Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১১ মঙ্গলবার, আগষ্ট ২০২০ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

ডিআইজি নয়, আমি আইজিপিকেও পরোয়া করি না: সেই এসআই রূপন নাথ ক্লোজড

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২০, ০৯:০৬ PM
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২০, ০৯:০৬ PM

bdmorning Image Preview


নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে আটক করা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি এবং ঘুষ নেয়া ৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন অভিযুক্ত এসআই রূপন নাথ। এর আগে সোমবার দুপুরে তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়। কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্রে এসআই রূপন নাথের ক্লোজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত ৫ জুলাই রোববার ভুক্তভোগী সিএনজিচালক মিলন (৩৪) নোয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। একই দিন রাত ১০টায় এসআই রূপন নাথের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্তে আসেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আবদুর রহিম।

তদন্তের সময় অভিযোগকারী সিএনজি চালক মিলন তার গাড়ির মালিক পিন্টু ভৌমিক এবং মিলনের বাবা গ্রাম পুলিশ ছায়েদল হকের জবানবন্ধি রেকর্ড করা হয়। তদন্ত সম্পন্ন হলে তদন্তকারী ওই পুলিশ কর্মকর্তা রাতেই কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে জেলা হেড কোয়ার্টারে চলে যান। সোমবার বিকালের দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির নির্দেশে এসআই রূপন নাথ সিএনজিচালক মিলন ও গাড়ির মালিক পিন্টু ভৌমিকের কাছে আটক সিএনজি ও ঘুষের নেয়া ৫ হাজার টাকা ফেরত দেন।

এর আগে এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই রুপন বলেন, ‘আমি এসআই রুপন নাথ বলছি, ডিআইজি নয়, আমি আইজিপিকেও পরোয়া করি না। পারলে আপনাদের মন্ত্রীকে (ওবায়দুল কাদের) দিয়ে আমাকে বদলি করিয়ে দেন।’ এ বিষয়ে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত আছে।

এসআই রুপনের দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৫ হাজার টাকার জন্য সিএনজি অটোরিকশাটি এখনও আটকে রাখা হয়েছে থানায়।

শুক্রবার রাতের এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিএনজিচালক মিলন রোববার সকালে নোয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেলকে) তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে রোববার বিকালে পাঠানো হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সিএনজিচালক মিলন অভিযোগে জানান, তাকে আটক করার পর তার বাবা চরকাঁকড়া ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডে বেছু মাঝির বাড়ির গ্রাম পুলিশ ছায়েদল হক সংবাদ পেয়ে মিলনের ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটোরিকশার মালিক পিন্টু ভৌমিককে নিয়ে শুক্রবার রাতেই থানায় আসেন। মিলনকে আটককারী এসআই রুপন নাথ ভিকটিম মিলনের বাবাকে জানান, সে মাদক ব্যবসায় জড়িত। ৫০ হাজার টাকা না দিলে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হবে।

দেন-দরবার শেষে ১০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেয়া হবে বলার পর পিন্টু ভৌমিকের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ছায়েদল হক এনে দেন এসআই রুপন নাথকে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার সময় সিএনজিচালক মিলনকে তার বাবা গ্রাম পুলিশ ও সিএনজি অটোরিকশার মালিক পিন্টু ভৌমিকের কাছে থানার লকআপ খুলে হস্তান্তর করেন। অবশিষ্ট ৫ হাজার টাকা নিয়ে আসলে সিএনজি অটোরিকশাটি ফেরত দেয়া হবে বলে জানায় রুপন নাথ।

আটক সিএনজি অটোরিকশাটির মালিক পিন্টু ভৌমিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মিলন এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। এ সুবাদে তাকে গাড়িটির চালক হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করি। কিন্তু এসআই রুপন নাথ অসৎ উদ্দেশ্যে মিলনকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ফন্দি এঁটে তাকে প্রতারণা করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ৫০ হাজার টাকা দাবির স্থলে ১০ হাজার টাকায় আমরা তাকে ও গাড়ি ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হই।

তিনি বলেন, এসআই রুপন নাথ আমার মোবাইলে অসংখ্যবার ফোন দিয়ে জানতে চান অবশিষ্ট ৫ হাজার টাকা দিয়ে কেন সিএনজি গাড়িটি ছাড়িয়ে নিচ্ছি না। কীভাবে আমি ঘুমাচ্ছি গাড়িটি ছাড়িয়ে না নিয়ে। পরে ৫ লাখ টাকা খরচ করেও গাড়িটি উদ্ধার করতে পারব না বলে আমাকে তিনি হুমকি দেন।

এসআই রুপন নাথ মোবাইলে এ ঘটনায় কারো কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আপনি পারলে বড় বড় করে পত্রিকায় লিখে দেন। আমি কোম্পানীগঞ্জের মানুষকে মেরে মামলায় আসামি করে তারপর কোম্পানীগঞ্জ ছাড়ব। আমি এসআই রুপন নাথ বলছি, ডিআইজি নয়, আমি আইজিপিকেও পরোয়া করি না। পারলে আপনাদের মন্ত্রীকে (ওবায়দুল কাদের) দিয়ে আমাকে বদলি করিয়ে দেন।’

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান জানান, এ বিষয়টি সম্পূর্ণ আমার জানার বাইরে। কাউকে বিনা কারণে আটক করে টাকা আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। যে কোনো গাড়িও বিনা কারণে আটক রাখা বেআইনি। তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Bootstrap Image Preview