টি সাইক্লোন তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে তিন থেকে চারটি হবে বড় ধরনের।

এসব ছাড়াও ভূমিকম্প, বনের আগুন, ভূমি ধস এবং বন্যার ঘটনা তো রয়েছেই।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ঝড়ের নামকরণ শুরু হয়। কখন, কোথায়, কোন ঝড় হয় তা নিয়ে বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য এ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়। বেশির ভাগ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয় নারীদেরকে ঘিরে। যেমন- নার্গিস, বিজলী, রেশমী, ক্যাটরিনা। কিন্তু পুরুষের নামে প্রথম যে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়েছিল, সেটা ছিল প্রায় ৩০০ বছর আগে শ্রীলংকার মহাপরাক্রমশালী রাজা মহাসেনের নামে।

কারণ, অবস্থান এবং ঋতুবৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ট্যের কারণে যেসব এলাকায় মাঝে মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে থাকে তার মধ্যে শ্রীলংকা অন্যতম।আবহাওয়া স্টেশনগুলো থেকে সংগৃহীত ঝড়ের তথ্য সবাইকে জানানো, সমুদ্র উপকূলে সবাইকে সতর্ক করা, বিভিন্ন সংকেত এবং জলযানগুলোর জন্য ঝড়ের খবর খুব সহজভাবে আদান-প্রদান করার জন্যই মূলত ঝড়ের নামকরণ করা হয়ে থাকে। নামকরণ করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অধীনে বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এই আঞ্চলিক কমিটি তৈরি করে সমুদ্রের ওপর ভিত্তি করে।

Bootstrap Image Preview