Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০২ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বার ২০২১ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

ঢাকার পর চট্টগ্রামেও হবে মেট্রোরেল

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৬ PM
আপডেট: ০৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৬ PM

bdmorning Image Preview
প্রতীকী ছবি


বিডিমর্নিং ডেস্কঃ দেশের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে মেট্রোরেল অন্যতম। বিশেষ করে সিটি এলাকার যানজটের কথা চিন্তা করে শহরগুলোতে মেট্রোরেল করা হয়। ঢাকার পর চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল চালানোর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। চট্টগ্রামে মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য চীনের দুইটি কোম্পানির সাথে আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর মধ্যে চায়না রেল কোম্পানির সাথে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফিজিবিলিটি স্টাডি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চীনা কোম্পানিটি নিজস্ব অর্থায়নে সমীক্ষা পরিচালনা করবে।

অপরদিকে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন্স কনস্ট্রাকশন কোম্পানি বা সিসিসিসিও চট্টগ্রামে মেট্রোরেল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। তারাও নিজস্ব অর্থায়নে সমীক্ষা পরিচালনা করার আগ্রহ দেখিয়েছে। দুইটি কোম্পানিকেই প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। দুই কোম্পানির কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব নিয়ে সিডিএ অগ্রসর হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চীনা কোম্পানি দুটি নিজেদের অর্থায়নে মেট্রোরেল চালুর পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর টোল আদায়ের মাধ্যমে তারা নিজেরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ তুলে নেবে বলে জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ছাড়াও ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, কোরিয়ান ইপিজেড, মীরসরাই ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠাসহ নানামুখী কর্মকাণ্ডে একটি নীরব শিল্প বিপ্লবের দিকে যাচ্ছে চট্টগ্রাম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চট্টগ্রামে বিনিয়োগ করতে আসছে। বন্দরসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কারনে বহু আগ থেকেই চট্টগ্রামকে বিনিয়োগের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তুলনামুলক সস্তা শ্রম বাংলাদেশে শিল্পায়নের অপার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

কেবলমাত্র মীরসরাই ইকোনমিক জোনেই ত্রিশ লাখের মতো মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের এই বিপুল সংখ্যক মানুষের গতিশীলতা নিশ্চিত করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল এবং আউটার রিং রোড নির্মাণ এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মাত্র ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াত উপযোগী ট্রেন চালানোর ব্যাপারে চীনের রাষ্ট্রায়াত্ত্ব রেলওয়ে কোম্পানি চায়না রেলওয়ে রোলিং স্টক করপোরেশন (সিআরআরসি) ইতোমধ্যে সমীক্ষা শুরু করেছে। ঢাকা থেকে ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছার পর এখানকার সড়কের গতিশীলতা যদি বিদ্যমান অবস্থায় থাকে তাহলে সব আয়োজনই মাঠে মারা যাবে।

অপরদিকে মীরসরাই ইকোনমিক জোনের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মচারীর জন্যও একটি গতিশীল অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। দক্ষিন চট্টগ্রাম থেকে টানেল হয়ে আউটার রিং রোড ধরে চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছার পর একটি গতিশীল ট্রাফিক নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে হবে। বিষয়গুলো মাথায় রেখে ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে মেট্রোরেল চালুর ব্যাপারে পিপিপি কিংবা জিটুজি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। এক্ষেত্রে সরকার টু সরকার পদ্ধতিই ভালো। তাই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও জিটুজি পদ্ধতি অনুসরণের পক্ষে নিজেদের মতামত দিয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রায়াত্ত্ব রেলওয়ে কোম্পানি চায়না রেলওয়ে রোলিং স্টক করপোরেশনের (সিআরআরসি) একটি প্রতিনিধিদল বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষের সাথে বৈঠক করেছে। শুরুতে তারা সিডিএর অর্থায়নে ফিজিবিলিটি স্টাডির প্রস্তাব করে। কিন্তু সিডিএ তা সম্ভব নয় জানানোর পর চীনা কোম্পানিটি নিজস্ব অর্থায়নে ফিজিবিলিটি স্টাডি করার প্রস্তাব দেয়। দীর্ঘ এই আলোচনায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেট্রোরেলে শুধু নগরী নয়, একই সাথে মীরসরাই ইকোনমিক জোন এলাকাকেও যুক্ত করা হবে। মীরসরাই থেকে অক্সিজেন বা শাহ আমানত ব্রিজ কিংবা টানেল পর্যন্ত এলাকায় মেট্রোরেলের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। ঢাকা থেকে ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছে বন্দর এলাকায় পৌঁছতে যেন দুই ঘন্টা না লাগে সেজন্য মেট্রোরেলের কোন বিকল্প নেই। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই মেট্রোরেলের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কাজী হাসান বিন শামসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিডিএ ভবনে বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা মেট্রোরেলের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে কাজী হাসান বিন শামস বলেন, এটি খুবই জরুরি। একটি গতিশীল নেটওয়ার্ক গড়ে না তুললে আমাদের অনেক অর্জনই ম্লান হয়ে যাবে। তিনি কর্ণফুলী টানেল কিংবা আউটার রিং রোডের সুফল শতভাগ পেতে হলে মেট্রোরেল করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।

Bootstrap Image Preview