Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৭ শুক্রবার, মে ২০২১ | ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

ঠাকুরগাঁওয়ে লিচু গাছে আম বনাম এক গাছে ৪০ ফল!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪৭ PM
আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪৭ PM

bdmorning Image Preview


হারুন আল নাসিফ।। ক’দিন আগে ঠাকুরগাঁওয়ে লিচু গাছে আম ধরার খবরে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সিংগিয়া কলোনিপাড়ায়। আব্দুর রহমান নামের এক ব্যক্তির লিচু গাছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই গাছের সামনে ভিড় করেছেন বিভিন্ন এলাকার নানান বয়সের মানুষ। 

এ খবরটি আমাকে একটি পুরানো খবর মনে করিয়ে দিয়েছে। সেটি হলো এক গাছে ৪০ ফলের খবর। খবরটি বিভিন্ন সময় আমাদের দেশের মিডিয়ায়ও এসেছে। বিদেশি খবর বলে হয়তো অনেকের নজর এড়িয়ে গেছে। দুটো খবরে অবশ্য একটু পার্থক্য আছে। 

ঠাকুরগাঁওয়ের লিচু গাছে আম ধরার ব্যবস্থা কেউ করেনি। লিচু গাছের মালিক আব্দুর রহমান ৫ বছর আগে পার্শ্ববর্তী বাজার থেকে লিচু গাছের চারা কিনে তার বসৎভিটার পাশে রোপণ করেন। গত বছর থেকে সে গাছে লিচুর ফলন শুরু হয়েছে। এবার লিচু গাছে আশানুরূপ মুকুল এসেছে। আর তার সাথে একটি আমের কুড়ি ধরেছে! খবরটি ছিলো এমনই।

কিন্তু দুদিন না যেতেই খবরটি ভুয়া বলে জানা গেছে। বিরল এ ঘটনা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছিলেন। এরই মাঝে হঠাৎ জানা গেল আমটি রাগের বশে ছিঁড়ে ফেলেছেন স্থানীয় এক সাবেক মেম্বার। আম ছিঁড়ে ফেলা নিয়েও নানাজনকে দায়ী করে লেখালেখি হয় বিভিন্ন মিডিয়ায়। এদিকে আম ছেঁড়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সেই আমের শুকিয়ে যাওয়া বোঁটা ও আঠাজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যম জানায়, ‘বিষয়টি ম্যানুপুলেট করা হয়েছে।’ কেউ এটি আঠা জাতীয় কিছু দিয়ে লাগিয়ে থাকতে পারে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

কিন্তু বাস্তবে এক গাছে ৪০ ধরনের ফল ফলানোর অসাধ্য সাধন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ভিজ্যুয়াল অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টসের অধ্যাপক স্যাম ভন অ্যাকেন। আর এজন্য ওই গাছটির পেছনে তার ব্যয় করতে হয়েছে নয়টি বছর। গোটা ফলের বাগান একটি গাছের মধ্যে পাওয়ার ইচ্ছা থেকেই কাজে হাত দেন স্যাম। আর করেছেনও তাই। এই অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটাতে 'গ্রাফটিং' বা 'কলম' পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তিনি।

এ পদ্ধতিতে দুটো গাছের কলম একত্রে জুড়ে দিয়ে তাদের শিরা কেটে দেওয়া হয়। যাতে একটি আরেকটির সাথে মিশে যেতে পারে। এই শিরাগুলোকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ফ্লোয়েম ও জাইলেম। এদের মাধ্যমে গাছের পানি, সুগার ও খনিজ পদার্থ শেকড় থেকে পাতায় পৌঁছে।

এভাবেই একে একে ৪০টি গাছ কলম করে তিনি কাজটি করেছেন। বছরের পর বছর সাধনা করে অবশেষে পৌঁছেছেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। এদের মধ্যে দুই বছরে ২০ থেকে ২৫টি ফলগাছ একসঙ্গে বেড়ে উঠেছে। দুই বছর পর তাদের যখন নতুন শাখা গজাতে শুরু করে, তখন তিনি তার সাথে আরও গাছের কলম যোগ করেন।

ভন অ্যাকেন বলেন, তাদের নিজস্ব জিনগত বৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেই তাদের লালন করা হয়েছে। জুড়ে দেওয়া নতুন নতুন ফলের ডাল তাদের নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে এবং তাদের নিজস্ব ফুল ও ফল উৎপন্ন হচ্ছে। প্রত্যেক ফলের ডালে নিজ নিজ মৌসুমে ফুল আসছে এবং ফল ধরছে। আর সব ফলই খাওয়ার যোগ্য। 

অধ্যাপক স্যাম ভ্যান অ্যাকেন জানান, গাছটির কলমের জন্য যেসব মূল উৎস ছিল সেটি নিউইয়র্ক স্টেট এগ্রিকালচারাল এক্সপেরিমেন্ট স্টেশনের একটি বাগান। এই বাগানটি বন্ধ করে দেওয়া হবে এমন খবর পেয়ে ভ্যান অ্যাকেন বাগানটির ইজারা নেন। ওই বাগানে প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ ছিল।

প্রফেসর স্যাম বলেন, এই পদ্ধতির পেছনে যে বিজ্ঞান কাজ করে তা আসলে একটি গাছের উপজাত তৈরি করে। তবে আমার কাছে এটি গাছের অলঙ্কার। অধ্যাপক স্যামের এই পরিশ্রমের ফসল যা বেরিয়েছে তা হলো, এগ্রিকালচারের দুনিয়ায় গ্রাফটিংকে তিনি ভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছেন। এই গাছে ভিন্ন ভিন্ন ফল আসার সময় ও তাদের রঙ ঠিক রাখার জন্য সঠিক সময়ে তাদের গ্রাফটিং করেছেন বলে জানান অধ্যাপক স্যাম।

হারুন আল নাসিফ: কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক (ফেসবুক থেকে)

Bootstrap Image Preview