Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৮ শুক্রবার, জানুয়ারী ২০২২ | ১৪ মাঘ ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

আজব নেশাদ্রব্য ‘খাট’ না চুষলে অচল তাঁদের জীবন!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:২২ PM
আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:২৯ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


গত কয়েক সপ্তাহে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘খাট’-এর একাধিক চালান জব্দের পর সারাদেশে আলোচনায় নতুন এই মাদক। কয়েকদিন আগেও কথিত মাদক ‘খাট’ সম্পর্কে কোনো ধারনা ছিল না বাংলাদেশের মানুষের। অন্ধকারে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ঢাকা কাস্টমস হাউস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এই দুই সপ্তাহে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের তিন হাজার কেজি ‘খাটপাতা’ জব্দের পর আলোড়ন তৈরি করে সোমালিল্যান্ডের জনপ্রিয় এ মাদক।

নতুন এই মাদক নিয়ে ডিডাব্লিউ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালিল্যান্ডের অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং জনজীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে নেশাদ্রব্য ‘খাট’৷ ছেলে-বুড়ো, ধনী-গরীব সবাই এখন ‘খাট’-এ আসক্ত৷

পাঠকদের জন্য সোমালিয়ার স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল সোমালিল্যান্ডের আজব এই মাদক ‘খাট’-এর কিছু কথা

সবারই চাই ‘খাট’

সোমালিল্যান্ডের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ ‘খাট’-এ আসক্ত৷ এটা না চুষলে তাঁদের যেন জীবন অচল৷ এ নেশার জন্য বেকারদেরও টাকার অভাব হয়না৷ বেকার যুবক আব্দিখালিদ ধার করে নেশা করে যাচ্ছেন এবং নিশ্চিন্তেই বলছেন, ‘‘নেশা করার টাকা এখন বন্ধুরা দেয়৷ আমি কোনো কাজ পেলেই ধারটা শোধ করে দেবো৷’’ প্রতিদিন খাট-এর পেছনে ১ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৯ লক্ষ ৩০ হাজার ইউরো খরচ করে সোমালিল্যান্ডের মানুষ৷

মদের চেয়ে ভালো? শক্তি জোগায়?

খাট নাকি মদের চেয়ে ভালো, এই নেশা নাকি শক্তি জোগায়৷ খাট-এ আসক্তদের অনেকে মনেপ্রাণে তা বিশ্বাস করেন৷ এক সাংবাদিক বললেন, ‘‘এটা নেয়ার পর স্বাভাবিকভাবে কাজ করা যায়৷’’

‘খাট মা’

রাস্তার পাশেই অসংখ্য ‘খাট’-এর দোকান৷ ব্যবসাটা মূলত মহিলারাই চালান৷ স্থানীয়রা তাঁদের ডাকেন ‘খাট মা’ নামে৷ জাহরে আইদিদ একসময় ছিলেন কফি বিক্রেতা৷ অন্য ব্যবসাও করেছেন৷ কিছুতেই দারিদ্র্য যাচ্ছিল না৷ অবশেষে এলেন খাট ব্যবসায়৷ এখন ভালো আছেন৷ এক দাঁতের ডাক্তারের চেম্বারের পাশেই তাঁর দোকান৷ শত শত ক্রেতা আসে প্রতিদিন৷ জনপ্রতি অন্তত ৬ থেকে ১০ ডলার খরচ করেন খাট-এর পেছনে৷

গৃহযু্দ্ধের ‘উপহার’!

২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সোমালিল্যান্ড ছিল গৃহযুদ্ধের কবলে৷ গৃহযুদ্ধ শেষে ভয়াবহ রূপে দেখা দেয় অর্থনৈতিক সংকট৷ নারীরা উপার্জনের কোনো পথ পাচ্ছিলেন না৷ খাট ব্যবসা সহজ, বেশি পুঁজিরও প্রয়োজন হয় না বলে অসংখ্য নারী চলে আসেন এই ব্যবসায়৷ এখন খাট-আসক্ত নারীও বাড়ছে৷ সোমালিল্যান্ডের ২০ ভাগ নারী এখন খাট-এ আসক্ত৷ নারীরা অবশ্য নেশা করেন গোপনে৷

‘খাট এক্সপ্রেস’

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত হয় খাট৷ সেখান থেকে ট্রাকে করে নিয়ে আসা হয় সোমালিল্যান্ডে৷ নতুন ঠিকানায় খাট আশ্রয় নেয় বিশেষ নাম্বারে চিহ্নিত কোনো দোকানে৷ ক্রেতাদের সুবিধার্থে প্রতিটি দোকানের সামনেই লেখা হয় শনাক্তকরণ নম্বর৷

রাজস্ব আয়ের উৎস

সোমালিল্যান্ডের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে খাট৷ অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত অর্থবছরে সোমালিল্যান্ডের ১৫২ মিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বাজেটের ২০ শতাংশই এসেছিল খাট খাত থেকে৷ তাতে অবশ্য নেশাদ্রব্য নিয়ে সমালোচনা থামেনি৷ পরিবার ও সমাজ জীবনে নেশাদ্রব্য এবং নেশাগ্রস্তদের কুপ্রভাব নিয়ে অনেকেই চিন্তিত৷

পুরুষ নেশা করছে, খেটে মরছে নারী

খাট-এর কারণে অনেক পরিবারই ভুগছে৷ নেশাগ্রস্ত পুরুষরা ঘরেই কাটাচ্ছে সময়, অন্যদিকে সংসার চালানোর দায়িত্ব এককভাবে পালন করতে গিয়ে খেটে মরছে মেয়েরা৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফাতিমা সাঈদ জানালেন, ‘‘পুরুষরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বসে (খাট) চুষে৷ এর আসক্তি খুব ভয়ংকর৷ খাটের কারণে দৃষ্টিভ্রম, অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দাসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে৷’’

নেশাগ্রস্তদের ‘সাফাই’

আসক্তরা খাট-এর পক্ষে সবসময়ই সোচ্চার৷ তাঁরা মনে করেন, এই নেশার উপকারই বেশি৷ আব্দুল মনে করেন, খাট মানুষকে একতাবদ্ধ করে এবং খাট সেবনের সময় সবার মধ্যে সুখ-দুঃখের কথা হয়৷ যাঁরা নেশা করছেন তাঁরা তো চাইবেনই না, খাট সেবন বন্ধ হোক, ইথিওপিয়াও তা কখনো চাইবেনা৷ সোমালিল্যান্ডে বছরে ৫২৪ মিলিয়ন ডলারের খাট বিক্রি করে ইথিওপিয়া৷ খাট বন্ধ হলে আয়টাও যে বন্ধ হবে!

Bootstrap Image Preview