Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৭ রবিবার, জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নে ৭ দিনে দুই খুন

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২০, ১১:৪৭ PM
আপডেট: ০৯ মে ২০২০, ১১:৫০ PM

bdmorning Image Preview


কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের শাপলাপুর ইউনিয়নে দিন যত যাচ্ছে লাশের সংখ্যা ততোই বেড়েই চলছে। এই ইউনিয়নে পূর্বপরিকল্পনা বা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরপর এক সাপ্তাহের ব্যবধানে দুইটি ভয়াবহ হত্যাকান্ড ঘটেছে । তুচ্ছতাচ্ছিল্য থেকেই ঘটেছে বেশীর ভাগ ঘটনা। একদিকে পবিত্র রমজান এবং অপরদিকে করোনাকালে খুনোখুনির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপের সচেতন লোকজনও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। 

এসব খুনের ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি ঘটনার টানা ৫ দিন পরেও থানা কর্তৃপক্ষ হত্যা মামলা গ্রহণ করছে না বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হত্যা মামলায় স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে আসামি করায় পুলিশ মামলা নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত কলেজ ছাত্রের পরিবার।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে গত ২ মে দ্বীপের শামলাপুর ইউনিয়নের জেএম নয়াপাড়া গ্রামে। প্রেম ঘটিত ঘটনার জের ধরে মেহেদী হাসান মিরাজ (২১) নামের কলেজ ছাত্রকে প্রতিপক্ষ বেদম মারধর করে। পরের দিন চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহিত মেহেদী ছিলেন পটিয়া সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র।

এ ব্যাপারে মহেশখালী  থানায় নিহত কলেজ ছাত্রের পরিবারের পক্ষে থানায় মামলা নিয়ে গেলে ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। নিহত কলেজ ছাত্র মিরাজের ভাই আবু হানিফ অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ওসমানের হুকুমেই তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, দেখুন যে সব লোকজন এ ঘটনায় জড়িত নন সেসব ব্যক্তিকেও আসামি করা হচ্ছে তাই আমি সঠিক তথ্য দিয়ে অভিযোগ দিতে বলেছি মাত্র।

তিনি বলেন, মোহাম্মদ ওসমান নামের স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে ঘটনায় জড়িত করা হচ্ছে অথচ তিনি ঘটনার সময় ইউনিয়ন পরিষদের একটি সভায় ছিলেন। ওসি ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে এ বিষয়টি জেনেই বাদী পক্ষকে সঠিক ব্যক্তিদের আসামি করার জন্য পরামর্শ দেন বলে জানান তিনি। 

ওদিকে কলেজ ছাত্র হত্যার ঘটনায় থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে শনিবার দ্বীপে বিক্ষুব্ধ লোকজন মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসুচিতে দ্বীপের সাধারণ লোকজন ছাড়াও বহু সংখ্যক ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী যোগ দেন। শনিবার বিকালে শাপলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ছাত্ররা অবিলম্বে হত্যা মামলাটি রেকর্ড করার জন্য দাবি জানান। নিহতের ভাই আবু হানিফ জানান, ঘটনার পর থেকে এখনো পযন্ত অদৃশ্য কারণে মামলা হয়নি। এদিকে হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘোরা ফেরা করায় নিহতের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

অপরদিকে একই ইউনিয়নে শুক্রবার দিবাগত রাতেও খুন হয়েছে একজন মেধাবী স্কুল ছাত্রী। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নিহত ছাত্রী নাসিমার বাড়ির পাশে একটি দোকান রয়েছে। রাতে দোকানে থাকা কাউসার নামের এক যুবক স্কুলছাত্রীর বাড়ির দরজার পাশে নীরবে ওতপেতে ছিল। বাড়ির রান্নাঘরে ব্যবহৃত উচ্ছিষ্ট পানি ফেলে দেয়ার সময় যুবকের শরীরে পড়ে। এতে উত্তেজিত হয়ে ওঠে যুবক কাউসার ও দোকানের লোকজন। এ সময় নাছিমার এক ভাই বাড়ি থেকে বের হয়ে ঘটনার প্রতিবাদ করতে চাইলে সে তাকে টেনে বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়। তখনই কাউসার ওই স্কুলছাত্রীর শরীরে জোরে লাথি মারে। এতে লুটিয়ে পড়ে নাছিমা। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। কাউসার ওই এলাকার কবির আহমদের ছেলে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, ঘটনার পরপরই ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

মহেশখালীতে একের পড় এক খুনের বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন জানান, সাগর আর পাহাড়ের লীলাভূমিতে যেখানে মেজাজ শান্ত থাকার কথা সেখানে করোনার লকডাউনে মহেশখালীতে প্রতিদিন ঘটছে গৃহবিবাদ। তুচ্ছ কারণেই একজন আরেকজনের মাথায় আঘাত করছে।’

পুলিশ সুপার দুঃখের সাথে বলেন, একটি হত্যা মামলার জন্য অনেক অতি উৎসাহী ব্যক্তি অপেক্ষা করে থাকেন। ঘটনা একটি ঘটলেই প্রতিপক্ষ জড়িত থাকুক আর নাই থাকুক যে কোনোভাবে তাদের আসামি করা হয়। অবস্থা এমনই যে, খুনের ঘটনায় প্রকৃত খুনি থাকেন ৩/৫ জন অথচ মামলায় আসামি করা হয় ৫০/৬০ জন। এভাবেই একটি জঘন্য হত্যা মামলার বারটা বাজিয়ে দেয়া হয়।

 

Bootstrap Image Preview