Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ সোমবার, এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

ভাসানচরে যেসব আধুনিক সুবিধা পাচ্ছেন রোহিঙ্গারা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:৫৭ PM
আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:৫৭ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্কঃ কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব ধরনের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রস্তুত হয়ে আছে নোয়াখালীর ভাসানচরের বিস্তীর্ণ এলাকা।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরের ঘরগুলো বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে ঘেরা। সেগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে ভাসানচরের ঘরগুলো স্ট্যান্ডার্ড ক্লাস্টার হাউস। সেখানে প্রতিটি ঘরের জন্য জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) স্ট্যান্ডার্ড মেনে ৩.৯ বর্গমিটার জায়গা রাখা হয়েছে। কক্সবাজারে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার কারণে পানির স্তর দিন দিন নিচে নামছে। ভাসানচরে আছে ইউএনএইচসিআরের স্ট্যান্ডার্ড মেনে ভূগর্ভস্থ পানি এবং পুকুর, হ্রদ ও খালের ব্যবস্থা।

কক্সবাজারে যেখানে ২০ জন লোকের জন্য রয়েছে একটি টয়লেট এবং ৮০ জনের জন্য একটি বাথরুম, সেখানে ভাসানচরে ১১ জনের জন্য একটি টয়লেট ও ১৬ জনের জন্য একটি বাথরুমের ব্যবস্থা আছে। খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও কক্সবাজারের চেয়ে ভাসানচরে অনেক উন্নত। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরের বেশির ভাগ এলাকাই যেখানে অন্ধকারাচ্ছন্ন, সেখানে ভাসানচরে আছে ডিজেল জেনারেল, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

এক কথায় কক্সবাজারের চেয়ে নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি। প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার জীবন ও জীবিকার জন্য শতভাগ প্রস্তুত ভাসানচর। নিরাপদ আবাসন ও স্বাচ্ছন্দ্য জীবনযাপনের জন্য প্রায় সব উপাদানই রাখা হয়েছে এখানে। তৈরি করা হয়েছে আবাসিক ভবন, বাজার, হাসপাতাল, ক্লিনিক, থানা, সুপারশপ, অফিস ও শেল্টার হাউস। পাশাপাশি আছে জীবিকা নির্বাহের নানা সুবিধা।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের এই ভাসানচরের বিশাল কর্মযজ্ঞের দীর্ঘ স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা। স্বাভাবিক যাতায়াতের জন্য অভ্যন্তরীণ নৌপথের স্টপেজ করার কাজ চলছে।

একসময়ের প্রত্যন্ত চরকে আমুল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। একসময় সেখানে কিছু গাছ আর কয়েকটি মহিষ ছাড়া কিছুই ছিল না। সেই চরকে সাজানো-গোছানো নতুন জনপদে রূপ দিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। প্রায় তিন হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে নেওয়া এই প্রকল্পের সব কাজই শেষ। এখন যেকোনো সময় এখানে এক লাখ এক হাজার ৬০ জন গিয়ে বসবাস করতে পারবে। একরুমে চারজনের থাকার জন্য দ্বিতল বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমন ১৬টি রুম, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা বাথরুম, টয়লেট ও রান্নাঘর নিয়ে বানানো হয়েছে একেকটি বাড়ি। ১২টি করে বাড়ি নিয়ে একেকটি পাড়া বানানো হচ্ছে। পাড়াগুলোকে বলা হচ্ছে ক্লাস্টার।

বিশাল এই প্রকল্পে এমন ১২০টি ক্লাস্টার বানানো হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস্টারে দুর্যোগকালের জন্য বানানো হয়েছে চার তলার একটি করে শেল্টার। ২৬০ কিলোমিটার গতির ঝড়েও অটুট থাকবে এসব শেল্টার। দুর্যোগে এক হাজার মানুষ ও ২০০ গবাদি পশু আশ্রয় নিতে পারবে শেল্টারগুলোতে। তবে স্বাভাবিক সময়ে বসবাস করবে ৯২ জন এবং আয়োজন হবে সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রাথমিক শিক্ষার। মোট ১০০টি এমন শেল্টার হাউস আছে ভাসানচরে।

প্রাথমিকভাবে শেল্টার ভবন হিসেবে তৈরি হলেও ২০টি চারতলা ভবনকে ব্যবহার করা হচ্ছে ভিন্ন কাজে। এর মধ্যে দুটি ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে দুটি ২০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল।

অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে সব ধরনের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা থাকছে এসব হাসপাতালে। এর বাইরে আরো চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে চারটি চারতলা ভবনে। একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবন তৈরি হয়েছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অফিস ও বাসস্থান হিসেবে। আলাদা ভবন থাকছে রেডক্রস বা রেড ক্রিসেন্ট প্রতিনিধিদের জন্য। আরেকটি চারতলা ভবনে অফিস ও বাসস্থান থাকছে আরআরআরসি ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের। থাকছে একটি ভবনজুড়ে মাল্টি পারপাস সুপার শপ।

পুলিশের একটি পূর্ণাঙ্গ থানা ও একটি ফাঁড়ি থাকছে দুই ভবনে। থাকছে দুটি চারতলা স্কুল ভবন। তিনটি চারতলা মসজিদও থাকছে ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জন্য। তৈরি হয়েছে দুটি এতিমখানাও। ডে-কেয়ার সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্যও রয়েছে আলাদা ভবন।

গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের জন্য তৈরি হয়েছে নান্দনিক একটি গেস্ট হাউস। এ ছাড়া নেভির অফিসার ও নাবিকদের জন্য ব্যবহার হচ্ছে দুটি নিরাপত্তা ভবন। প্রকল্প এলাকার ভেতরে যাতায়াতের জন্য বানানো হয়েছে ৪২ কিলোমিটার পাকা ও হেরিং বোন রাস্তা। আছে দুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হেলিপ্যাড।

প্রকল্প পরিচালক কমোডর আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী জানান, ভাসানচর মোট ১৩ হাজার একরের হলেও মাত্র এক হাজার ৭০০ একর জমির চারদিকে বাঁধ দিয়ে ৪৩২ একরের ওপর আবাসন ও অন্যান্য স্থাপনা করা হয়েছে। ৩৫২ একর জমি নৌবাহিনীর ফরওয়ার্ড বেইজের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। আরো ৯৩২ একর ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে। ফলে এখন এক লাখ রোহিঙ্গাকে এখানে স্থানান্তরের পর চাইলে পুরো ১০ লাখকেই ভাসানচরে ধীরে ধীরে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা সম্ভব।

Bootstrap Image Preview