Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ সোমবার, এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

চট্টগ্রামে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা, আটক স্বামী

নারী ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০১৮, ০৫:১২ PM
আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০১৮, ০৫:১২ PM

bdmorning Image Preview
প্রতীকী ছবি


চট্টগ্রামে পরপুরুষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে এমন সন্দেহে স্ত্রী সুমি ইসলামকে (২০) গলা কেটে খুন করে করেছে স্বামী জাহিদ হোসেন রাজু (২৮)।

শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) রাতে শহরের আগ্রাবাদ ছোটপুল নাবালক মিয়াবাড়ির ভাড়াবাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।

সুমিকে খুনের পর শরীর থেকে মাথা আলাদা করে দুই অংশ তিন কিলোমিটার দূরে ফেলে আসেন। কিন্তু মাথাবিহীন শরীরের দুই হাতে রয়ে যায় চুড়ি, যার সঙ্গে রাজুর মোবাইল ফোনে রাখা এক মহিলার ছবির চুড়ির হুবহু মিল রয়েছে। আর এই চুড়িতেই আটকে যান রাজু। স্বীকার করেন খুনের সবকিছু।

গতকাল সোমবার ভোরে নগরীর বেপারীপাড়া কবরস্থান থেকে রাজুর দেখিয়ে দেওয়া ঝোপঝাড় থেকে সুমির কাটা মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

রাজু গ্রেফতার হলেও হত্যাকাণ্ডে তার দুই সহযোগী আবদুল জলিল ও তার স্ত্রী ফেরদৌসি পলাতক রয়েছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশন) আমেনা বেগম বলেন, আশা করছি শিগগির তাদের দুইজনকে আটক করতে পারব।

পুলিশ সূত্র জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে খুলনা সদরের টোটপাড়া সাহেব ভিলা এলাকার সুমি ইসলামের সঙ্গে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা এলাকার জাহিদ হোসেন রাজুর (২৮) বিয়ে হয়। কাঠমিস্ত্রি রাজুর মাটিরাঙ্গায় প্রথম স্ত্রী ও এক শিশুসন্তান আছে। কিন্তু তাদের খোঁজ তিনি রাখেন না। গার্মেন্টসকর্মী সুমিকে বিয়ে করে শুরু হয় তার নতুন সংসার। বিয়ের পর গার্মেন্টসের কাজ ছেড়ে বুটিক হাউসে চাকরি নেন সুমি। কিন্তু অচিরেই সুমির সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু হয় কাঠমিস্ত্রি স্বামীর।

পুলিশকে রাজু জানান, তার সন্দেহ হয় সুমি মোবাইল ফোনে অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলে। বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হতো। রাজুর অভিযোগ অস্বীকার করেন সুমি। রাজুও কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেন না। কিন্তু সন্দেহ ক্রমেই বাড়তে থাকে। এ নিয়ে সুমিকে নিয়মিত মারধর করতেন রাজু।

একদিন আসবাবপত্রের কারখানায় কাজ করার সময় জলিল নামের একজনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। জলিল পেশাদার কসাই এবং রাজুদের কারখানায় রান্নার কাজ করেন। জলিল তাকে পরামর্শ দেন, মেরে ফেললেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এই প্রস্তাব রাজুর পছন্দ হয়। কিন্তু তার একার পক্ষে এ কাজ সম্ভব নয়। তখন জলিল তাকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলে, প্রয়োজনে ওইসময় জলিলের স্ত্রীও থাকবে।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে রাজু পুলিশকে জানান, গত ২৬ অক্টোবর রাতে স্ত্রী ফেরদৌসিকে নিয়ে জলিল যান জাহিদ হোসেন রাজুর আগ্রাবাদ ছোটপুল নাবালক মিয়াবাড়ির ভাড়াবাড়িতে।

তারা রাজু ও সুমির ঝগড়া মীমাংসার অভিনয় করতে থাকেন। এ সময় একটি নাইলনের রশি নিয়ে রাজু পেছন থেকে শ্বাসরোধে সুমিকে হত্যা করেন। সেসময় জলিলের স্ত্রী ফেরদৌসি তখন সুমির দুই পা চেপে ধরেন।

মৃত্যু নিশ্চিত করার পর জলিলের পরামর্শে ছুরি দিয়ে সুমির মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলেন রাজু। এরপর পেশাদার কসাই জলিল সুমির হাত-পা মুচড়ে একটি সিমেন্টের বস্তায় ভরেন। বস্তার মুখ বন্ধ করে দুজন দুপাশে ধরে সেটি ঘটনাস্থল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ইসলাম মিয়া ব্রিকফিল্ড তিন নম্বর সড়কের পাশের ড্রেনে ফেলে দেন।

রাত দেড়টায় বস্তাবন্দি দেহটি ফেলে আসার পর ভোর সাড়ে চারটায় ছোটপুল বেপারীপাড়া কবরস্থানের ঝোপের ভেতর ফেলা হয় মাথাটি। সেটি একটি বাজারের থলেতে করে নেওয়া হয়। পুরো কাজে রিকশা কিংবা অন্য কোনো যানবাহন ব্যবহার করা হয়নি।

রাজু বলেন, জলিলের পরামর্শে এটি করা হয়, যাতে কোনো সাক্ষী না থাকে।

এবিষয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম ওবায়দুল হক বলেন, মস্তকবিহীন নারীর লাশ পাওয়ার পর আমরা খুঁজতে থাকি আশপাশের কোন বাড়ি থেকে মহিলা নিখোঁজ হয়েছে। কিন্তু কোথাও খোঁজ মেলে না।

এরই মধ্যে একটি অজ্ঞাত ফোন আসে আমাদের কাছে। সেই ফোনের সূত্র ধরে রাজুকে পাই।

রাজুকে গ্রেফতারের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সুমিকে খুনের পর রাজু ভাড়াবাসায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান। কিন্তু গত রবিবার রাতে তিনি বাসায় আসেন পরিধেয় জিনিসপত্র নিতে। সেসব নিয়ে তিনি কারখানায় যান। এরই মধ্যে ধরা পড়েন পুলিশের হাতে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, আমরা সুমির বাবা-মার কাছে খবর পাঠিয়েছি। তারা চট্টগ্রাম আসছেন। তিনি বলেন, এটি ছিল মূলত একটি ক্লুলেস মামলা, যা পুলিশ উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।

Bootstrap Image Preview