Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ সোমবার, আগষ্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

সৌদি কনস্যুলেটে আসলেই কি খুন হয়েছেন সাংবাদিক জামাল খাসোগি?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০৫:১৬ PM
আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০৫:১৬ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে নতুন নতুন গুঞ্জন দানা বাঁধছে। বিশ্ব গণমাধ্যমে বিভিন্ন খবর প্রকাশ পাচ্ছে। কেউ বলছে, তিনি খুন হয়েছেন। আবার কেউ বলছে, গুম হওয়া সাংবাদিক জীবিত আছেন। তুরস্কও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছে।

তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেট থেকে তাকে গ্রেফতার করে বিমানে উড়িয়ে রিয়াদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে খাসোগিকে নিয়ে এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল জানায়, কনস্যুলেট থেকে বের হওয়ার পর একটি কালো মার্সিডিস এস-৫০০ ও একটি সাদা মিনিভ্যানে করে চার সৌদি কর্মকর্তা খাসোগিকে তুলে নেন। সেখান থেকে তাকে বিমানে করে দুবাই হয়ে সৌদি আরবের রিয়াদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গাল্ফ স্ট্রিম আইভি প্রাইভেট জেট বিমানের ফ্লাইট রেকর্ড অনুসারে, ২ অক্টোবর বিকাল ৩টার দিকে একটি জেট বিমান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবতরণ করে। বিমানটির টেইল নাম্বার এইচজেড-এসকে২।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে। সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের ‘দুই ঘণ্টার’ মধ্যেই খুন করা হয় তাকে। এ খুনের জন্য ১৫ জনের একটি দল নিয়োগ দিয়েছিল সৌদি আরব।

এদিকে, সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগির সন্দেহজনক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ১৫ ব্যক্তির নাম এবং ছবি প্রকাশ করেছে তুরস্কের একটি পত্রিকা। ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগিকে হত্যার পর এই ব্যক্তিরা তুরস্ক ছেড়ে চলে যায়। খবর পার্সটুডের।

মঙ্গলবার তুরস্কের ‘ডেইলি সাবাহ’ খাশোগির হত্যাকাণ্ডে জড়িত সৌদি নাগরিকদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি বলেছে, ওই ব্যক্তিরা দুটি ব্যক্তিগত বিমানে করে রিয়াদ থেকে ইস্তাম্বুলে আসে।

গত ২ অক্টোবর যেদিন খাশোগি সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন একই দিন তারাও সেখানে প্রবেশ করে। এসব ব্যক্তি কনস্যুলেটে যাওয়ার আগে নিকটবর্তী দুটি আন্তর্জাতিক হোটেলে ওঠেন। কনস্যুলেটের অপারেশন শেষ করে ওইদিনই তারা তুরস্ক ত্যাগ করেন। খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এসব সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এখন খুঁজছে বলেও সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে।

তুরস্কের উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মনে করেন, খাসোগিকে খুন বা অপহরণের জন্য আগে থেকেই কনস্যুলেটে অপেক্ষমাণ ছিল সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় কিলিং স্কোয়াড বা খুনি বাহিনী। তারা সেদিন ঘাঁপটি মেরে অপেক্ষায় ছিলেন কখন খাসোগি হাজির হন। কনস্যুলেটে এটা ছিল তার দ্বিতীয় প্রবেশ। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ চূড়ান্ত করতে এর আগে আরও এক দফায় সেখানে গিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে, সন্দেহভাজন হিসেবে ১৫ জনের একটি গোয়েন্দা দলের নাম প্রকাশ করেছে তুরস্কের সংবাদপত্র। বুধবার সরকার সমর্থিত সংবাদপত্র সাবাহ সন্দেহভাজন এসব সৌদি নাগরিকের নাম ও জন্ম তারিখ প্রকাশ করে। তবে কীভাবে তারা এসব তথ্য হাতে পেয়েছে তা জানায়নি সংবাদপত্রটি। খাসোগির কনস্যুলেটে প্রবেশের দিনেই ১৫ জন সৌদি নাগরিকের একটি দল ইস্তাম্বুলে পৌঁছায়। পরে চারটি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তারা তুরস্ক ছেড়ে যায়।

এদিকে এ ঘটনার তদন্তের সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র মিডলইস্টআই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ ইউনিটের সদস্য। এদের একজন সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেও ওই সূত্রটি জানিয়েছে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরিমি হান্ট লন্ডনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন এবং নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাশোগির বিষয়ে অবিলম্বে যথোপযুক্ত জবাব চেয়েছেন। এরপর তিনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আয-জোবায়েরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং খাশোগির নিখোঁজের ঘটনায় রিয়াদকে সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য, ৫৯ বছর বয়সী খাশোগি ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে কাগজপত্র ইস্যু করার জন্য প্রবেশ করেন। কিন্তু তার পরিবার ও বন্ধুবান্ধব এবং তুরস্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, সে কনস্যুলেট থেকে আর বের হননি।

সিনিয়র এই সাংবাদিক সৌদির শীর্ষ কর্মকর্তাদের একজন উপদেষ্টাও ছিলেন। কিন্তু গেল বছর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতার মূলকেন্দ্রে চলে আসায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন।

Bootstrap Image Preview