Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৩ মঙ্গলবার, আগষ্ট ২০২১ | ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

আজিজ বিড়ির ব্যবসা থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক: কে এই হাসেম?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২১, ১১:২৫ PM
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২১, ১১:২৫ PM

bdmorning Image Preview


নব্বইয়ের দশকে ব্যবসায় শুরুর পর আবুল হাসেমের বাণিজ্যিক পরিধি ছিল মূলত ট্রেডিংনির্ভর। কিন্তু ২০০৬ সাল পরবর্তী সময়ে নিত্যনতুন পণ্যের নাম যুক্ত হতে থাকে তার ব্যবসায়। আমদানির পাশাপাশি সেজান জুসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের উৎপাদক হয়ে ওঠেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জুস তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুনে অর্ধশতাধিক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি মোহাম্মদ আবুল হাসেম ব্যবসায়িক জীবনের বড় ধাক্কা হিসেবে দাবি করে হতাহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার কথা বলেছিলেন এই শিল্পপতি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। চার ছেলেসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজিজ বিড়ির ব্যবসা থেকে সজীব গ্রুপ

উদ্যোক্তা হিসেবে সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের হাতেখড়ি মূলত পৈতৃক সূত্রে। লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ‘আজিজ বিড়ি’ দিয়ে শুরু হয় তার পিতা ইব্রাহিম মিয়ার ব্যবসা। এরপর পাট, বস্ত্র, সুতা, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন ইব্রাহিম মিয়া। ব্যাংক-বীমাসহ আর্থিক খাতেও বিনিয়োগ ছিল তার। ১৯৬২ সালে নোয়াখালীর চৌমুহনী এলাকার ডেল্টা জুট মিলের সাড়ে তিন লাখ টাকার শেয়ার কেনেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামে এসে অবাঙালি দাদা ভাইয়ের অ্যালুমিনিয়াম কারখানার সম্পত্তি নিলামে কিনে নেন। এই সম্পত্তির মধ্যে ছিল চট্টগ্রাম টেরিবাজার এলাকায় অ্যালুমিনিয়াম শোরুম, নাসিরাবাদ এলাকায় অ্যালুমিনিয়াম কারখানা ও মাঝির ঘাট এলাকায় অ্যালুমিনিয়াম গোডাউন। এরপর চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবসা করেন ইব্রাহিম মিয়া। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ইব্রাহিম মিয়া চট্টগ্রামে যেমন অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানির সম্পত্তি কিনে অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসা শুরু করেন, একইভাবে ঢাকেশ্বরী কটন মিল কেনার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে ও ব্যবসা করতে থাকেন।

ঢাকেশ্বরী কটন মিল কিনে ওখানে গড়ে তোলেন ইব্রাহিম কটন মিল ও ইব্রাহিম রাবার মিল। ইব্রাহিম মিয়া এক সময় সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার স্ত্রী ছিল দুজন। পিতার হাত ধরেই নব্বইয়ের দশকে ব্যবসায় হাতেখড়ি হয় আবুল হাসেমের। একই সময়ে ইব্রাহিম মিয়ার পাশাপাশি তার চার ছেলেও ব্যবসা আসেন। ব্যবসার পাশাপাশি পেট্রো কেমিক্যাল থেকে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় বিশাল জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করেন ইব্রাহিম মিয়া। ওই বাড়িতে থেকেই তার ছেলেরা নিজ নিজ ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এর মধ্যে বড় ছেলে আবুল হাসেম পাকিস্তান থেকে সেজান জুস, নসিলা, কুলসন সেমাই, কুলসন মেকারনিসহ বিভিন্ন প্রোডাক্ট আমদানি করতেন। দ্বিতীয় ছেলে মাহবুব বাবা ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে থেকে ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। তৃতীয় ছেলে ওমর ফারুক নোয়াখালীতে তার বাবার বিড়ির কারখানা দেখাশোনার পাশাপাশি লাইফবয় সাবানের এজেন্ট ও গাড়ির ব্যবসা করতেন। অন্যদিকে চতুর্থ ছেলে আজাদ দীর্ঘদিন বড় ভাই আবুল হাসেমের সঙ্গে ব্যবসা করলেও বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস করছেন। ইব্রাহিম মিয়ার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি দুই সংসারের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জের কটন মিল ও রাবার মিল পান আবুল হাসেম। নব্বইয়ের দশকে তিনি চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে তার ব্যবসা স্থানান্তর করে ছেলের নামে সজীব গ্রুপ গড়ে তোলেন। ওই এলাকায় তিনি তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন কারখানা স্থাপন করেন। এছাড়া একসময় পাকিস্তান থেকে যেসব পণ্য আমদানি করতো, পরবর্তী সময়ে সেসব পণ্য উৎপাদন শুরু করে সজীব গ্রুপ। বর্তমানে আবুল হাসেমের পাশাপাশি সজীব গ্রুপের ব্যবসার হাল ধরেছেন তার চার ছেলে ও এক মেয়ে। চার ছেলেসহ আবুল হাসেম বর্তমানে ঢাকার বারিধারায় বসবাস করেন। তার চার ছেলে হলেন হাসিব বিন হাসেম, তারেক ইব্রাহিম, তাওসিব ইব্রাহিম ও তানজিম ইব্রাহিম। চট্টগ্রামের টেরিবাজারে গ্রুপটির একটি লিয়াজো অফিস রয়েছে।

