Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৭ রবিবার, জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে চাকরি বাঁচাতে নদী পার হচ্ছে হাজারো মানুষ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ মে ২০২০, ০৩:০২ PM
আপডেট: ০১ মে ২০২০, ০৩:০২ PM

bdmorning Image Preview


কাজে যোগ দিতে হবে, যেতে হবে রাজধানী ঢাকায়। দেশের মানুষের কর্মক্ষেত্রের এক বড় নগরী। জীবিকার তাড়না করোনা ভাইরাসের লকডাউনকে হার মানায়, হার মানায় বৈরী আবহাওয়াকেও। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শত শত মানুষ তাই বৃষ্টি মাথায় নিয়েও পার হচ্ছেন পদ্মা। 

শুক্রবার (১ মে) সকাল থেকেই ঢাকাগামী যাত্রীদের ভিড় রয়েছে শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। ফেরিতে পার হওয়া পরিবহনের সংখ্যা খুবই কম, তবে সেই জায়গা দখল করেছে সাধারণ যাত্রীরা। লঞ্চ, স্পিডবোট বন্ধ। ফলে পদ্মা পার হবার একমাত্র উপায় এখন ফেরি। সে কারণে ফেরিতেই যাত্রীদের ঢল নেমেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের কারণে কার্যত লকডাউন দেশের বিভিন্ন এলাকা। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফেরেনি রাজধানী ঢাকাতেও। চলছে না দূরপাল্লার কোনো পরিবহন। তবে এরই মধ্যে পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা খুলে দেওয়ার খবরে চাকরি বাঁচাতে ছুটতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। 

গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, বরিশাল, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন কারখানায় কাজ করে তাদের বড় একটা অংশই ঢাকার উদ্দেশে গত কয়েকদিন ধরেই যাচ্ছে। শুক্রবারও তাদের যাত্রা থেমে নেই। পথে পথে ছোট যানবাহনে করে ভেঙে ভেঙে শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাটে এসে পৌঁছান তারা। এখানে ফেরিতে করে পদ্মা পার হতে হচ্ছে এই যাত্রীদের।

এদিকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই বৈরী আবহাওয়া শুরু হয়। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। বৃষ্টি আর বাতাস বইতে থাকে। এই আবহাওয়ার মধ্যেই দুর্ভোগ মাথায় নিয়েই পদ্মা পার হচ্ছে শত শত যাত্রী।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে ৭টি ফেরি চলছে। এর মধ্যে ২টি রোরো, ২টি ডাম্প, ২টি মিডিয়াম ও ১টি ছোট ফেরি রয়েছে। পরিবহনের সংখ্যা ঘাট এলাকায় কম। তবে যাত্রীদের ভিড় রয়েছে। পরিবহনের জন্য ১ ঘণ্টার মতো ঘাটে দেরি করে সাধারণ যাত্রী নিয়ে ফেরিগুলো ঘাট ছাড়ছে।

স্থানীয় এক তরুণের মাধ্যমে মেবাইল ফোনে আলাপ হয় যাত্রীদের সঙ্গে। একদিকে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি, অন্যদিকে ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কেন যাচ্ছেন ঢাকা? এই প্রশ্নের জবাবে এক যাত্রী বলেন, পেটের ক্ষুধার জন্য যাচ্ছি। বাড়িতে এই কদিন তো ছিলাম। কাজ না করলে খাবার আসবে কোত্থেকে? করোনার চেয়েও পেটের ক্ষুধা বড়। কাজে যেতে না পারলে হয়তো চাকরিও থাকবে না।

টেকেরহাট থেকে আসা এক ব্যক্তি বলেন, ত্রাণের চালে কয়দিন চলে? ইনকাম বন্ধ। অথচ খাওনের মুখ তো বন্ধ হয় না। এইভাবে আর কয়দিন চলা যায়?'

ঘাট সূত্র জানায়, সকাল থেকেই ঢাকাগামী যাত্রীরা ঘাটে আসছে। সকালের দিকে ট্রলারে করেও পার হয়েছে। ঝড়বৃষ্টি থাকায় ফেরিতে করে সব যাত্রীরা পার হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম বলেন, ফেরিতে পরিবহন কম। তাই সকাল থেকে সাধারণ যাত্রীরাই পার হচ্ছে। ফেরি লোড হতে সময় লাগছে এক/দেড় ঘণ্টা।

Bootstrap Image Preview