Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ৩১ শনিবার, জুলাই ২০২১ | ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

যে গ্রামে ‘অন্তর্বাস’ খুলে ঢুকতে হয়

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৪২ PM
আপডেট: ০৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৪২ PM

bdmorning Image Preview
ছবিঃ সংগৃহীত


বিডিমর্নিং ডেস্কঃ পৃথিবীতে এমন একটি জায়গা আছে যেখানে অন্তর্বাস পরে যাওয়া বারণ। তারকাটা দিয়ে বেড়া দেয়া ওই স্থানটিতে ঢুকতে গেলে খুলতে হয় অন্তর্বাস। আবার সেই বেড়াটিও তৈরি হয়েছে নারীদের অন্তর্বাস রাখার জন্য। শুনতে একটু অবাক লাগলেও কথাটি সত্য। দীর্ঘদিন ধরেই নিউজিল্যান্ডের একটি গ্রামে ঢুকতে গেলে এ নিয়ম মানতে হয়। গ্রামটিতে প্রবেশ করতে হলে নারীদের অন্তর্বাস খুলে প্রবেশ করতে হয়।

ঘটনাটি আপনার কাছে বাজে মনে হলেও আসলে ঘটনাটা তেমন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১১ সালে একটি রিপোর্ট বলছে, ওই বছর পাঁচ লাখেরও বেশি নারী স্তন ক্যান্সারে মারা গেছে। তাই নারীদের বারবার সতর্ক করেন। নিউজিল্যান্ডে একটি গ্রাম যার নাম কার্ড্রোনা। সেখানে একটি অদ্ভুত পদ্ধতি চালু হয়। কার্ড্রোনা একটি বেড়া বানানো হয়, আর সব নারীরা সেই বেড়ায় ঝুলিয়ে দেয় তাদের অন্তর্বাস।

যেখানে নানা রঙের এবং নানা ধরণের ব্রা ঝুলতে দেখা যায়। এটি প্রায় ২০ বছর ধরে চলে আসছে। এটা দেখার জন্য পর্যটকরা ভিড় পর্যন্ত জমাচ্ছেন। এখানে একটি দান বাক্স আছে। সেখানে মানুষ দান করে থাকে। আর সেই দানের টাকা দিয়ে সেই সব নারীদের চিকিৎসা করা হয়, যাদের স্তন ক্যান্সারের মতো রোগ রয়েছে।

আবার কেউ কেউ এটাকে ব্রাল্যান্ডও বলে। অনেকে একে দৃশ্য দূষণ বলে সমালোচনা করলেও, এই জায়গার জনপ্রিয়তায় কখনো ভাঁটা পড়েনি। নিউজিল্যান্ডের সেন্ট্রাল ওটাগোয় কয়েক কিলোমটার জুড়ে একটি তারের বেড়া রয়েছে। যেটি কার্ড্রোনা ব্রা ফেন্স নামে পরিচিত। নিউজিল্যান্ডে শুধুই যে অন্তর্বাসের বেড়া দেখা যায়, তেমনটা নয়। টুথ ব্রাশেরও বেড়া রয়েছে এ দেশে। হ্যামিলটন থেকে প্রায় এক ঘণ্টার রাস্তা পেরিয়ে তে পাহু গ্রামে।

স্থানীয় গ্রেম ক্যারিন্স নামে একজন বাসিন্দা টুথ ব্রাশ দিয়ে প্রথমে বেড়া ডিজাইন করেন। পরে তার দেখাদেখি প্রতিবেশীরাও নিজেদের নষ্ট হয়ে যাওয়া টুথ ব্রাশ ওখানে ঝুলিয়ে দেন। তারপর থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়া টুথ ব্রাশগুলো ওই বেড়ায় স্থান পেতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে অসংখ্য মানুষ টুথ ব্রাশ ঝোলাতে শুরু করেন। এমনকি সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক নিজের টুথ ব্রাশ দান করেন এখানে। এমনটিই জানা গেছে।

এছাড়া জুতার বেড়াও এখানে লক্ষ্য করা যায়। তবে বিশেষ সংস্থার জুতাই এখানে ঝুলতে দেখা যায়। মরিস ইয়ক নামে এক ব্যবসায়ী জাপান থেকে জুতার ডিজাইন অনুকরণ করে নিউজিল্যান্ডে প্রচলন করেন। ১৯৫৭ সাল থেকে সেই জুতা নিউজিল্যান্ডে তৈরি করেন মরিস ইয়ক। এই জুতা এখন নিউজিল্যান্ডে সব থেকে জনপ্রিয়। ওই জুতা দিয়ে সাজানো বেড়াও দেখতে পাবেন ওখানে।

প্রতিদিন কোনো না কোনো নারী তার অন্তর্বাস সেখানে ঝুলিয়ে দিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে কয়েক হাজার অন্তর্বাস ঝোলানো রয়েছে। ধীরে ধীরে পর্যটকদেরও মন কেড়েছে এই স্পট। বর্তমানে বিশ্ব স্তন ক্যান্সার সচেতনতার জন্য এই বেড়া উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।

Bootstrap Image Preview