Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৭ সোমবার, জুন ২০২২ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

জন্মদিনে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ শুনলেন বাবর

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:১৯ PM
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:১৯ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় করা হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ অক্টোবর) সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত ঢাকার ১নং অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট বাংলাদেশে সরকার গঠন করার পর যে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবল ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন, তাদের মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর ছিলেন অন্যতম।

আমিনুর রশিদ এবং মোস্তফা ফিরোজ সম্পাদিত 'প্রামাণ্য সংসদ' বইয়ে দেওয়া আছে- আসামি, প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ১৯৫৮ সালের ১০ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। আজ সেই ১০ অক্টোবর জন্মদিনে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হলো। এ ছাড়া তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এইচএসসি পর্যন্ত।

প্রথমবারের মতো ১৯৯১ সালে নেত্রকোনা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাবর। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০০১ সালে নেত্রকোনার একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

প্রসঙ্গত, বুধবার (১০ অক্টোবর) ১১টার ৩৭ মিনিটে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত ঢাকার ১নং অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন এ রায় পড়া শুরু করেন। এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কারাগার থেকে ৩১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আলোচিত এ মামলায় ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আরও ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

রায়ে সাজাপ্রাপ্ত ৪৯ জন আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন ৩১ জন। কারাগারে থাকা ৩১ আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সামরিক গোয়েন্দা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক আবদুর রহিম, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আশরাফুল হুদা, পুলিশ কর্মকর্তা শহুদুল হক, খোদা বক্স চৌধুরী, বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, আব্দুর রশীদ, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ, জঙ্গি সংগঠন হুজির সদস্য আবু বক্কর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, শাহদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মহিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ড. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ও হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া।

পলাতক ১৮ আসামি হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. হানিফ, ডিএমপির সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান, ডিএমপির সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, হুজি সদস্য মাওলানা তাজউদ্দিন, মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন, খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, ইকবাল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে দোলোয়ার হোসেন ওরফে জুবায়ের, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও রাতুল আহম্মদ বাবু।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. তাজউদ্দিন, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. মাজেদ ভার্ট, আব্দুল মালেক, মহিবুল্লাহ ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ, আবুল কালাম আজাদ, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন মো. তামিম, মঈনুদ্দিন শেখ, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন, মো. লুত্ফুজ্জামান বাবর, মেজর জে. রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রি. জে. (অবঃ) আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ আবদুস সালাম পিন্টু ও মো. হানিফ।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন- শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান সুমন, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বকর, মো. আরিফুল ইসলাম, মুহিবুল মুক্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন, খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল, তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জেল কায়কোবাদ, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই ও রাতুল আহমেদ বাবু।

 

Bootstrap Image Preview