Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৫ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনগুলো পড়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১১:৫১ AM
আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১১:৫১ AM

bdmorning Image Preview


১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনগুলো নিয়ে সাত খণ্ডে প্রকাশিত বই পড়তে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে ইতিহাসের মহামূল্যবান তথ্য জানা যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি পদক্ষেপ জানতে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের প্রতিবেদনগুলো পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা যে রিপোর্ট দিয়েছে, ৪৮ থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত, এ রিপোর্ট নিয়ে আমরা সাত খণ্ডে বই প্রকাশ করেছি।

এগুলো পড়লে আপনারা জানতে পারবেন—কবে কোন আন্দোলনের লিফলেট বিতরণ করেছেন বঙ্গবন্ধু, কোথায় কোন আন্দোলনে কী বক্তব্য দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর গতিবিধি নিয়ে তারা রিপোর্ট করেছে। আপনারা এগুলো পড়বেন। বইগুলোতে ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আন্দোলনের অংশটুকু সব আছে। এই রিপোর্টগুলো ছিল বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে। কিন্তু এর থেকেই আমরা ইতিহাসের মহামূল্যবান তথ্য জানতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীতে আর কোনো দেশে আর কোনো নেতার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট এভাবে প্রকাশ হয়েছে কি না, জানি না। আমাদের দেশেও অন্য কোনো নেতার বিরুদ্ধে এমন রিপোর্ট আছে কি না, জানি না; থাকলেও তা কয়েক পৃষ্ঠার হয়ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৪৬টি ফাইলে ৪৮ খণ্ডের রিপোর্ট ছিল, পৃষ্ঠা ছিল ৪৬ হাজার। বেবি মওদুদসহ আমি ২০ বছর এটার ওপর কাজ করেছি। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আমি এসবির কিছু অফিসারের সহায়তায় এই রিপোর্টগুলো সংগ্রহ করেছি। বিভিন্ন জেলা থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছি। ভাষা আন্দোলনসহ বঙ্গবন্ধুর সব আন্দোলন-সংগ্রাম জানতে এই বই পড়তে হবে। এই বইয়ে প্রতিটি খণ্ডে আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে।’

ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে স্বাধীনতা সংগ্রামের যাত্রা ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হয়েছে, সেটি স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয়ের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র গঠনে সব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আর্থ-সামাজিক, অবকাঠামো, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সবক্ষেত্রে অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রতিটি কাজই তিনি করে গেছেন খুব অল্প সময়ে। আমরা এগুলো দেখে খুব অবাক হই।’

তিনি বলেন, ‘১৯৫৬ সালে শহীদ মিনার তৈরি করা, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা দেওয়া; এসব কিছু তখন আওয়ামী লীগই করে। কারণ, ১৯৫২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু যখন মুক্তি পান, উনি অনশন করেছিলেন, তাই খুব অসুস্থ ছিলেন। ২৮ তারিখ ওনাকে জেল থেকে বের করে আমার দাদা টুঙ্গিপাড়া নিয়ে যান। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে এসেই ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে আবার আন্দোলন শুরু করেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা রেখেছি। সারা পৃথিবীর মাতৃভাষা সংরক্ষণের জন্য এবং তার ওপর যাতে গবেষণা হয় তার জন্য আমি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছি।’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণ শুরু করা হলেও ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করি এবং এটার নির্মাণ কাজ শেষ করে আজকে সেখানে আমরা ভাষা জাদুঘর করেছি। সেখানে আর্কাইভ করা আছে। বিভিন্ন মাতৃভাষার নমুনা আমরা সংগ্রহ করে সেখানে রেখেছি। এবার আমরা আন্তর্জাতিক পুরস্কারও দিয়েছি।’

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত‌্যাকাণ্ড না ঘটলে অনেক আগেই উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠত, দাবি করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র‌্যমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে কাজ করছি। ১৫ আগস্টের ট্র্যাজিডির পর ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেনি। নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নেই ব্যস্ত ছিল। ২১ বছর পর আমরা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতায় এসে জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নের সব চিন্তা হচ্ছে একেবারে তৃণমূলের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আমরা কাজ করে যাচ্ছি, যাতে এই বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হয়।‘

Bootstrap Image Preview