Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ মঙ্গলবার, জুন ২০২১ | ৭ আষাঢ় ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

নেট-দুনিয়ায় থাবা বসিয়েছে 'দামে কম মানে ভালো' কাকলি ভাইরাস

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২১, ১২:১৩ AM
আপডেট: ২৩ মে ২০২১, ১২:১৩ AM

bdmorning Image Preview


একটি নেহায়েতই অল্প-পরিচিত আসবাবপত্র বিপণির নাম বাংলাদেশের 'কাকলী ফার্নিচার'। কিন্তু ফেসবুকে সাদামাটা অথচ নজরকাড়া এক বিজ্ঞাপনের সুবাদে রাতারাতি সীমান্তের অন্য পাড়ে তারা রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। গত দু’দিনে ভারতের কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে কাকলি ফার্নিচার নিয়ে শত শত মিম তৈরি হয়েছে, সবার মুখে মুখে ঘুরছে এই ব্র্যান্ডটির নাম। মজা করে কেউ কেউ আবার বলছেন, করোনা অতিমারির আবহে, পশ্চিমবঙ্গের নেট-দুনিয়ায় 'কাকলি ভাইরাস' থাবা বসিয়েছে।

কী এই কাকলি ভাইরাস? বাংলাদেশের একটি ফার্নিচার সংস্থার বিজ্ঞাপন আলোচনার কেন্দ্রে। কাকলি ফার্নিচার নামে সেই সংস্থা বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন বাজারে ছেড়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, কখনো দুইটি শিশু রোবটের মতো বলে চলেছে, 'দামে কম মানে ভালো...'। স্বামীঁ-স্ত্রীর সংলাপেও বিজ্ঞাপন আছে। সেখানেও বার বার বলা হচ্ছে, 'দামে কম মানে ভালো...'। আপাত নিরীহ এই বিজ্ঞাপনই এখন পশ্চিমবঙ্গের নেট-দুনিয়া দখল করে রেখেছে। তৈরি হয়েছে অসংখ্য মিম। একে অন্যের ছবির নীচে গিয়েও কমেন্ট করে আসছে, 'দামে কম মানে ভালো...'।

মিমগুলি অবশ্য অধিকাংশই স্যাটায়ারধর্মী। নারদ মামলায় আটক কলকাতার সাবেক মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। তার ব্যক্তিগত জীবনও বার বার সংবাদের শিরোনামে এসেছে এবং আসছে। স্ত্রী রত্নাকে ছেড়ে তিনি এখন বান্ধবী বৈশাখীর সঙ্গে থাকেন। 'দামে কম মানে ভালো...' ক্যাপশনে মিম তৈরি করে রত্না-শোভন-বৈশাখীর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে। আবার তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারকে নিয়েও তৈরি হয়েছে 'দামে কম মানে ভালো...' মিম। একাধিক টেলিভিশন এবং সিনেমার অভিনেতাদের মুখ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে মিম।

পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি ইদানীং নানা ঘটনায় মিম তৈরি করে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ছেড়ে দেয়। এটাই এখানকার ট্রেন্ড বলা যেতে পারে। কিছুদিন আগে এভাবেই জনপ্রিয় হয়েছিল বাংলাদেশের আরেক জনপ্রিয় সংলাপ 'খেলা হবে'। তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে সেই 'খেলা হবে' সংলাপ স্লোগান বানিয়ে ফেলেছিল। এবার বাজারে হিট কাকলি ফার্নিচার। থুড়ি, কাকলি ভাইরাস।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কে অবশ্য কাকলি বিরোধী মঞ্চও গড়ে উঠেছে। কেউ এর মধ্যে শ্রেণিবিদ্বেষ দেখতে পাচ্ছেন। কেউ আবার মনে করছেন, অতিমারির সময়ে যখন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে রক্ত, অক্সিজেনের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তখন কাকলি ভাইরাস সে সব পোস্ট ট্রেন্ডিংয়ে নীচে নামিয়ে দিচ্ছে। তবে মনোবিদদের কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ আতঙ্কে আছে। অতিমারির ভয়াবহ খবর দিকে দিকে ঘুরছে। সেই সময়ে একটু হাল্কা চটুল কিছু নিয়ে আলোচনা করে ভারাক্লান্ত মন যদি একটু হাল্কা হয়, ক্ষতি কী?

Bootstrap Image Preview