Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৫ শুক্রবার, জুন ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

প্রাণ আর প্রকৃতি রক্ষাই যার ধ্যানজ্ঞান

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২০, ০৯:২৮ PM
আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২০, ০৯:২৮ PM

bdmorning Image Preview


ডেস্ক রিপোর্ট মানব সমাজে অনেকে নির্মম হন পশুপাখির বিরুদ্ধে। আবার মানব মনেই থাকে পশু-পাখির জন্য মমত্ব। সাংবাদিক হৃদয়ের জন্য দ্বিতীয় বাক্যটি প্রযোজ্য। পেশায় তিনি সংবাদকর্মী। কাজ করছেন বেসরকারি জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলে জিটিভি ও সারাবাংলা ডট নেট এ মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট হিসেবে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণি, পাখি সংরক্ষণ এবং প্রাণির অধিকার আদায়েও তিনি সরব।

প্রাণির অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তিনি কষ্ট পান। পরিবেশ বিপর্যয়ে যখন বাস্তুসংস্থান নষ্ট হচ্ছে, নগরায়ন কিংবা বন উজারের ফলে যখন বন্যপ্রাণি আশ্রয় হারাচ্ছে, মানব সৃষ্ট দুর্যোগে যখন পাখি নীড় হারাচ্ছে তখন প্রকৃতির যোদ্ধা হয়ে এগিয়ে এসেছেন সাংবাদিক হৃদয় । তার একান্ত চাওয়া সবুজ প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষিত থাকুক। গণমাধ্যমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র নিয়ে কাজ করেন হৃদয় । টিভি এবং প্রিন্ট মিডিয়া সহ অনলাইন পোর্টালে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র নিয়ে অসংখ্য প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি লাভ করেছেন জনপ্রিয়তা।

পাখি, সাপ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি। ব্যাঙ, তক্ষক, টিকটিকি, হাতি, বানর, বানরের বেঁচে থাকার নিয়মে ব্যাত্যয় ঘটলে এড়িয়ে যায় না তার চোখ। প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি সেগুলো তুলে আনেন। তার ক্যামেরায় উঠে আসে প্রাণ প্রকৃতি রক্ষার নানা দিক। তিনি তুলে ধরেন পরিবেশের সঙ্গে মানুষের বেঁচে থাকার সম্পর্কের কথা। পাশাপাশি তুলে আনেন বন খেকোদের বন উজার, পাহাড়ের বুক থেকে পাথর উত্তোলনকারীদের দস্যিপনার খবর।

একাধিকবার নানা পরিবেশ ইস্যুতে তার প্রতিবেদনে চাকরি হারিয়েছেন খোদ বন বিভাগের লোকজন তার পর থেকেই টনক নড়ে প্রশাসন ও পরিবেশবিদদের।

হৃদয় দেবনাথ এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডি লক্ষ্য করলে যে কেউ বুঝবেন- সর্বদা প্রাণ ও প্রকৃতি বাঁচানোর জন্য তিনি কি কি করছেন। এজন্য জীবনের ঝুঁকি নিতেও ভয় পান না তিনি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে বৃক্ষেরোপন ও সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১৮ সম্মানেও ভূষিত হন সাংবাদিক হৃদয় । পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতেও তার অবদান রয়েছে।

হৃদয় দেবনাথ বলেন, প্রতিটি প্রাণি আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণ ও প্রকৃতি আঁকড়ে টিকে আছে আমাদের মানব সভ্যতা। তাই এগুলো রক্ষা করা মানে আমাদের নিজ সভ্যতা রক্ষা করা। কিন্তু বুঝে, না বুঝে প্রাণি হত্যার মাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়ত হত্যা করে চলেছি আমাদের ভবিষ্যত। প্রাণি ও প্রকৃতি রক্ষায় একটু হলেও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমার এই ছোট্ট প্রচেষ্টা।এখন পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসংখ্য বিপন্ন বিলুপ্ত প্রায় পাখি/বন্যপ্রাণী চোরা শিকারিদের হাত থেকে উদ্ধার করে মুক্ত করে দিয়েছেন সাংবাদিক হৃদয়।

হৃদয় আরো বলেন , প্রাণি ও মানুষের মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে মানুষ কথা বলতে পারে। অন্য প্রাণিরা পারে না। তাই প্রাণিকুলে মানুষের খেয়ালখুশির কাছে ওরা অসহায়। ফলে মানুষের চরম নির্মমতায় কিংবা পরিবেশের চরম বিপর্যয়েও একটি প্রাণি কোন প্রতিবাদ করতে পারে না। কিন্তু প্রাণির না বলতে পারা সব কষ্ট ও কথাগুলো অনুধাবন করা মানুষের দায়িত্ব। অসহায় প্রাণকে সাহায্য করার কথা প্রতিটি ধর্মেও উল্লেখ আছে। মনে রাখতে হবে, প্রাণির স্বাধীন বিচরণে স্বাভাবিক থাকে পরিবেশের ভারসাম্য। তাই প্রাণি রক্ষা মানে আমাদের সভ্যতা রক্ষা করা।

পরিবেশ ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণি রক্ষায় করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। আর জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংবাদ মাধ্যমগুলো হতে পারে অন্যতম হাতিয়ার।পাশাপাশি জেলা থেকে উপজেলা এমনকি গ্রাম পর্যায়ে শিক্ষিত যুব সমাজকে সাথে নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছি।আশা করছি দ্রুতই পরিবেশ প্রকৃতি নিয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকেই প্রতিরোধ গড়ে ওঠবে।আর আমাদের সংগঠন জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে এটি।প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমেরও উচিৎ প্রাণ ও প্রকৃতিকে প্রাধান্য দেয়া। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আরও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন সাংবাদিক হৃদয়।

 

প্রকৃতি ও সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন সারাবাংলাকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে এমনকি এ করোনার ঝুঁকির মধ্যেও সাংবাদিক হৃদয় দেবনাথ এর নেতৃত্বে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশন টিমের প্রতিটি সদস্য একের পর এক সফল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশের প্রতিটি কাজে আমরা বনবিভাগ সবসময় ছিলাম এবং আছি ।

Bootstrap Image Preview