Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২০২১ | ২ বৈশাখ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

মমতার সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়ায় আটক ৩

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ মে ২০১৯, ১০:০৫ AM
আপডেট: ০৫ মে ২০১৯, ১০:০৫ AM

bdmorning Image Preview


মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়ার ‘অপরাধে’ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ৷ আটককৃতরা হলেন সীতারাম মিদ্দা, সায়ন মিদ্দা ও বুদ্ধদেব দোলুই৷ বর্তমানে তাঁদের চন্দ্রকোণা টাউন থানা রাখা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি রাজ্য সড়ক ধরে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে যাচ্ছিলেন ৷ চন্দ্রকোণায় গাড়ি থামাতে বলেন৷ কারণ তিনি কানে কিছু শুনতে পান৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, কিছু মানুষ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনী দিচ্ছিলেন৷ গাড়ি থেকে নেমে মুখ্যমন্ত্রী বলতে থাকেন ‘‘পালাচ্ছিস কেন, আয় আয়৷ পালিচ্ছিস কেন? হরিদাস সব …৷ যারা স্লোগান দিচ্ছিলেন, ততক্ষণে পালিয়ে গিয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীকে রাস্তায় দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা জোরহাত করেছেন৷

২১ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি শনিবার ভাইরাল হয়ে গিয়েছে৷ বিজেপির নেতারা নিজেদের স্যোশাল মিডিয়া পেজে ওই ভিডিও শেয়ার করেন৷ লিখে দেন নানান মন্তব্য৷ ফেসবুক এবং হোয়াটস্ অ্যাপের মাধ্যমে আম জনতার কাছে পৌছে যায় ওই ভিডিও৷ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের দক্ষিণবঙ্গ শাখার তরফ থেকে এক মুখপাত্র সাফ জানান, এই কাজ একজন মুখ্যমন্ত্রী করতে পারেন তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না৷ উনি কেনও কাজই ঠিক করে করে উঠতে পারছেন না৷ তাই হতাশা বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় যে অঞ্চলে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে বিজেপির সংগঠন বেশ শক্ত তা পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরই বোঝা গিয়েছিল৷ এই জেলাতেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের পৈত্রিক বাড়ি৷ এই জেলা থেকেই তিনি বিধায়ক হয়েছেন৷ জঙ্গলমহলের বিজেপির শক্ত অবস্থানের খবর রাখেন মমতাও৷ তিনি ইতিমধ্যেই কিছু নেতৃত্বের পরিবর্তন করেছেন৷

তবে মুখ্যমন্ত্রীকে শুনিয়ে জয় শ্রী রাম ধ্বনী তাকে অযথা উত্তেজিত করার প্রচেষ্ঠা বলেও মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷ অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী অযথা উত্তেজিত হলেন কেন? জয় শ্রী রাম ধ্বনী – বলা তী অপরাধ? মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাদের সঙ্গে গলা মেলাতে পারতেন৷ তাঁকে দেখে সাধারণ মানুষ কেন পালালেন?

এক বিজেপি নেতার বক্তব্য, ‘‘সাধারণ মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের পাশে এমন কাজ করার সাহস পাচ্ছেন৷ এই থেকে অনুমান করা কঠিন নয় যে মানুষের মনে অসন্তোষ রয়েছে৷ সুযোগ পেলেই সেই অসন্তোষ বাইরে বেরিয়ে পড়ছে৷ মানুষ শাসকদলের নেতাদের এখন ভয় পাচ্ছে না৷ ’’

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিতেই রাজি নয়৷ এক নেতার বক্তব্য, ‘‘বিজেপি এই সব করে বাংলায় জনপ্রিয়তা পাবে না৷ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিভাবক মনে করে৷ দু-নম্বরি করে ওরা বাংলায় ক্ষমতায় আসবে?’’

Bootstrap Image Preview