Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৬ শনিবার, জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘বিদ্যানন্দে'র চেয়ারম্যান পদেই বহাল কিশোর কুমার, পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেনি নির্বাহী কমিটি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২০, ০৫:৩৫ PM
আপডেট: ০৫ মে ২০২০, ০৫:৩৫ PM

bdmorning Image Preview


‘বিদ্যানন্দে'র প্রধানের পদ থেকে কিশোর কুমার দাশ সরে যাওয়ার পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণ করেনি বিদ্যানন্দের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। 

এই বিষয়ে ‘বিদ্যানন্দে'র ঢাকা জনের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দিয়ে তুলনামূলক ছোট পোস্টে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছার কথা জানান বিদ্যানন্দের প্রতিষ্ঠাতা। শারীরিক এবং মানসিক ক্লান্তি, নতুন নেতৃত্বে কাজকে বেগবান করা এবং আত্মত্যাগে স্বেচ্ছাসেবকদের অনুপ্রাণিত করাকে তিনি কারণ হিসেবে দেখান। তবে মিথ্যা অপপ্রচার এই সিদ্ধান্তে অনেকটা প্রভাবিত করেছে, পেশাদার কাজের আড়ালে বেশ আবেগ নির্ভর এই মানুষটিকে।

তিনি বলেন, কভিড-১৯ ক্যাম্পেইন ফোকাস রাখতে নির্বাহী কমিটির মেম্বাররা এই পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেন নি। গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুসারে আমরা উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। তাই কিশোর কুমার দাশ এখনও চেয়ারম্যান পদে আছেন এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। যতদিন বিদ্যানন্দ থাকবে তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠাতা এবং পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবেন।

সালমান আরও বলেন, ব্যক্তির চেয়ে কাজটিকে সবসময় বড় করে দেখেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। তাই যে কোন সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের কাজ, গ্রহণযোগ্যতা এবং অগ্রযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সে চেষ্টাই আমরা করবো।

করোনা সংক্রমণের শুরুতে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আলোচনায় আসে সমাজসেবামূলক সংস্থা ‘বিদ্যানন্দ।' বিদ্যা বা শিক্ষা দিয়ে শুরু হলেও বিভিন্ন সময় সংগঠনটির সঙ্গে ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা খুঁজেছেন এক শ্রেণীর ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। আর এ কারণেই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদ থেকে কিশোর কুমার দাশ সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়ক বিষয় নিয়েই কাজ করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি। এছাড়াও সংগঠনের এক টাকায় আহার নামের একটি প্রকল্পও বেশ পরিচিত। 

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে বিদ্যানন্দের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

ওই ঘোষণা পত্রে বলা হয়, বিদ্যানন্দ নামটি দিয়েছেন এক মুসলিম ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। 'আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন' স্লোগানে তিনি এই নাম দিয়েছিলেন। অনেকেই ব্যক্তির নাম থেকে বিদ্যানন্দ নামের উদ্ভব ভেবে ভুল করেন। এজন্য আমরা নামটাই পরিবর্তন করতে চেয়েছি, কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকরা রাজী হয় না।

বিদ্যানন্দের প্রবাসী উদ্যোক্তা সশরীরে খুব অল্পই সময় দিতে পারেন। ৯০ ভাগ মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরাই চালিয়ে যান বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবুও উদ্যোক্তার ধর্ম পরিচয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে। সে সমস্যাও আশা করি সমাধান হয়ে যাবে। বিদ্যানন্দ প্রধান গত মাসেই পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। বিষয়টি আমরা প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম কভিড-১৯ ক্যাম্পেইনের পরে।

ঘোষণায় বলা হয়, ত্যাগের উপর ভিত্তি করে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা। আর্থিক, সামাজিক কিংবা ব্যক্তিগত ত্যাগে স্বেচ্ছাসেবকরা রচনা করে অনুপ্রেরণার গল্পগুলো। নিশ্চিত থাকেন, তাঁদের সে যাত্রা অব্যাহত থাকবে আগামীতেও। ক্ষমা চাচ্ছি এই হতাশার বার্তার জন্য। গত মাসের এই সিদ্ধান্তটি আমরা প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম কভিড-১৯ ক্যাম্পেইনের পর। কিন্তু অনেকগুলো পেজ থেকেই প্রচুর ন্যাগেটিভ লেখা শেয়ার হচ্ছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্যাম্পেইনটি। তাই শেয়ার করতে বাধ্য হয়েছি।

কিশোর কুমার দাশ-এর পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণায় সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। 

Bootstrap Image Preview