Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ মঙ্গলবার, জুন ২০২১ | ৮ আষাঢ় ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

জরাজীর্ণ মসজিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নামাজ পড়েন মুসুল্লিরা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:০১ PM
আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:০১ PM

bdmorning Image Preview
ছবিঃ সংগৃহীত


বিডিমর্নিং ডেস্কঃ দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ পুরাতন মসজিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নামাজ পড়েন মুসল্লীরা। মসজিদটি বিভিন্ন সময়ে সংস্কার ও মেরামত করা হলেও এলাকাবাসী দীর্ঘদিন যাবৎ পুনঃনির্মাণের দাবি করে আসছেন। কিন্তু প্রাচীন ঐতিহ্য হিসেবে প্রশাসনের নিকট ভুলভাবে উপস্থাপন করায় থমকে আছে পুনঃনির্মাণের প্রক্রিয়া।

বানিয়াচং উপজেলার ২ নম্বর ইউনিয়নের চানপাড়া গ্রামে অবস্থিত চানপাড়া জামে মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, ভগ্নপ্রায় এই শতবর্শী পুরনো মসজিদটি। বর্তমানে মসজিদটি বেশ জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। মসজিদটির চারপাশের দেয়ালে অসংখ্য ফাটল, স্থানে স্থানে ধ্বসে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানের দেয়ালের ইট খসে পড়েছে। দেয়ালগাত্রে নেই কোন ধরনের অলংকরন। পুরো মসজিদের দেয়ালে শেওলা জমে ড্যামেজ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে মসজিদের মিম্বরের দুটি কলামের মিনার ভেঙ্গে পড়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ দিকের দরজার উপরে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ভিতরে প্রশস্ততা কম থাকার কারণে মাত্র তিন কাতারেই নামায আদায় করতে হয়। ফলে অনেক মুসল্লীদেরই নামাজের জায়গার সংকুলান হয়না। মসজিদটি পুনঃসংস্কার করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে কথা হয় মসজিদটির নিয়মিত মুসল্লী আবু লেইছের (৮০) সাথে। তিনি বলেন, আল্লাহর ঘরে মানুষ নামাজে আসবে নির্ভয়ে। কিন্তু মসজিদ ভেঙ্গে পড়ার ভয়ে অনেকেই আসতে চায়না।

মুসল্লী আব্দুল মান্নান লস্কর বলেন, আরও আগেই মসজিদ ভেঙ্গে পড়ার কথা । আল্লাহপাক এতদিন যাবৎ রক্ষা করেছেন। কিন্তু এখন আমাদের দায়িত্ব হলো এটা ঠিকঠাক করা।

মসজিদটির পুনঃনির্মাণ কমিটির সেক্রেটারী সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল হালীম সোহেল জানান, মহল্লাবাসী অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়েছে মসজিদটি পুনঃনির্মাণ করার জন্য। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি এটিকে প্রাচীন ঐতিহ্য হিসেবে দেখিয়ে প্রশাসনের নিকট ভুলভাবে উপস্থাপন করে পুনঃনির্মাণ কাজ বাধাগ্রস্থ করছে।

এক পর্যায়ে আব্দুল হালিম সোহেল প্রশ্ন রাখেন, ‘কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়-দায়িত্ব কে নিবে?’

৫ মহল্লার সর্দার আব্দুর রশীদ মেম্বার জানান, মসজিদটি প্রায় ১১০ বছর পূর্বে চানপাড়া মহল্লার জনৈক সোনা উল্লা মিয়া নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার ওয়ারিশানগণ মহল্লাবাসীকে রক্ষনাবেক্ষন করার জন্য সমজিয়ে দিয়েছেন। মসজিদের সমুদয় ভূমি বর্তমানে মহল্লার লোকের নামে রেকর্ডভূক্ত।

১২ মহল্লার সর্দার এনামূল হোসেন খান বাহার জানান, মসজিদটি সুলতানী আমল কিংবা মোঘল আমলের নয়। এটি ৪শ বছরের কোন পুরাকীর্তি বা ঐতিহ্যও নয়। আমরা এর পুনঃসংস্কার চাই। কোন বাধা বিপত্তি চাইনা। কারণ মসজিদটি জেলার ঐতিহ্যের তালিকায়ও নেই।

Bootstrap Image Preview