আওয়ামী লীগ থেকে এমপি প্রার্থী

২০০৮ সালে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এই শিল্পপতি। সেই নির্বাচনে তিনি হেরে যান বিএনপি প্রার্থীর কাছে। এর পরে রাজনীতির মাঠে তাকে দেখা যায়নি। দলে কোনও পদ-পদবিও নেই।  ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। সারাদেশে ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল জয় পেলেও হেরে যান নৌকার এই প্রার্থী। পরে আর নির্বাচন বা রাজনৈতিক কোনও কর্মকাণ্ডে আবুল হাসেমকে জড়াতে দেখা যায়নি।

এক-এগারোর পর ফুলে-ফেঁপে উঠে সজিব গ্রুপ

গুঞ্জন আছে, আলোচিত সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে তিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পৈতৃক সূত্রে ব্যবসায় হাতেখড়ি হলেও আবুল হাসেমের ব্যবসা বড় হওয়া শুরু হয় মূলত আলোচিত এক-এগারোর পর থেকে। তিনি এক-এগারোর পর ব্যবসায়িকভাবে অনেকটা ফুলে-ফেঁপে উঠতে থাকেন। এই সময় নিজের ছেলের নামে গড়েন ‘সজীব গ্রুপ’। প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ‘সেজান জুস’ ব্যবসায়িকভাবে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।

জনপ্রিয়তা পায় পাকিস্তানের সেজান জুস

পাকিস্তানের সেজান জুস আমদানির মাধ্যমে ব্যবসায় হাতেখড়ি আবুল হাসেমের। পরবর্তী সময়ে এ তালিকায় যোগ হয় নসিলা, কুলসনসহ বিভিন্ন পাকিস্তানি ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য। নব্বইয়ের দশকে ব্যবসায় শুরুর পর আবুল হাসেমের বাণিজ্যিক পরিধি ছিল মূলত ট্রেডিংনির্ভর। কিন্তু ২০০৬ সাল পরবর্তী সময়ে নিত্যনতুন পণ্যের নাম যুক্ত হতে থাকে তার ব্যবসায়। আমদানির পাশাপাশি সেজান জুসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের উৎপাদক হয়ে ওঠেন তিনি। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণেই হঠাৎ করে ফুলে-ফেঁপে ওঠে আবুল হাসেমের ব্যবসা। ‘সজীব গ্রুপ’ নামে একটি ব্যবসায়িক ট্রেডমার্কও গড়ে তোলেন আবুল হাসেম।

সজীব গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো

পোশাক খাতের ব্যবসার পাশাপাশি বর্তমানে সজীব গ্রুপের রাইস মিল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, অ্যাগ্রো, ময়দার মিল, আবাসন, ইনস্যুরেন্স খাতে ব্যবসা রয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সজীব করপোরেশন, হাসেম ফুডস লিমিটেড, হাসেম অটো রাইস মিল, সজীব ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, হাসেম অ্যাগ্রো প্রসেসিং লিমিটেড, তাকাফুল ইসলামি ইনস্যুরেন্স লিমিটেড, হাসেম ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড, সজীব হোমস লিমিটেড, মার্স ইন্টারন্যাশনাল, সজীব লজিস্টিকস ও সেভি ফুডস।

 আর্ন্তজাতিক ব্র্যান্ড

সেজান জুস, ট্যাং, কুলসুন সেমাই, নসিলা, বর্নভিটা, ওরিও বিস্কুট প্রতিটিই আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড। বাংলাদেশের বাজারে এসব খাদ্যপণ্য বাজারজাত ও প্রক্রিয়াজাত করতো সজীব করপোরেশন।

