Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১১ মঙ্গলবার, আগষ্ট ২০২০ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

একজন শাহজাহান সিরাজ ও মুক্তিযুদ্ধের মহান ‘খলিফা’

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২০, ১০:১৬ PM
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২০, ১০:১৬ PM

bdmorning Image Preview


মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠকারী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী বিএনপি নেতা শাহজাহান সিরাজ আর নেই। মুক্তিযুদ্ধের কথিত ‘চার খলিফার’ একজন ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর এয়ার কেয়ার (সাবেক অ্যাপোলো) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তুখোড় রাজনীতিক। আসুন পাঠক, একনজরে শাহজাহান সিরাজের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত দেখে নিই। 

১৯৪৩ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্মগ্রহণ করেন শাহজাহাল সিরাজ। ১৯৬২ সালে টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত কলেজের ছাত্রাবস্থায় হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে পা রাখা শাহজাহান সিরাজ ১৯৬৪-৬৫ ও ১৯৬৬-৬৭ দুই মেয়াদে করটিয়া সা’দত কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। একজন সক্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি ১১ দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা রাখেন। 

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন শাহজাহান সিরাজ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যাদের ‘চার খলিফা’ বলা হতো তাদের শাহাজান সিরাজ ছিলেন তাদেরই একজন। অপর তিনজন হলেন নূরে আলম সিদ্দিকী, আ স ম আব্দুর রব ও আবদুর কুদ্দুস মাখন।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ তিনি সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, নূরে আলম সিদ্দিকী, আ স ম আব্দুর রব প্রমুখ ছাত্রনেতার পাশাপাশি স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। 

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন আ স ম আবদুর রব। সেখান থেকেই পরবর্তী দিনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠের পরিকল্পনা করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ মার্চ ১৯৭১ পল্টন ময়দানে বিশাল এক ছাত্র জনসভায় বঙ্গবন্ধুর সামনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিলেন শাজাহান সিরাজ। পরে যুদ্ধ শুরু হলে তিনি সশস্ত্র যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স’ (বিএলএফ) বা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭০-৭২ মেয়াদে অবিভক্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ (যার অন্য নাম নিউক্লিয়াস) এর সক্রিয় কর্মী, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা।

স্বাধীনতা পরবর্তী সর্বদলীয় সমাজতান্ত্রিক সরকার গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠনে ভূমিকা রাখেন শাহজাহান সিরাজ। যা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিরোধী দল। জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি জাসদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং জাসদের মনোনয়নে তিনবার তিনি টাঙ্গাইল-৪ সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

১৯৯৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপিতে যোগ দেন শাহজাহান সিরাজ। তিনি বিএনপির মনোনয়নেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেগম জিয়া সরকারের শেষ পর্যায়ে তাকে নৌপরিবহন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব দেয়া হয়।

Bootstrap Image Preview