Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৭ শুক্রবার, মে ২০২১ | ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

সকালে মায়ের লাশ দেখতে গিয়ে স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে ঘরে ফিরলো আদুরি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২১, ০২:১৬ PM
আপডেট: ০৩ মে ২০২১, ০২:১৬ PM

bdmorning Image Preview


মায়ের মৃত্যুর খবরে ঢাকা থেকে স্বামী ও শিশুসন্তান নিয়ে স্পিডবোটে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় যাচ্ছিলেন আদরি বেগম। তার পৈতৃক বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি আলফাডাঙ্গাতেই। স্বামী ঢাকায় ব্যবসা করায় সন্তানসহ তিনি ঢাকাতেই থাকতেন।

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে আদরি উঠেছিলেন স্পিডবোটে। সোমবার সকালে স্পিডবোটটি মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বাল্কহেডকে ধাক্কা দেয়। এতে উল্টে যায় বোটটি।

উদ্ধারকর্মীরা আদরিকে উদ্ধার করে তীরে আনলেও বাঁচানো যায়নি তার স্বামী আরজু মিয়া ও দেড় বছরের ছেলেকে।

দুর্ঘটনার পর একে একে উদ্ধার করা ২৬ মরদেহের মধ্য থেকে স্বামী-সন্তানকে খুঁজে পান আদরি। নিজের শরীরে আঘাত, তার ওপর স্বামী-সন্তান হারানোর শোক। সব মিলিয়ে বাকরুদ্ধ তিনি। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তাকে নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

বেলা ১১টার দিকে ঘাটে গিয়ে একমাত্র জীবিত যাত্রী হিসেবে তাকেই পাওয়া যায়। আদুরির বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মাইগ্রো গ্রামে। স্বামী–সন্তান নিয়ে থাকতেন ঢাকার হাসনাবাদে।

গতকাল রোববার রাতে আদুরির মা মনোয়ারা বেগম মারা যান। মায়ের লাশ দেখতে স্বামী–সন্তান নিয়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন তিনি। সকাল ৬টার দিকে অন্তত ৩২ যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট শিমুলিয়া ঘাট থেকে শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাবাজার ঘাটে নোঙর করা বালুবোঝাই বাল্কহেডে ধাক্কা খায় স্পিডবোটটি। ঘটনাস্থলেই ২৬ যাত্রী প্রাণ হারান। স্থানীয় লোকজন পাঁচ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ির ইয়াছিন মাদবরকান্দি গ্রামের দোতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখেন।

মৃত ২৬ জনের মধ্যে আছেন আদুরির স্বামী ও ছেলে। আর জীবিত উদ্ধার হন আদুরি। সকাল ১০টার দিকে আদুরি স্বামী-সন্তানের খোঁজে ছুটে যান নদীর তীরে। সেখানে কাউকে না পেয়ে যান দোতরা স্কুলের মাঠে। স্বামী–সন্তান নেই জেনে তাঁর কান্না আর থামছিল না। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান আদুরির দুই চাচা ও ফুফু। তাঁরা লাশের সারি থেকে আদুরির স্বামী আরজু মিয়া ও ছেলে ইয়ামিনকে শনাক্ত করেন।

আদুরির চাচা বলেন, ‘মায়ের লাশ দেখতে যাচ্ছিল মেয়েটি। এখন স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে তাকে ফিরতে হচ্ছে। আমরা কী বলে সান্ত্বনা দেব তাকে? বাড়িতে একটি কবর খুঁড়ে এসেছি। ফোনে আরও দুটি কবর প্রস্তুত করতে বলেছি। বিধাতা কেন এমন করল!’

আদুরি কান্না করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘লগডাউনের কারণে ঢাকায় আটকা পড়েছিলাম। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গ্রামে যাচ্ছিলাম। দেড় বছরের ছেলে আমার কোলে ছিল। স্পিডবোট চলছিল অতিরিক্ত গতিতে। আমি এক হাতে ছেলেকে ও আরেক হাতে স্বামীকে ধরেছিলাম। হঠাৎ সজোরে ধাক্কা লাগে। আমরা সবাই ছিটকে পড়ি। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি হাসপাতালে। সঙ্গে সঙ্গে নদীর পাড়ে গিয়ে শুনি, আমার সব শেষ।’

Bootstrap Image Preview