Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০১ বুধবার, ডিসেম্বার ২০২১ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ইস্যুতে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব গৃহীত

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:০৯ AM
আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:০৯ AM

bdmorning Image Preview


সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রবল মতভেদের মধ্যে জাতিসংঘে এই প্রথমবারের মতো সর্বসম্মতিক্রমে রোহিঙ্গা রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে। সোমবার জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের ৪৭তম অধিবেশনে 'মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি' শীর্ষক রেজুলেশনটি গৃহীত হয়। 

রেজুলেশন গ্রহণের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য এক বড় অর্জন। কেননা ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নির্যাতন চলার সময়ও তাদের পক্ষে কোনো রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়নি।
 
প্রস্তাব গ্রহণের ঘটনাকে রোহিঙ্গা 'সঙ্কটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফল' বলে অভিহিত করেচেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। রেজুলেশনটি যৌথভাবে উত্থাপন করে ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদান এবং জাতীয় কোভিড টিকাদান কর্মসূচিতে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ যে উদারতা ও মানবিকতা প্রদর্শন করেছে, তার প্রশংসা করা হয় প্রস্তাবটিতে। কক্সবাজারের জনাকীর্ণ আশ্রয়শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর এবং সে লক্ষ্যে ভাসানচরে অবকাঠামোসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তৈরির জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা ও বিনিয়োগেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয় রেজুলেশনটিতে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের মধ্যকার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরকে স্বাগত জানানো হয়।

গৃহীত প্রস্তাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারির জরুরি অবস্থা জারির প্রেক্ষাপটের মতো বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা, বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করা এবং মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতসহ জাতিসংঘের সমস্ত মানবাধিকার ব্যবস্থাপনাকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে এবারের রেজুলেশনে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়াও চলমান বিচার ও দায়বদ্ধতা নিরূপণ প্রক্রিয়ার ওপর সজাগ দৃষ্টি বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবটিতে।

রেজুলেশনটিতে মিয়ানমারে নবনিযুক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং মিয়ানমারকে সম্পৃক্ত করে তার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য মিয়ানমার, ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপির মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকটি নবায়ন ও এর কার্যকর বাস্তবায়ন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবটিতে।

রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, 'বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক বিবেচনায় ২০১৭ সালে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, রোহিঙ্গাদের স্বপ্রণোদিত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমার ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।' 

প্রত্যাবাসনের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় রোহিঙ্গাদের হতাশা ক্রমেই তীব্র হয়ার ফলে এ অঞ্চলে নানা ধরনের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।

রাবাব ফাতিমা আরও বলেন, 'আশা করা যায় এবারের রেজুলেশনটি নিজভূমি মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, যা দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যার টেকসই সমাধানে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'

এবারের রেজুলেশনটিতে ১০৭টি দেশ সহপৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে, যা ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসি ছাড়াও রেজুলেশনটিতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ সমর্থন ও সহপৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে।

সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এবারের রোহিঙ্গা রেজুলেশনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, 'একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট নিয়ে এবারের রেজুলেশন গৃহীত হলো, যা রোহিঙ্গাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করবে, যেজন্য তারা পথ চেয়ে বসে আছে।'

Bootstrap Image Preview