Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৮ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বার ২০২১ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাংলাদেশে কত প্রকার মাদক আছে ?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২১, ০৯:০৬ PM
আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২১, ০৯:০৬ PM

bdmorning Image Preview
ছবি সংগৃহীত


দেশে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ২৭ ধরনের মাদক। নিয়মিত সেবনের তালিকায় ১৮ ধরনের মাদকই বেশি। সবচেয়ে বেশি সেবন হচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজা। নতুন আইন করেও কমানো যায়নি মাদকের ব্যাপকতা। অভিযান চালিয়ে সরবরাহ চ্যানেল কিছু সময়ের জন্য আটকানো গেলেও আসক্তরা মাদক পাচ্ছে নিয়মিতই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে মাদকের প্রসার না কমলে বাংলাদেশেও এর ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। এ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের একযোগে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

২৭  রকম মাদকঃ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন চার ধরনের মাদকসহ বাংলাদেশে ২৭ ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে। এগুলো হলো- ম্যাজিক মাশরুম, ডায়মিথাইলট্রিপ্টামাইন (ডিএমটি), লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড (এলএসডি), ক্রিস্টাল মেথ বা আইস বা মেথামফিটামিন, এস্কাফ সিরাপ, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, প্যাথিডিন, চোলাই মদ, দেশি মদ, বিদেশি মদ, বিয়ার, রেক্টিফায়েড স্পিরিট, ডিনেচার্ড স্পিরিট, তাড়ি, বুপ্রেনরফিন (টি.ডি. জেসিক ইঞ্জেকশন), ভাং, কোডিন ট্যাবলেট, ফার্মেন্টেড ওয়াশ (জাওয়া), বুপ্রেনরফিন (বনোজেসিক ইনজেকশন), মরফিন, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট ও মিথাইল-ইথাইল কিটোন।

এ ছাড়াও বিভিন্ন বৈধ ড্রাগ একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে মাদক। এসবও সেবন হচ্ছে দেদার।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (চট্টগ্রাম অঞ্চল) মজিবুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘আমাদের দেশের মাদকসেবীদের একাধিক মাদক গ্রহণের ঝোঁক রয়েছে। যে মাদকটা সে নিয়মিত গ্রহণ করে, সেটি না পেলে হাতের কাছে যা পায় তা-ই নিয়ে নেয়। মাদকসেবীরা নিজেরাও বৈধ ড্রাগের অপব্যবহার করছে। আমারা দেখেছি দেশে ৮ থেকে ১০ ধরনের মাদক নেওয়ার প্রবণতা বেশি। বাকিগুলো খুব একটা দেখা যায় না।’

আন্তর্জাতিক চক্রের নজর কেন বাংলাদেশে?

মাদকাসক্তি বিষয়ক গবেষক ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এমদাদুল হক বলেন, ‘ভৌগোলিকভাবেই বাংলাদেশ বিশ্বের তিনটি বৃহত্তম মাদক উৎপাদনকারী অঞ্চলের মাঝে পড়েছে। এটি একটি ‘স্যান্ডউইচ’ অবস্থা। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলে আছে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড, গোল্ডেন ওয়েজ অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় দেশ ভারত এবং গোল্ডেন ক্রিসেন্ট অঞ্চলে আছে পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তান।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানে তাই বাংলাদেশের ভূকৌশলগত গুরুত্ব অনেক। এ চক্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মাদক কারবারিদের যোগাযোগটাও এ কারণে শক্তিশালী। শ্রীলঙ্কায় এর আগে মাদক নিয়ে বাংলাদেশি নারী-পুরুষ গ্রেফতার হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ইয়াবা মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও পাঠানোর চেষ্টা হয়েছে। বিমানবন্দরে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে ও হচ্ছে।’

অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে এই অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলো নিয়েও কাজ করতে হবে। কারণ তাদের দেশে মাদকের ভয়াবহতা থাকলে প্রভাব বাংলাদেশে পড়বেই।’

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন/ আমানুর রহমান রনি

Bootstrap Image Preview