Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৩ মঙ্গলবার, আগষ্ট ২০২১ | ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

পাবনার হেমায়েতপুর থেকে আসে লকডাউনের সিদ্ধান্ত : ফখরুল

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২১, ০৯:০০ PM
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২১, ০৯:০০ PM

bdmorning Image Preview


লকডাউনসহ সরকারের নানা সিদ্ধান্তগুলো আসে পাবনার হেমায়েতপুর থেকে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসে এ মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা। আগের রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটি এই বৈঠক করে।

ফখরুল বলেন, ‘ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের লকডাউন লকডাউন খেলা আর মর্মান্তিক তামাশা। প্রথমে লক ডাউন, তারপরে কঠোর লকডাউন, পরে শিথিল লকডাউন ঈদের একদিন পর থেকে আরও কঠোর লকডাউন, শিল্প কলকারখানা বন্ধ ঘোষণা থেকে মনে হয়, সরকারি সিদ্ধান্ত গুলো সবই পাবনার হেমায়েতপুর থেকে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব অপরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশের দিন আনে দিন খায়, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত মানুষ, হকার, ছোট ব্যবসায়ী, রিকশা শ্রমিক, ভ্যান শ্রমিক, মাঝি, বাইকের চালকেরা, পরিবহন শ্রমিকেরা।’

করোনা মোকাবিলায় স্বল্প আয়ের মানুষদেরকে ১৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া, ছোট ব্যবসায়ীদের পুঁজির ব্যবস্থা করা এবং দিন আনে দিন খায় মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দেয়ার দাবিও জানান তিনি।

করোনার টিকা সংগ্রহ নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে যে, বর্তমান বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’

করোনা টিকা নিয়ে সরকার দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘গোটা পরিস্থিতিকে লেজে গোবরে করে ফেলেছে।’

ফখরুল জেনেছেন এখন পর্যন্ত ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট, চীনের সিনোফার্ম ও কোভ্যাক্স প্ল্যাট ফার্ম থেকে মোট ১ কোটি ১৬ লক্ষ ৬২০ ডোজ টিকা সংগ্রহ করেছে। ‍স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞাপনে দেড় কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহের কথাকে ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

টিকা মূল্য নিয়েও মিথ্যাচার করার অভিযোগ করে তিনি অবিলম্বে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবিও জানান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে হলে ২৬ কোটি ডোজ টিকা প্রয়োজন। গড়ে প্রতি মাসে এক কোটি টিকা দিলেও দুই বছর দুই মাস লাগবে। অথচ এখন পর্যন্ত টিকা প্রাপ্তির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকার দিতে পারছে না অথবা টিকা প্রাপ্তির উৎস্য সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।’

দেশের জেলা হাসপাতালগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় করোনা শয্যা, অক্সিজেন সরবরাহ, আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর দাবিও জানান বিএনপি মহাসচি। বলেন, ‘আক্রান্ত রোগী ও স্বজনদের আহজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। গাছের তলায়, অ্যাম্বুলেন্সে অথবা ভ্যানের ওপর রোগীর চিকিৎসার দৃশ্য কি মধ্য আয়ের বাংলাদেশ বা উন্নয়নের মডেল বাংলাদেশের ছবি দেখায়?’

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অপসারণ করা উচিত বলেও বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে বলেও জানান ফখরুল।

Bootstrap Image Preview