Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৯ মঙ্গলবার, নভেম্বার ২০২২ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

রামগঞ্জে খাল পুন:খনন না করায় শত শত একর জমি অনাবাদি

আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৬:৪৫ PM
আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৬:৪৫ PM

bdmorning Image Preview


লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জের ভাদুর ইউনিয়নের মধ্য ভাদুর মাঠে বোরো মৌসুমে সহস্রাধিক একর জমি বিগত তিন যুগ থেকে অনাবাদি পড়ে আছে। মাঠের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া শত বছরের পুরানো খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় ও সেচ সুবিধা না থাকায় আমন চাষের পর এসব জমি খালি পড়ে থাকে।

খালটি পুন:খনন ও একটি গেট নির্মাণ করে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ সব জমিতে মৌসুমে প্রায় ৫শত মেট্রিক টন চাল বেশি উৎপাদন সম্ভব বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের প্রানের দাবি এ খালটি পুন:খনন ও একটি সুইচ গেট নির্মাণ করা।

জানা যায়, মধ্যভাদুর, পশ্চিম ভাদুর ও উত্তরগ্রাম কৃষকদের চাষাবাদের জন্য একমাত্র অবলম্বন এ মাঠটি। কিন্তু মাঠের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা খালটির দু'পাশ ভেঙ্গে এখন নালায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও মাটি জমে খালের তলা উঁচু হয়ে আছে। এমনকি বেশ কয়েক জায়গায় এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা দখল করে দোকানপাট নির্মাণ ও বাঁধ দিয়ে রাখায় পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ হয়ে আছে। ফলে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা, আবার বোরো মৌসুমে দেখা দেয় পানির তীব্র সংকট।

স্থানীয় প্রবীণ কৃষক সিরাজুল ইসলাম (৭২) বলেন, বৃটিশ শাসন আমলে খালটি খনন করা হয়। এরপর আর খালটি পুন:খনন করা হয় নি। ৩৫/৪০ বছর আগেও এ খালটি ছিল খরস্রোতা। তখন কৃষকরা এ খালের পানি দিয়ে মাঠ জুড়ে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতো। এখন শুকনো মৌসুমে মাঠটি খাঁ খাঁ করছে।

আবুল কাশেম, ছেরাজুল হক, জহির মিয়া, মাসুদ আলম, দেলোয়ার হোসেনসহ এ এলাকার কৃষকরা বলেন, তারা এ মাঠে উৎপাদিত ফসলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু খালটি পুন:খনন না করায়, সেচের অভাবে প্রতি বছর বোরো চাষ করতে না পারছে না। জমি গুলি খালি পড়ে থাকে। আর তারা পরিবার পরিজন সারা বছর খুব কষ্টে কাটাতে হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বাবলু বলেন, খালটি পুন:খনন ও পানি নিয়ন্ত্রন করার জন্য একটি সুইচ গেট নির্মাণ এ এলাকার মানুষের প্রানের দাবি হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। এখনো কোন সাড়া পাওয়া যায় নি। খালটি পুন:খনন হলে আবার হাজার হাজার একর জমি সোনার ফসলে ভরে উঠবে। দূর হবে জলাবদ্ধতা। প্রাকৃতিকভাবে বাড়বে মাছ। ফিরে আসবে জীববৈচিত্র্য।

রামগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভির আহম্মদ সরকার বলেন, মাঠটি বোরো মৌসুমে অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ভুট্টা চাষসহ অন্যন্যা ফসল চাষের জন্য কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিন্তু স্থানীয় কৃষকদের ধান চাষের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

মাঠের মধ্যখানের দিয়ে যাওয়া খালটি পুন:খনন ও সুইচ গেইট নির্মাণ করা হলে এ মাঠ থেকে ৫শত মেট্রিক টন চাল বেশি উৎপাদন সম্ভব। অত্র উপজেলার প্রয়োজনীয় খাল পুন:খনন ও সুইস গেট নির্মাণের একটি তালিকা প্রনয়ণ করে জমা দেওয়া হয়েছে।

Bootstrap Image Preview