যেসব পণ্য বাজারজাত করে কোম্পানিটি

সেজান জুসের বাইরে সজীব গ্রুপের আটা, ময়দা, সুজি, নুডুলস, সস, গুঁড়া মসলা, ইসবগুল, চিপস, পানীয়সহ বিভিন্ন ধরনের রেডিমিক্স পণ্য বাজারে রয়েছে। ট্যাং, কুলসন, নসিলা, বর্নভিটা ও ওরিওর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে গ্রুপটি। উইংস ক্লিয়ার লেমন ড্রিংক, হাল্ক এনার্জি ড্রিংক, আহা কোলা, ড্রিংকিং ওয়াটার, চকোলেটের মতো আরও বেশকিছু ব্র্যান্ড রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিপণনের তালিকায়। এছাড়া সজীব গ্রুপের বিভিন্ন পণ্য মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেপাল, ভুটান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রফতানি হয় বলে গ্রুপটি থেকে জানানো হয়।

সুপার শপের ব্যবসা

‘ওয়ান স্টপ’ নামে সুপার-শপ ব্যবসাও রয়েছে সজীব গ্রুপের। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ওয়ান স্টপের আউটলেট।

ব্যাংক ঋণ

এক দশক আগে সজীব গ্রুপের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৫০০ কোটি টাকারও কম। কিন্তু গত এক দশকে গ্রুপটির ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।  ডজনখানেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পেয়েছে শিল্প গ্রুপটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মে মাসে সজীব গ্রুপের ১১টি কোম্পানির নামে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৯৩ কোটি টাকা ঋণ হাসেম ফুডস লিমিটেডের। যেখানে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। সজীব গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সজীব করপোরেশনের নামে ঋণ রয়েছে ৩৬০ কোটি টাকা। হাসেম রাইস মিলস লিমিটেডের নামে ব্যাংক ঋণ রয়েছে ৩৩৮ কোটি টাকা। হাসেম ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডের নামে রয়েছে ২০১ কোটি, সজীব লজিস্টিকস লিমিটেডের নামে ৩৮ কোটি, সজীব হোমস লিমিটেডের নামে ২৯ কোটি, হাসেম এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের নামে ২০ কোটি, হাসেম অটো রাইস মিলের নামে ৮ কোটি, স্যাভি ফুডস লিমিটেডের নামে ৩ কোটি ও মারস ইন্টারন্যাশনালের নামে ২১ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে।

জানা গেছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া হাসেম ফুডস লিমিটেডে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণ আছে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের। পুড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানে ঋণ আছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফিন্যান্সের। এছাড়াও গ্রুপটির অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণ আছে প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকসহ অন্তত এক ডজন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।

সেজান জুস কারখানা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন

অভিযোগ আছে, হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া ছিল। কারখানায় কাজের পরিবেশও ছিল ঘিঞ্জি। কারখানা ভবনটিতে ছিল না কোনও ধরনের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ছিল না কোনও বিকল্প সিঁড়ি বা জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা। আইন অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটিতে শিশুশ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, কারখানা ভবনের লেআউট প্ল্যান সঠিকভাবে যাচাই না করেই এটির উৎপাদন পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখার আগেই সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম ও তার চার ছেলেসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতার হওয়ার আগে সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমকে বাংলা ট্রিবিউন থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কারখানার ত্রুটির কারণে এতো মৃত্যু নাকি অন্য ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতার কারণে এতো মৃত্যু। জবাবে তিনি বলেছিলেন, অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। জেনেশুনে বা ইচ্ছে করে আমরা কোনও ত্রুটি করিনি।  তিনি উল্লেখ করেন, অগ্নিকাণ্ডে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের দায়িত্ব আমরা নেবো। আর যারা আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমরা তাদেরও পাশে আছি। তাদের ভালোর জন্য সর্বোচ্চটুকু করার ঘোষণা দেন আবুল হাসেম ।

প্রসঙ্গত, রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানার ছয়তলা ভবনটিতে তখন ৪০০’র বেশি কর্মী কাজ করছিলেন। কারখানায় প্লাস্টিক, কাগজসহ মোড়কীকরণের প্রচুর সরঞ্জাম থাকায় আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সব ফ্লোরে। এ ঘটনায়  ৫২ জন নিহত হয়।

Bootstrap Image Preview