Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২০২১ | ২ বৈশাখ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

বংশগত সমস্যার কারণে পরিবারের কারও ‘আঙুলের ছাপ নেই’

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:১৩ PM
আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:১৩ PM

bdmorning Image Preview
ছবিঃ সংগৃহীত


বিডিমর্নিং ডেস্কঃ ২০০৮ সালের দিকে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য যখন আঙুলের ছাপ নেওয়া শুরু হয় তখন থেকেই রাজশাহীর পুঠিয়ার অমল সরকার ও তার পরিবারের সমস্যার শুরু। অমল সরকার যখন বারবার আঙ্গুলের ছাপ দিতে ব্যর্থ হন, তখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বুঝতে পারছিলেন না তারা ঠিক কী করবেন। পরে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এনআইডি কার্ডে লেখা হয় ‘আঙুলের ছাপ নেই।’

শুধু অমল সরকার নয়, বিরল এক বংশগত সমস্যার কারণে এই পরিবারের ছয় সদস্যেরই আঙুলে কোনো ছাপ নেই। এ নিয়ে চরম বিড়ম্বনার মধ্যে রয়েছে পরিবারটি। ২০১৬ সালে যখন মোবাইল সিম কার্ডের জন্য আঙুলের ছাপ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়, তখন বিপদের মুখে পড়েন এ পরিবারের অপু সরকার।

অপু বলেন, আমি সিম নিতে যাওয়ার পর যতবার আঙুলের ছাপ দিতে যাই, ততবারই সফটওয়্যার হ্যাং হয়ে যায়। যখন তাদেরকে আমার সমস্যার কথা বললাম, তারা বলল যে সরি, আমরা তো আঙ্গুলের ছাপ ছাড়া সিম দিতে পারবো না। আমার দাদারও একই সমস্যা ছিল। কিন্তু আমার দাদা মনে হয় না এটাকে কখনও সমস্যা হিসেবে দেখেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তার বাবা এবং তার ছোট ভাই- তিনজনই এখন তার মায়ের নামে তোলা সিম ব্যবহার করেন। পাসপোর্টের জন্যও তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ফিঙ্গার প্রিন্ট না আসায় তাদের পাসপোর্টও দেওয়া হচ্ছিল না। অবশেষে কয়েক মাস চেষ্টা করার পর সিভিল সার্জনের করে দেওয়া মেডিক্যাল বোর্ডের সার্টিফিকেট জমা দিয়ে শেষ পর্যন্ত পাসপোর্ট হাতে পান অমল সরকার। তবে বিদেশের বিমানবন্দরে গিয়ে আবার কী ঝামেলায় পড়তে হয়, সেই ভয়ে এখনও বিদেশে ভ্রমণ করার সাহস পাননি তিনি।

অমল সরকার চলাফেরার জন্য একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। তবে তার কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের কার্ডটি নেই। তিনি বলেন, আমি রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিয়েছি। কিন্তু আঙুলের ছাপ না থাকায় আমাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়নি।

এখন মোটরসাইকেল চালানোর সময় তিনি বিআরটিএ-তে জমা দেওয়া ফি-এর রিসিপ্টটি কাছে রাখেন। এরপরও তাকে দু'বার জরিমানা দিতে হয়েছে। অমল সরকারের বাবা এবং দাদারও একই সমস্যা ছিল। তারা দু'জনই ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তার দুই ভাইও একই সমস্যা নিয়ে জন্মেছেন।

বড় ভাই গোপেশ সরকার প্রায় দুই বছর অপেক্ষা করার পর সম্প্রতি তার পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন। দিনাজপুরের একটি হাসপাতালে চাকরি করেন গোপেশ সরকার। তার হাসপাতালে যখন কর্মচারীদের হাজিরার জন্য আঙুলের ছাপ নেওয়া শুরু হয়, তখন তিনি কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে পুরনো পদ্ধতিতে খাতায় স্বাক্ষর রাখতে রাজি করান। সম্প্রতি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে স্মার্টকার্ড করেছেন অপু সরকার ও তার বাবা। আঙ্গুলের ছাপ দিতে পারেননি, তবে রেটিনা স্ক্যান করা হয়েছে তাদের।

তিনি বলেন, এই পাসপোর্টের জন্য আমাকে চার থেকে পাঁচ বার ঢাকা যেতে হয়েছে, এটা বোঝানোর জন্য যে আসলেই আমার এই সমস্যা আছে।

অমল এবং গোপেশ সরকার ছোটবেলা থেকেই যেহেতু জানেন যে আঙুলের ছাপের এ সমস্যা তাদের বংশগত, তাই তারা কখনো চিকিৎসার চেষ্টা করেননি। তবে হাতের তালুর চামড়ার খসখসে ভাব কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে কিছুদিন একটি ক্রিম ব্যবহার করেছিলেন অমল সরকার।

অমল সরকার জানিয়েছেন, কৃষিকাজ করলে তার হাতের চামড়া খুব সহজেই ফেটে যায় ও সেটি তুলনামূলক খসখসে এ নিয়েও তিনি অস্বস্তিতে ভোগেন। তার উপর এই সমস্যার কারণে পদে পদে অপদস্থ হতে হচ্ছে।

অমল বলেন, কারও সাথে হাত মিলাইতে গেলে সে একটু চমকে ওঠে। এটা নিয়ে একটু লজ্জা লাগে আমার।

Bootstrap Image Preview