Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৭ সোমবার, জুন ২০২২ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

সেই 'হাওয়া ভবন' এখন কোথায়?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০১:৪৪ PM
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০১:৪৪ PM

bdmorning Image Preview


বনানী ১৩ নম্বর রোডের ‘ডি’ ব্লকের ৫৩ নম্বর ভবনের প্রধান ফটক। এক সময় ভবনটি পরিচিত ছিল হাওয়া ভবন নামে। এর নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক জনের কাছে এই ভবনটি হাওয়া ভবন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আগে ছিল, এখন আর নেই। এ বিষয়ে আমাকে আর কোনো প্রশ্ন করবেন না।’

এ সময় তিনি আরেক জনকে দেখিয়ে দেন তাঁর নাম মোহাম্মদ সায়মন, ভবনের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও ‘হাওয়া ভবন’ নামটি শুনে চমকে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘এখানে হাওয়া ভবন-টবন নেই। অনেক আগে যে পুরাতন ভবনটি ছিল তার নাম ছিল হাওয়া ভবন। ভবনটি ঘুরে দেখতে চাইলে তিনি এক বাক্যে না করে দেন।

কিছুক্ষণ তিনি চুপ থেকে আবার বলেন, ‘এমনিতেই সরাক্ষণ ভয়ে থাকি। পুলিশ, র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন প্রায়ই এসে খোঁজ নেয় রাজনৈতিক নেতাদের লোকজন এসে কোনো বৈঠক করে কি না। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের সম্পর্কে খোঁজ নেন তাঁরা। এখন আরো বেড়েছে। রাতে ঘুমাতে পারি না।’ রাজনৈতিক নেতারা আসলেই আসেন কি না জানতে চাইলে তিনি রেগে বলেন, ‘আবার প্রশ্ন করছেন? এটা এখন আর রাজনৈতিক ভবন নয়। আগের ভবন ভেঙে নতুন ৯ তলা ভবন করা হয়েছে। এখন এখানে বিটিআই, কেয়া কসমেটিকসসহ দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা থাকেন। বিদেশি দূতাবাসের অফিসও রয়েছে এখানে।’

পাশের ভবনের ম্যানেজার মেহেদি জানান, ‘আমি এখানে দেড় বছর ধরে আছি। শুনেছি একসময় এখানে হাওয়া ভবন ছিল। তখন বিএনপি নেতা তারেক জিয়ার ভবন ছিল এটি। এখানে অনেক দুর্নীতির সিদ্ধান্ত হতো। টেলিভিশনের খবরে শুনেছি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বৈঠকও তখন হাওয়া ভবনে হয়েছিল।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে পাঁচ কাঠা জমির ওপর গড়া হাওয়া ভবন ও বর্তমান বহুতল ভবন একই মালিকের। নাম আসেক আহমেদ। ১৯৯৪ সালে লন্ডনপ্রবাসী সিলেটি ব্যবসায়ী আসেক আহমেদ শিল্প ব্যাংকের সাবেক জিএম নুরুল হুদার কাছ থেকে বাড়িটি কেনেন। ভবনটির নিচতলার প্রধান ফটকের পাশে দেয়ালে ইংরেজিতে নেমপ্লেটে লেখা ধুঁত্ব। এলাকাটি অনেকটাই নিরিবিলি। জানা যায়, হাওয়া ভবনের স্থানটিতে ৯ তলা ভবন তুলে দেশি-বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন ভবন মালিক।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভের পেছনে হাওয়া ভবনের ভূমিকা ছিল। এরপর হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক দুর্নীতির কার্যক্রম নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে তারেক রহমান গ্রেপ্তার হলে হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বাড়ির মালিকও তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে তিনি আর বাড়িটি ভাড়া দেবেন না

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা তাজউদ্দিন, মুফতি হান্নান, মাওলানা আব্দুর রউফ ও আব্দুল মাজেদ ভাট প্রথমে মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদে বসে সিদ্ধান্তে আসেন, তাঁদের জঙ্গি তৎপরতার পথে ‘প্রধান বাধা’ আওয়ামী লীগ, বিশেষ করে এর প্রধান শেখ হাসিনা। তাঁরা মুরাদনগরের এমপি মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের সহযোগিতায় ২০০৪ সালের প্রথম দিকে হাওয়া ভবনে গিয়ে মামলার অন্যতম আসামি তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাঁরা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যাসহ বিভিন্ন অপারেশন চালানোর জন্য সহযোগিতা চান। তারেক রহমান উপস্থিত সবার সামনে তাঁদের কাজকর্মে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

Bootstrap Image Preview